ঢাকা, রবিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ২২ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ঈদ পরবর্তী সড়ক দুর্ঘটনা : সচেতনতা জরুরি

শাহনেওয়াজ শাহনেওয়াজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১০ ৩:১১:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১০ ৩:১১:২২ পিএম

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে নিজ আবাস ও কর্মস্থলে ফিরছেন মানুষ। ঈদের তিন দিনের বন্ধের সঙ্গে মিলিয়ে আরও কয়েকদিনের ছুটি শেষে এই ফেরার পালা। ঈদের পরদিন থেকেই ফিরছেন মানুষ কিন্তু মূল চাপ শুরু হয়েছে শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে। মানুষ ফিরছেন এ কারণে রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি, যা খুবই উদ্বেগজনক।     
 
প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে বড় দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জে ও টাঙ্গাইলে। গত শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর এলাকায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বাসাইল লিংক রোড এলাকায় ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয় জন নিহত ও আট জন আহত হন।
 
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার খুবই উদ্বেগজনক আর তা বেড়ে যায় ঈদ উৎসবের সময়। এবার পবিত্র ঈদুল আজহার পর সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রীতিমত চমকে ওঠার মত। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। তাদের অনেকে পঙ্গু হয়ে যাবেন, কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন এবং এদের দিনগুলো হয়ে উঠবে অভিশপ্ত। এটা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
 
সাধারণভাবে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সিংহভাগ দায় বর্তায় গাড়ির চালকদের ওপর। চালকরা সাবধান বা সতর্ক হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। কিন্তু চালকদের অনেকের মধ্যেই সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে গাড়ির মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও যথাযথ দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে সক্ষম হচ্ছে না- এ কথাও বলা যায়।

ঈদের সময় যানবাহনের চালক ও মালিকদের মধ্যে বাড়তি অর্থের লোভ কাজ করে। ফলে গাড়ি চালকরা গাড়ি নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছার পর কোন বিশ্রাম না নিয়েই খ্যাপ বা ট্রিপ মারেন। সময় বাঁচানোর জন্য তারা দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেন। বিশ্রামের অভাব, যাত্রীর চাপ, সড়কে গাড়ির চাপ, উচ্চ শব্দ, অতিরিক্ত গরম - ইত্যাদি মিলিয়ে চালক ও শ্রমিকরা মেজাজ ও মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলাফল দাঁড়ায় দুর্ঘটনা।
 
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পরিচালিত সড়ক ও যানবাহন সম্পর্কিত এক গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ৫৩ শতাংশই ঘটে গাড়ির দ্রুতগতির কারণে। আর চালকদের বেপরোয়া মানসিকতার কারণে ঘটে ৩৭ শতাংশ দুর্ঘটনা।
 
অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য সবার আগে প্রয়োজন চালকদের দায়িত্বশীল মানসিকতা ও সচেতনতা। একজন দায়িত্বশীল চালক ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি নিয়ে সহজে রাস্তায় নামবেন না। চালক দায়িত্বশীল হলে সড়কে গাড়ির গতি নিশ্চিতভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে।

চালকদের দায়িত্বশীল মানসিকতা গঠনে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আর ঈদ উৎসব পরবর্তী যাত্রীর এই চাপের সময়ে তাদের সতর্ক থাকার জন্য ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। সেইসঙ্গে সড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তৎপর থাকতে হবে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামিয়ে নিরাপদ চলাচলের জন্য সার্বিক সতর্কতা ও নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। আর দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের অবশ্যই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel