ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:
রোহিঙ্গা শরণার্থী

আশ্রয় ও ত্রাণ প্রদানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জরুরি

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৮ ৮:০৮:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১৮ ৮:১৭:০০ পিএম

রাখাইনে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের কারণে রোহিঙ্গারা পালিয়ে দলে দলে বাংলাদেশে চলে আসছে। এ অবস্থায় মানবিক কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে সরকার। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল নামার পর তাদের জন্য ত্রাণ ও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। এতে বিশ্ববাসীর আস্থা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই মর্যাদা ধরে রাখা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, কয়েক লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয়, ত্রাণ বিতরণ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে  বিশৃঙ্খলা চলছে। যে যেভাবে খুশি ত্রাণ নিয়ে সেখানে যাচ্ছে, ট্রাক থেকে ত্রাণের প্যাকেট ছুড়ে মারছে, হুড়াহুড়ি করে ত্রাণ নিতে গিয়ে অনেকে আহতও হচ্ছে। কিছু প্রতারক রোহিঙ্গাদের মূল্যবান সম্পদ লুটে নিচ্ছে। আবার এমন চিত্রও দেখা গেছে, একটি এলাকায় রোহিঙ্গারা একাধিকবার ত্রাণ পাচ্ছেন, কিন্তু অন্য এলাকায় তা একবারও তা পাচ্ছে না। তাই ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণে সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে। তা না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বেশ কঠিন হবে।

অবশ্য ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় শৃগ্ধখলা আনতে প্রশাসন নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ত্রাণ সেনাবাহিনী গ্রহণ করে যথাস্থানে পৌঁছে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও চালু করা হয়েছে বিশেষ ত্রাণ শাখা। সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণে ১২টি কেন্দ্র চালু করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তত্ত্বাবধানে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। রোহিঙ্গাদের জন্য অনেকে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন। তবে তা সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে করা হলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। সবাই যদি জেলা প্রশাসনের কাছে ত্রাণসামগ্রী জমা দেয়, তাহলে বিশৃঙ্খলা এড়ানো  সহজ হবে। ত্রাণ বিতরণে যাতে দুর্নীতি না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সহযোগিতার বিকল্প নেই।

আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ইতিমধ্যে মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন থেকে অবশ্য রোহিঙ্গাদের চলাচলের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তাদের কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরেই থাকার জন্য বলা হয়েছে। রোহিঙ্গারা কিভাবে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে গেল, কারা তাদের সেখানে নিল, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখতে হবে প্রশাসনকে।

দেশের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়া রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে যানবাহন চালকদের সতর্ক করা হয়েছে রোহিঙ্গাদের পরিবহন না করার জন। এছাড়া তাদের বাসা ভাড়া না দেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেননা, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলো তত্পরতা চালাতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট কাজে লাগিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠি যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সজাগ থাকতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ২৭টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া রোধ করার চেষ্টা করবে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তর ও নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে দ্রুত। দালাল, প্রতারক, উগ্রপন্থীদের রোহিঙ্গাদের সংস্পর্শে আসা বন্ধ করতে হবে। বাড়াতে হবে গোয়েন্দা নজরদারি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel