ঢাকা, রবিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ২২ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প ও প্রযুক্তি হাব

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৭ ৪:১২:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-২২ ১১:০২:৫৫ এএম

বাংলাদেশেই এখন তৈরি হবে স্মার্টফোন। আর এই ফোন তৈরি করবে দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য প্রস্তুত ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় দেশের প্রথম স্মার্টফোনের কারখানা উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এর মধ্য দিয়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় নাম লেখালো বাংলাদেশ যা দেশের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার।

ওয়ালটনের এই স্মার্টফোন তৈরির কারখানা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশে প্রযুক্তির বিকাশ ও সম্প্রসারণের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে এটি।  প্রাথমিকভাবে এ কারখানায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের সঙ্গে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের সংযোজন হবে। আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ হ্যান্ডসেট উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে এখানে উৎপাদন হবে বার্ষিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট।

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আজ  ছোট বড় সবার হাতেই স্মার্টফোন। বর্তমানে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও সাধারণ মানুষের হাতে স্মার্টফোন দেখা যায়। যদিও এর বেশিরভাগই আমদানিনির্ভর ও স্বল্পমূল্যের। আমাদের প্রত্যাশা দেশের বিপূলসংখ্যক মানুষের এই ফোনের চাহিদা মেটাবে ওয়ালটন। ওয়ালটনের কারখানায় তৈরি স্মার্টফোন পৌঁছে যাবে শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে মানুষের হাতে হাতে। তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের স্বার্থে এই কোম্পানিকে তাদের ব্র্যান্ডের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।

দেশে স্মার্টফোন তৈরি হলে দেশীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার শিল্পের বিকশিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। এতে লাভবান হবে সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সর্বোপরি দেশের মানুষ। এছাড়া দেশের বাইরে এই পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও তৈরি হবে। এতে তখন বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি ও সুনাম দুটোই বাড়বে। তবে পণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে যেন কোনো ছাড় দেওয়া না হয়।

এতদিন মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য বিদেশের উপর নির্ভর করতে হতো। ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ খাতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ মুখ থুবড়ে পড়ে ছিল। ওয়ালটন স্মার্টফোন কারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটল। ওয়ালটনের এ উদ্যোগের প্রতি আমাদের শুভকামনা। আমাদের প্রত্যাশা, ওয়ালটনের এ  উদ্যোগে দেশীয় প্রযুক্তির বাজারের আরো সম্প্রসারণ হবে এবং বাংলাদেশ হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প ও প্রযুক্তি হাব। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় এগিয়ে থাকবে ওয়ালটন স্মার্টফোন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ অক্টোবর ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel