ঢাকা, শনিবার, ৯ আষাঢ় ১৪২৫, ২৩ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
জালনোট তৈরি

জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১১ ৮:৩১:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-১৮ ১১:২৩:১৫ এএম

সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর।তাই রমজানের শেষ প্রান্তে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। রাজধানীর শপিং মলগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। পাশাপাশি ফুটপাতেও বেচা-কেনা হচ্ছে দেদার। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বেশ তৎপর হয়ে উঠছে জালনোটের ব্যবসায়ীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তৎপর হয়ে উঠেছে জালিয়াত চক্র। সাধারণত ঈদের সময় টাকার লেনদেন বেড়ে যায়। আর জাল নোট তৈরির চক্রটি এই সুযোগটিই গ্রহণ করে।দিনে দিনে এরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে শতাধিক জাল টাকার কারখানা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কারখানার সন্ধান মিলেছে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি ৩০টি জালিয়াত চক্র জাল টাকার পাশাপাশি বিদেশি জালনোট তৈরি করছে। চক্রটি ১০০, ৫০০ ও এক হাজার টাকার নোট তৈরির জন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গোপনে কারখানা গড়ে তুলছে। নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতারকরা কাজ করে থাকে। এসব স্থান থেকে সারা দেশে জালনোট ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কোটি টাকার জালনোটসহ এ চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ । জব্দ করা হয়েছে জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সুতা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, কাগজ ও কালি। তাদের কাছ থেকে যে জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে তা  বেশ নিখুঁত। ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ঈদ সামনে রেখে বাজারে পাঁচ কোটি টাকার জাল নোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল এ চক্রের। বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

মূলতঃ জাল টাকার কারবারীদের কেন্দ্র ঢাকা হলেও তাদের নেটওয়ার্ক সারা দেশে বিস্তৃত। প্রতিবছর জাল টাকা তৈরির চক্রের অনেকে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও জাল নোট তৈরি বন্ধ হচ্ছে না। আর ঈদের সময় জালনোট তৈরি চক্রের তৎরতা বেড়ে যায়। ইদের আগে বিভিন্ন মার্কেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয় জাল টাকা। এসব জাল নোটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাল নোট শনাক্তের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা প্রতারিত হন। অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথেও ঢুকে যায় জাল টাকা।

কিন্তু এই জাল নোট প্রতিরোধ করা না গেলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এ সংক্রান্ত আইন আরো কঠোর করা দরকার। জাল নোট ও আসল নোটের পার্থক্য সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই জালনোট শনাক্তকরণে সক্ষম নন। তাই আসল নোট ও জালনোটের পার্থক্য শনাক্তকরণের বিষয়গুলো জানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। অবশ্য আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশ করা হচ্ছে।

জালনোট তৈরির সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তারা দেশের শত্রু। এ সব অপরাধী দমনে সরকারকে কঠোর হতে হবে। এদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে এটিএম বুথগুলোতে যেন জালনোট আসতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। এটিএম মেশিনে টাকা ঢোকানোর আগে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিনে পরীক্ষা করতে হবে। শপিংমলগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণের মেশিন সরবরাহ এবং এর ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জুন ২০১৮/আলী নওশের

Walton Laptop
 
   
Walton AC