ঢাকা, সোমবার, ৬ কার্তিক ১৪২৫, ২২ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
জলবায়ু পরিবর্তন

দুর্যোগ থেকে রক্ষায় প্রয়োজন টেকসই কৌশল

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৬ ১০:৩১:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৬ ১০:৪২:৩৬ পিএম

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমগ্র বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই উষ্ণতা বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মেরুদেশের বরফ গলে বাড়ছে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা। অন্যদিকে অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি নানা দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে ব্যাপক হারে। খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।

সম্প্রতি বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে। ‘স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় বেশি হয়। এতে সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা মিঠা পানিতে জমা হচ্ছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বেশ আশঙ্কার। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোয় যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হয় সেখানে মানুষ পুষ্টিহীনতায়ও বেশি ভোগে। এছাড়া যেসব দেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশ কৃষিক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল সেসব দেশেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পুষ্টিহীনতা দেখা যায়। এতে আরো বলা হয়, খরার মতো দুর্যোগকেই আগে শুধু শস্য ধ্বংসের দুর্যোগ মনে করা হতো। কিন্তু অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টিকে কখনোই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার আঘাতে বাংলাদেশে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ধান উৎপাদন কম হলে প্রায়ই চালের দাম বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে লবণাক্ত পানি উপকূল পেরিয়ে আসে। হঠাৎ বন্যার কারণে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাছ। এ সবকিছু একই সঙ্গে হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত এবং সবাই অন্য কোথাও জীবিকার খোঁজ করতে পারে। দেখা দিতে পারে অনাহার এবং মৃত্যু। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে চাল, গম ইত্যাদি শস্য উৎপাদনের হার কমে গেছে। জলবায়ু পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

বস্তুতঃ এফএও- এর প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশ যে কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন তা তুলে ধরা হয়েছে। এ পরিস্থিতির মোকাবিলায় করণীয় বিষয় নিয়ে সরকার তরফে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে দেশের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের প্রিয় এই মাতৃভূমিকে মারাত্মক হুমকির দিকে ঠেলে দিয়েছে। অর্জিত কৃতিত্ব ম্লান হতে চলেছে।

সুজলা-সুফলা আমাদের এই দেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় নীতি নির্ধারকদের টেকসই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বনায়ন গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমুদ্রের লবণাক্ত পানি যাতে কুল ছাপিয়ে মিঠা পানিতে মিশতে না পারে সেজন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষিজীবীরা কিভাবে খাপ খাওয়াতে পারেন সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। 



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Walton