ঢাকা, বুধবার, ৪ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
গ্রেনেড হামলার রায়

হত্যা-ষড়যন্ত্রের রাজনীতির অবসানে ভূমিকা রাখবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১১ ৯:৪৩:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-১৫ ১১:০২:১৫ পিএম

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ১৪ বছর পর বুধবার নারকীয় সেই গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার অপর ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা জাতিকে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেদিনের হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়।

২০০৪ সালের সেদিনের ঘটনা মনে পড়লে আজও শিউরে ইঠতে হয়। মানুষ এত নৃশংস হতে পারে! ওই হামলায় আহত অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন এতোদিন। আসলে শুধু তারা নয়, পুরো জাতিই নারকীয় সে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের অপেক্ষা করেছে। হামলার ১৪ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশবাসীর অপেক্ষার অবসান ঘটল। যদিও আরো আগেই এ মামলার রায় হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি নানা ষড়যন্ত্র ও কূটচালের কারণে।

বিগত চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে এ মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে অনেক তথ্য। জজ মিয়া নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে সাজানো ও মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে ঘটনার প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য উল্টো দায়ী করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকেই। গ্রেনেড হামলার পরপর হামলার তথ্য-উপাত্ত লোপাট করতে তৎপর ছিল সে সময়কার সরকার। তবে সব চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে আইনানুগ বিচারের মধ্য দিয়েই জাতির আরেকটা কলঙ্কের মোচন হলো।

ভয়াবহ সেই গ্রেনেড হামলার আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, দেশবাসীর সামনে তা উদঘাটিত হওয়া জরুরি ছিল। দেরিতে হলেও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে এ হামলার পরিকল্পনাকারী কারা ছিল এবং কারা অংশ নিয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলার ন্যায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচারও আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে হয়েছে এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের ধন্যবাদ প্রাপ্য। সরকার যে আইনানুগ বিচারিক পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে এবং কার্যকর করেছে, সে জন্য অবশ্যই সরকারের প্রশংসা করব আমরা ।

আর এই রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন- রাজনীতিতে অবশ্যই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধীদলকে নেতৃত্বশূন্য করার অপপ্রয়াস চালানো হবে? এটা কাম্য নয়। বিচারক আরো বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধীদলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলের নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহি:প্রকাশ নয়।

বস্তুতঃ রাজনীতিতে পরমত সহিষ্ণুতা অপরিহার্য। এটিই হওয়া উচিত রাজনীতির নীতি। বিচারকের ন্যায় আমরাও মনে করি গণতন্ত্রের স্বার্থেই আমাদের রাজনীতি থেকে দূর করতে হবে সব অপশক্তি ও অপচিন্তা। আমাদের প্রত্যাশা হত্যা-ষড়যন্ত্রের রাজনীতির অবসান ঘটাতে ভূমিকা রাখবে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার রায়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ অক্টোবর ২০১৮/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC