ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২৫ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রক্ষা করতে হবে মাতৃভাষার মান

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-২১ ৮:০৩:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-২১ ৮:০৩:০৫ এএম
Walton AC 10% Discount

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। জাতীয় শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশের জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে রক্ত দিয়েছেন সালাম, জব্বার, বরকত, রফিক, শফিক ও নাম না জানা অনেকে। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আমরা স্মরণ করি ভাষা আন্দোলনের সেই সব শহীদকে। তবে শুধু আমরা নই, সারা বিশ্বই আজকের দিনটিকে পালন করবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। স্মরণ করবে, শ্রদ্ধা জানাবে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

‘একুশ মানে মাথা নত না করা’- চিরকালের এ স্লোগান আজও সমহিমায় ভাস্বর। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ। ভাষার প্রশ্নে একুশের আন্দোলন হলেও প্রকৃত প্রস্তাবে তা ছিল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ। একুশের আন্দোলনেই ঘটে বাঙালির আত্মবিকাশ, যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে এসেছে মহান স্বাধীনতা। একুশ তাই বাঙালির চেতনার প্রতীক। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আত্মনিবেদনের এই দিনটি আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে।

একুশে ফেব্রুয়ারির যে চেতনা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে সাহায্য করেছে, সেই দিনটিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বুকে ধারণ করতে হবে। ভাষার মাস নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি অন্য রকম আবেগ কাজ করে। ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা! তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা!’ কবির এ অমিয় বাণী বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয়ের কথা। অতুল প্রসাদ সেনের কালজয়ী এ গান মিশে আছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে।

মাতৃভাষার জন্য বাংলার অসমসাহসী তরুণদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এদিন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এখন বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয়। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে সেই অমর শহীদদের, যাঁরা ভাষার জন্য তাঁদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

ভাষা ছাড়া জ্ঞানচর্চা পূর্ণতা পায় না। দুঃখজনক হলেও সত্য, মাতৃভাষার চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার পুরোপুরি হচ্ছে না। কিন্তু সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রচলন ব্যতীত একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাপান শিক্ষার সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রচলন করে মাত্র দুই দশকের মধ্যে শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। জাপান এখন বিশ্বের সেরা পাঁচটি ধনী দেশের মধ্যে অন্যতম। মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করে একইভাবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া আজ পৃথিবীতে মর্যাদাসম্পন্ন দেশ।

বিশ্বে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য আত্মাহুতি দেওয়ার ঘটনা বিরল। এ জন্য জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। সেই গর্ব ও অহংকার নিয়ে বাংলা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রচলন করতে হবে। রক্ষা করতে হবে মাতৃভাষার মান। এর মধ্য দিয়ে ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে সুমহান মর্যাদার আসনে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে এ বোধ জেগে উঠুক আমাদের সবার মধ্যে- এই প্রত্যাশা আমাদের।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge