ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৭ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সড়কে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করুন

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১১ ১:১৬:৫৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১১ ১:১৭:৩৯ পিএম
Walton AC 10% Discount

এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৬ জন নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি গত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। যদিও এবার দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল কম। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত বছর ঈদের চার দিনে ৪৯ জন এবং এবার ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, এবার ঈদে গতবারের তুলনায় দুর্ঘটনা কম, কিন্তু মৃত্যুর পরিমাণ বেশি। মূলতঃ ইজিবাইক-সিএনজি অটোরিকশার কারণেই দুর্ঘটনা বেশি।

তবে বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির ঈদ যাতায়াত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকে ৯ জুন রোববার পর্যন্ত ১১ দিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের আগে ৩ জুন সোমবার শেষ কর্মদিবস থাকলেও এর আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক এবং রোববার শবে কদরের ছুটি ছিল। এ কারণে ঈদপূর্ব সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যত ঈদযাত্রা শুরু হয়। আর এই ১১ দিনে সড়েকে ঝরেছে ১৪২ প্রাণ। এর মধ্যে ঈদের দিনই ১৬ দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে এবার ঈদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যানজট কম থাকায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সব ক্ষেত্রে সেটি হয়নি সড়কে দুর্ঘটনায় বিপুলসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনায়। দুর্ঘটনা রোধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং ত্রুটিযুক্ত যানবাহন। এখন যে প্রশ্নটি সামনে আসে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে নামার সুযোগ পায় কীভাবে?

অভিযোগ রয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারণে কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও পরবর্তীতে ওই যানবাহন আবার সড়কে নামছে। ঈদের সময় যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় যানবাহনের সংখ্যাও অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু সড়কে চলাচল করা এসব যানবাহনের কত ভাগের ফিটনেস সনদ ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এ সময় অনেক অবৈধ লাইসেন্সধারী চালকও সড়কে গাড়ি নিয়ে নামছে বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু কীভাবে তারা রাস্তায় নামছে সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখতে হবে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ কম গতির যানবাহন চলাচল। লেগুনা ও অটোরিকশার মতো হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ঈদের সময় যাত্রীর চাপ থাকায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সড়কের বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব নয়। ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ উদ্ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করব, এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমাদের প্রত্যাশা শুধু ঈদের সময় নয়, সবসময়ই নিরাপদ হোক আমাদের সড়কযাত্রা।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জুন ২০১৯/এনএ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge