ঢাকা, সোমবার, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ২২ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ঢাবিতে ৩৫ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন : লিমন

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৪ ৩:৫৯:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-২৪ ৩:৫৯:০৪ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্মসূচিতে না যাওয়ায় ও গেস্ট রুমে দেরি করে উপস্থিত হওয়ায় মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন।

তিনি বলেন, রমজান মাসে হলে প্রথম বর্ষের ৩৫ জন শিক্ষার্থীই নেই। এতজনকে মারধর করার তো প্রশ্নই আসে না। এ নিউজটি ছিল সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মী ও হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের কথা হয়। প্রথম বর্ষের সাগর, শাহরিয়ার, সোলাইমান জানান, গতকাল রাত ১১টার দিকে আমাদেরকে ২০৮ নাম্বার গেস্ট রুমে ডাকা হয়। আমরা সবাই (১৫-২০ জন) ১১টার মধ্যে গেস্টরুমে উপস্থিত হলেও মোসাদ্দেক (প্রথম বর্ষ, সাংবাদিকতা বিভাগ) আসতে কিছু দেরি হয়। তখন বড় ভাইয়েরা তার বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে সে উচ্চবাচ্য করে। এক পর্যায়ে দ্বিতীয় বর্ষের স্মরণ ও মুনতাসির তাকে মারতে গেলে দ্বিতীয় বর্ষের অন্য ভাইয়েরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যান। আমাদের উপস্থিতিতে কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের ২০৮ নাম্বার গেস্ট রুমে ডাকেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে মুনতাসির ও স্মরণকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হলের সাধারণ সম্পাদক লিমন।

হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন বলেন, হলের ক্যান্টিনের খাবারের কী অবস্থা, রমজানে কতজন বাড়ি গেছে, কতজন আছে, কে কখন বাড়ি যাবে এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য প্রথম বর্ষের ছোট ভাইদের রুমে ডাকা হয়। কিন্তু মোসাদ্দেক নির্দিষ্ট সময়ে আসতে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে খারাপ ব্যবহার করে আমাদের সাথে। পরে তাকে ধমক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়নি।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করে আমাদের গেস্ট রুমে ডাকা হয়। আমি ব্যক্তিগত কাজে হলের বাইরে ছিলাম। সেজন্য আসতে দুই-এক মিনিট দেরি হয়েছে। পরে তারা আমার কাছে কারণ জানতে চাইলে আমি বলি। তবুও তারা আমাকে চর, থাপ্পড় মেরেছে এবং উপস্থিত বাকিদেরও মেরেছে।

হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন বলেন, যারা নিউজ করেছে তারা আমার বক্তব্য নিয়ে নিউজ করেনি। বলা হয়েছে, আমি নাকি ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রলীগ কর্মী থাপ্পড় দিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। আমি সাথে সাথে তাকে হল থেকে বের করে দিয়েছি। প্রয়োজনে তদন্ত করে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেব। কিন্তু মিথ্যাভাবে এতগুলো শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়ে গুজব রটনার আমি নিন্দা জানাচ্ছি।

ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে, এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসূচিতে যাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো সমস্যা হয়নি। আপনারা চাইলে প্রথম বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বলেন, আমাদের কর্মসূচির বিষয়ে ডাকা হয়নি। মূলত আমাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মে ২০১৮/ইয়ামিন/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton