ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৪ মে ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

জিল্যান্ডিয়া: পৃথিবীর লুকানো মহাদেশ!

রাসেল কবির : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৮ ১২:৪১:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৮ ১২:৫৯:৪৩ পিএম
Walton AC

রাসেল কবির : একটি গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়া পূর্বপার্শ্বে  ‘জিল্যান্ডিয়া’ নামের একটি নতুন মহাদেশ শণাক্ত করেছে। যদি এটি নিশ্চিত হয়, তবে ৪.৯ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার (১.৮৯ মিলিয়ন বর্গ মাইল) আয়তনের জিল্যান্ডিয়া হবে পৃথিবীর অষ্টম এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরে বেশিরভাগ নিমজ্জিত জমির একটি অঞ্চল এবং তার উপকূল জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্য শত শত বিলিয়ান ডলার হতে পারে।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, জিল্যান্ডিয়া অস্ট্রেলিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসে এবং ৬০-৮৫ মিলিয়ন বছর আগে ডুবে যাওয়া এই মহাদেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের তলায়। নিউজিল্যান্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরের আরো একটি দ্বীপ রাষ্ট্র ফরাসি উপনিবেশ নিউ ক্যালেডোনিয়া, উভয়ের মাঝে এই মহাদেশটির অবস্থান। সবগুলো মহাদেশের মধ্যে এই নতুন মহাদেশটি হবে ক্ষুদ্রতম, পাতলা এবং সবচেয়ে নিমজ্জিত।

আপাতদৃশ্যে জিল্যান্ডিয়াকে বৃহৎ, সমন্বিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যার অর্থ এর মহাদেশ অবস্থা দাবী করতে পারে না। কিন্তু স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং সমুদ্র তলের মাধ্যাকর্ষণ মানচিত্র ব্যবহার করে সম্প্রতি জিল্যান্ডিয়ার একটি সমন্বিত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই ভিত্তিতে ভূতাত্ত্বিকগণ জিল্যান্ডিয়াকে মহাদেশ হিসেবে দাবি করছেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ১১ জন ভূতাত্ত্বিকের দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল এই যে, জিল্যান্ডিয়াকে একটি মহাদেশ বিবেচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় চারটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। অন্যসকল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এর ভূখন্ডের উচ্চতা মহাসাগরীয় ভূত্বকের তুলনায় উচ্চে অবস্থিত, তাছাড়া এর বৈচিত্র্যময় ভূখন্ডে আগ্নেয়, রূপান্তরিত ও পাললিক শিলার উপস্থিতি একে মহাদেশ হিসেবে বিবেচনায় শক্ত অবস্থানে রেখেছে।

জিল্যান্ডিয়ার ভূত্বক, পার্শ্ববর্তী সমুদ্রতলের চেয়ে পুরু, কম ঘন এবং এর এলাকা পর্যাপ্ত যাতে একে মাইক্রো মহাদেশ থেকে আলাদা করেছে।

উল্লেখ্য, জিল্যান্ডিয়া শব্দটি প্রথম ১৯৯৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূপদার্থবিদ্যা অধ্যাপক ব্রুস লুয়েন্ডিক উদ্ভাবন করেন। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় নিযুক্ত ১১ জনই আন্তর্জাতিকভাবে এ শ্রেণির ভূত্বাত্তিক এবং তারা জিল্যান্ডিয়া এর পক্ষে সত্যিই পুঙ্খানুপুঙ্খ সঠিক প্রমাণ সংগ্রহ করবেন। এটা একটি আকস্মিক আবিষ্কার না বরং এটা ছিল ক্রমান্বয়িত উপলব্ধি।’

এছাড়া ২০০৭-এ প্রকাশিত হওয়া ‘ইন সার্চ অব এন্সিয়েন্ট নিউজিল্যান্ড’ শীর্ষক বইয়ে নতুন এই মহাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন বইটির লেখক তথা গবেষণায় অংশগ্রহণকারী হামিশ ক্যাম্পবেল। তিনি জানান, ‘আগে পুরো জিল্যান্ডিয়া মহাদেশটাই জলের তলায় ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে প্লেট মুভমেন্ট-এর ফলে জলের ওপরে উঠে আসে নিউজিল্যান্ড।’

নিউজিল্যান্ডের ভূবিজ্ঞান সংস্থার করা ‘জিল্যান্ডিয়া: আর্থ’স হিডেন কন্টিনেন্ট’ নামক এই গবেষণায় জানা গেছে যে, জলের তলায় মহাদেশীয় ভূত্বক প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দুটি দ্বীপকে জুড়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার থেকে একদমই আলাদা এই জিল্যান্ডিয়া মহাদেশ। এর প্লাবিত অখণ্ডতা মহাদেশীয় ভূখণ্ড সংযোগ এবং বিচ্ছিন্নকরণ সম্পর্কীয় ভূতাত্ত্বিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার উদ্রেককারী। গবেষণার পুরো রিপোর্টটি প্রকাশিত হলে অনেক তথ্য জানা যাবে।

কালের আবর্তে পৃথিবী কি আরেকটি নতুন মহাদেশ পাবে নাকি শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্পদে পরিপূর্ণ নিমজ্জিত মহাদেশটি জেগে উঠার পূর্বেই খন্ড খন্ড করে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষারত বিশ্ববাসী।

তথ্যসূত্র: ডেইলি মেইল

 

 

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge