ঢাকা, বুধবার, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

আমরা কেউ কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দেইনি: কল্যাণ

কল্যাণ কোরাইয়া : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৪ ৮:০৭:১১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-২০ ৬:৪০:১০ পিএম

কল্যাণ কোরাইয়া : আমার বাবা আর গ্রেইসের বাবা ছোটবেলার বন্ধু। কর্মজীবনেও সহকর্মী ছিলেন। তাই পারিবারিকভাবে একটা পরিচয় ছিল। তা ছাড়া একই এলাকায় বসবাস করতাম। কিন্তু আমি কাজে ব্যস্ত থাকতাম এ কারণে ওদের পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ কম হতো। তবে গ্রেইস আমার কাজ দেখতো এবং ফলোআপ করত।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেইসের সঙ্গে আমার দেখা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ওখানে বিভিন্ন দিবস উদযাপন করে। খ্রিস্টান কমিউনিটিদেরও একটা যোগাযোগ নিয়মিত হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনেক বাঙালি বাস করেন। ওখানে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমি যোগ দিয়েছিলাম, সেখানে গ্রেইসের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। যদিও ছোটবেলায় গ্রেইসকে দেখেছি কিন্তু ওভাবে খেয়াল নেই।  আসলে তখন তো জানতাম না ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক হবে। যাই হোক, প্রথম দেখা হয় ওই অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল একটি কমিউনিটি সেন্টারে। প্রবাসী অনেক বাঙালি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। আমার অনেক আত্মীয়-স্বজন ছিলেন। আর আমিও বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানে হাজির হয়েছিলাম। তারপর সেখানে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ওর বাবা-মাকেও চিনতে পারি। বলতে পারেন- ওখানেই গ্রেইসের সঙ্গে আমার প্রথম কথা।

সেবার যুক্তরাষ্ট্রে ১৫-২০ দিন ছিলাম। এ সময় দুই থেকে তিনবার আমাদের দেখা হয়। কিন্তু এ দেখা হওয়াটা অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ কমন গ্যাদারিংয়ে আমাদের সাক্ষাৎ। এভাবে দেখা হওয়াতে আমাদের মাঝে এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর মেসেজ ও ফোনে টুকটাক কথা হতো- তাও শুধু কুশল বিনিময়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে থাকাবস্থায় শুধু আমরা দুজন একসঙ্গে ঘুরব, একান্তে সময় কাটাব কিংবা ভালো লাগার কথা বলব এমন পরিস্থিতি তখনো তৈরি হয়নি। এরপর আমি দেশে চলে আসি। দেশে আসার পর ফেসবুকে টুকটাক যোগাযোগ- কেমন আছি, কাজ কেমন চলছে এসব। সময়ের সঙ্গে বন্ধুত্বটা আরো ভালো হতে থাকে। এই বন্ধুত্বই এক সময় ভালোলাগা ও ভালোবাসায় রূপ নেয়।

২০১৬ সালে আমি আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাই। এ সময় আবার গ্রেইসের সঙ্গে দেখা করি। এ যাত্রায় নিজেদের মতো করে কথা বলার সুযোগ হয়। তাই বলে কেউ কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দেইনি। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতেই আমাদের প্রপোজের বিষয়টি হয়ে যায়। ভালোলাগার জায়গাটা কথা বলতে বলতেই তৈরি হয়। সরাসরি দেখা করার সুযোগ খুব কম থাকায় ফোনে ফোনেই কথা চলত। ভাব-বিনিময় হতো। 

এরপর দুজনে মিলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। গ্রেইস বলল, তা হলে বাসায় কথা বলে দেখ কী হয়! ও ওর বাসায় জানায়, আমিও আমার বাসায় জানাই। বাসায় জানানোর পর বাসা থেকে বলল, ঠিক আছে- সময় নিয়ে তোমরা নিজেরা নিজেদের জেনে নাও। এরপর দুই পরিবার থেকেই ইতিবাচক সাড়া পাই এবং আলোচনার মাধ্যমে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের দিন চূড়ান্ত করা হয়। আমাদের পরস্পরকে জেনে নেয়ার যে সময়টা পরিবার থেকে দেয়া হয়েছিল, এই সময়গুলো চমৎকার কেটেছিল। যা সত্যি মনে রাখার মতো।

গ্রেইসের বাসায় বিয়ের বিষয়ে প্রথম যেদিন কথা বলতে যাই, সেই দিনটি আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ আমি একা গিয়েছিলাম। বাবা-মা বাংলাদেশে ছিলেন। তাদের আবার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া অনেক ঝামেলার বিষয় ছিল। তাই বাধ্য হয়ে প্রবাসী কয়েকজন আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়েছিল। যদিও আমার বাবা-মা ফোনে গ্রেইসের বাবা-মায়ের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করেছিলেন। তবু আমার জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং ছিল।

লং ডিসটেন্সের একটি সম্পর্ক মেইনটেইন করা কঠিন। এ ধরনের সম্পর্কে গভীর বিশ্বাস, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ বিষয়গুলো খুব প্রয়োজন। কারণ আমরা কেউ কাউকে দেখতে পাচ্ছি না, কেউ কারো বর্তমান অবস্থা দেখাতেও পারছি না। অনেকটা যোগাযোগের বাইরে বলা য়ায়। ভালো আছি না মন্দ আছি তার সবটুকু শুধু ফোনের মাধ্যমে বিনিময় করতে হয়। এক্ষেত্রে বোঝাপড়ার বিষয়টি ভালো হলে সম্পর্ক ঠিক রাখা সম্ভব হয়। আর আমরা সেটা প্রায় দুই বছরের মতো করেছি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের খুব এটা টানাপোড়েনে পড়তে হয়নি। কারণ আমাদের দেশেও ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন সার্ভিস বেশ ভালো তাই যোগাযোগ করাটা সম্ভব হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে শুটিংয়ের কাজে অনেক রিমোর্ট এরিয়াতে যেতে হয়। তখন যোগাযোগের উপায় থাকে না। কিছুটা চিন্তা হয়, হয়তো মাঝে মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টিও হয়- নেটওয়ার্ক কাজ না করায় এ ধরনের অবস্থা দু’একবার তৈরিও হয়েছে। তবে সেটা রাগ নয় অভিমান। এ অভিমান কালো মেঘের মতো সূর্যকে ঢেকে দেয় কিন্তু পরক্ষণেই উজ্জ্বল আলো হয়ে ফিরে আসে। আমাদেরও তাই হয়েছে।

ঈশ্বরের আশীর্বাদে দাম্পত্যজীবনে আমরা এখন অনেক ভালো আছি। সবকিছু ভালোভাবেই যাচ্ছে। সিঙ্গেল লাইফের চেয়ে ডাবল লাইফে দায়িত্ব অনেক বেশি। আগে বাবা-মা, ভাইবোন একটি একটি ছিল, এখন দুটি বাবা-মা, দুটি ভাইবোন- সবকিছু ডাবল। দুটি পরিবার এখন মেইনটেইন করতে হচ্ছে- তাই দায়িত্বও বেড়ে গেছে। পরবর্তী জীবনের জন্য এখন নিজেদের গুছাতে হবে, জীবনকে আরো সুন্দরের দিকে নিয়ে যেতে হবে।

অনুলিখন : আমিনুল ইসলাম শান্ত



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/শান্ত

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC