ঢাকা, বুধবার, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

অমিতাভ রেখার যে প্রেম পায়নি পরিণতি

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৪ ৮:২৮:১৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-১৫ ১২:৩৭:৪৯ পিএম

শাহিদুল ইসলাম : শোবিজ অঙ্গনে প্রেম-ভালোবাসা  স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এক্ষেত্রে বলিউডের অভিনয় শিল্পীরা যেন এক ধাপ এগিয়ে। তাদের রুপালি পর্দার প্রেম কখন যে পর্দা ছাপিয় বাস্তব হয়ে ওঠে বলা কঠিন। অজান্তে জলোচ্ছ্বাসের মতো আসা এই প্রেম হঠাৎ করেই আবার মিলিয়ে যায়। সিনেমার মতো পরিণতি মেলে না সেই কাহিনির। ভালোবাসা দিবসে আমারা চোখ রাখব বলিউডের সেইসব বিখ্যাত প্রেমকাহিনির দিকে।

অমিতাভ-রেখা। বলিউডের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক জুটি। সিনেমার রুপালি পর্দায় এই জুটির সোনালি দিন পেরিয়ে গেছে বহু আগেই। কিন্তু তাদের সেই চিরকালীন আবেদন আজও মলিন হয়নি। ‘দো আনজানে’ (১৯৭৬) দিয়ে তাদের রুপালি পর্দার রসায়ন শুরু, আর ‘সিলসিলা’ (১৯৮২) দিয়ে শেষ। মাঝখানের এই ছয়টি বছর এই জুটি একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন দর্শকদের। এরই মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এই জুটির মধ্যে স্রেফ সহকর্মীসুলভ সম্পর্ক নয়, তারও বেশি কিছু রয়েছে। ফলে তাদের সিনেমা নিয়ে যতটা না আলোচনা হয়েছে তার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তাদের প্রেমকাহিনি।  

‘দো আনজানে’ সিনেমাটি করার সময় দু’জনের মধ্যে ভিন্ন সম্পর্কের শুরু। যদিও তখন জয়া ভাদুরি অমিতাভের স্ত্রী। জনশ্রুতি রয়েছে ‘আলাপ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় রেখার বান্ধবীর একটি বাংলোয় নিয়মিত দেখা হতো দু’জনার। এছাড়া ‘কুলি’ সিনেমার শুটিং চলাকালে মারাত্মক আহত হয়ে অমিতাভ হাসপাতালে ভর্তি হলে রেখা নাকি সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন। সারাদিন নাকি সেখানেই বসে ছিলেন। চিকিৎসকদের বলেছিলেন যত রক্ত লাগে আমার শরীর থেকে নিন, অমিতাভকে সুস্থ করে তুলুন। তবে এসব বিষয়ে অমিতাভ বা রেখা দুজনই বরাবরই নীরব থেকেছেন। মিডিয়া বরং বিভিন্ন সময় নিজস্ব প্রণোদনায় তাদের নিয়ে মুখোরোচক গল্প ছেপে বাজার গরম করেছে।
 


তবে এই প্রেম কাহিনিতে বিচ্ছেদের সুর বেজে ওঠে নব্বই দশকের গোড়ার দিকে যা সিনেমাপ্রেমী মানুষের কাছে আজও আলোচনার বিষয়। ১৯৮২ সালে মুক্তি পায় যশ চোপড়ার সুপার হিট সিনেমা ‘সিলসিলা। অমিতাভ, রেখা ও জয়া বচ্চন অভিনীত ত্রিভুজ প্রেমের এ সিনেমায় অমিতাভ-রেখার সম্পর্কের যে রসায়ন দেখা গেছে, তা যে আসলে দুজনের মধ্যেকার গভীর প্রেমেরই বাস্তব প্রতিফলন তা ভক্তদের দৃষ্টি এড়ায়নি। এরপর থেকে আর কোনো সিনেমাতেই একসঙ্গে দেখা যায়নি এই জুটিকে। এমন কী হয়েছিল যে, এই দুই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে গেল এক ঝটকায়? অমিতাভ অবশ্য চিরকালই নীরব থেকেছেন এই ব্যাপারে। তবে নীরবতা ভেঙ্গেছেন রুপালি পর্দার চিরযুবতী রেখা। ইয়াসের উসমানের লেখা ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ গ্রন্থে তিনি জানিয়েছেন, হঠাৎ একদিন অমিতাভের কাছ থেকে বার্তা আসে, আর নয়। আর কোনো সিনেমাতে তিনি ও রেখা একত্র হবেন না। কেন এমন সিদ্ধান্ত, প্রশ্ন অবশ্যই করেছিলেন রেখা। কিন্তু অমিতাভের উত্তর ছিল- না, এ বিষয়ে কোনো শব্দ তিনি উচ্চারণ করতে চান না।  
 


আশির দশকে সিনেমা অঙ্গনের সবচেয়ে বড় গল্প ছিল বলিউড দুনিয়ার রাজা-রানি অমিতাভ আর রেখার অসমাপ্ত প্রণয়োপাখ্যান। কখনোই পাদপ্রদীপের আলোয় না আসা সেই প্রেমকাহিনি আজও রহস্যই থেকে গেছে অসংখ্য ভক্তের মনে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/মারুফ/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC