ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২৫ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মা অভিমান করে বেশি দিন থাকতে পারেননি : অপু

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৩ ১১:১৫:৩৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-১৩ ৩:৩৮:৪১ পিএম
Walton AC 10% Discount

অপু বিশ্বাস : ‘মা’ শব্দটি অনেক ছোট কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে ভালোলাগার ডাক এটি। আমি একজনকে ‘মা’ ডাকি এখন আমি একজনের মা। মানুষ তার জীবনে এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন না। আমি যেমন আমার মায়ের কাছে আবদার করতাম- মা এটা লাগবে ওটা দিতে হবে ইত্যাদি। ‘মা’ সব সময় সন্তানকে খুশি রাখতে চেষ্টা করেন। যত দুঃখ কষ্টেই মা থাকুক না কেন সন্তানকে ঠিকই হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করেন। এখন এটা আমি অনুভূব করি। আমি জীবন যুদ্ধে যতটাই কষ্টে থাকি না কেন, আমার সন্তানকে সুখী রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আজ আমি চলচ্চিত্র শিল্পী। দেশের মানুষ আমাকে চিনেন। এই পরিচিতি পাওয়ার পেছনে স্বাভাবিকভাবেই বলতে পারি আমার পরিচালক, প্রযোজকের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তাদের আগে আমার মা ভূমিকা রেখেছেন। যখন সিনেমায় কাজের প্রস্তাব আসে তখন আমার বাবা কিছুতেই চলচ্চিত্রে কাজ করতে দিবেন না। কিন্তু ‘মা’ কৌশলে বাবাকে বুঝিয়ে রাজি করিয়েছিলেন। এজন্য বলব সেদিন বাবাকে রাজি না করাতে পারলে কোনো দিনই আমার সিনেমায় কাজ করা হতো না। আর নায়িকাও হয়ে উঠতে পারতাম না। আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের পেছনে মায়ের ভূমিকা ছিল। মায়ের সাপোর্ট না পেলে এ পর্যন্ত আসা সম্ভব ছিল না।

একদিন মা অনেক অসুস্থ। সেদিনও মা আমাকে নিয়ে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মা আমাকে বলেননি তিনি অসুস্থ। পরে আমি বিষয়টি জানতে পারি।

আমি পোশাকের দিক থেকে একটু বাজ বিচার করে থাকি। ২০০২ সালে এক পূজোয় আমাদের বোনদের জন্য বাবা পাঁচ হাজার করে টাকা মাকে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুই তিনটা ড্রেস কিনতে হবে। মার্কেটে গিয়ে আমি একটি ড্রেস পছন্দ করি। সেটার দাম আট হাজার টাকা ছিল। মা আমাকে কিছু না বলে ড্রেসটা কিনে দিয়েছিলেন। বাসায় এসে বুঝতে পারি মা তার শাড়ি কেনার টাকাটা দিয়ে আমার পছন্দের ড্রেসটি কিনে দিয়েছেন। এই যে মা নিজে না কিনে সন্তানকে খুশিকে করেন- এমন কাজ মা প্রতিনিয়ত করতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে আমাদের বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবারের কেউ-ই মানতে চাননি। এমনকি মাও চাননি। কিন্তু মা অভিমান করে বেশি দিন থাকতে পারেননি। আমার সুখের জন্য মা রাজি হয়ে যান। এরপর আমাদের পরিবারের অন্যদের তিনি স্বাভাবিক করেন। একটা কথাই বলব, মায়ের কোনো সংজ্ঞা হয় না, কোন উদাহরণ হয় না। মায়ের তুলনা শুধুই মা।

২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো লাগার দিন ছিল। এই দিনের মতো আনন্দ আমি আর কোনোদিন পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। এই দিন সৃষ্টিকর্তা আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি উপহার দিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার এই উপহার হলো আব্রাহাম খান জয়। আমার সন্তান। এদিন আমি মা হয়েছি। আমার সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে এখন আমার ভাবনা চলে আসছে। এখন সন্তানের কথা চিন্তা করেই কাজ করছি। আমার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারাটাই এখন আমার কঠিন পরীক্ষা।

আমি আর আমার ছেলে একই সঙ্গে ঘুমাই। সিজারিয়ান বেবি বলে আমার রুমটা ফ্রিজিং করে ঘুমাতে হয়। একটা সময় দেখা যায় ওর ঠান্ডা লেগে যায়। রাতে কখনো কখনো দেখি মাথা গুজে হাতটা সামনে দিয়ে ঘুমিয়ে আছে জয়। এটা দেখে আমার মা, আমার কাজিনরা বলেন, ‘অপুর বাবুটা ঢং করে ঘুমিয়ে আছে।’ কিন্তু আমি বুঝি বাবুর ঠান্ডা লাগছে। ওর যখনই ঠান্ডা লাগে তখনই এভাবে ঘুমায়। এটা আমি মা বলেই বুঝতে পারি। মা দিবসে সবার কাছে আমার লক্ষ্মী ছেলেটা আর আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই।

অনুলিখন : রাহাত সাইফুল

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ মে ২০১৮/রাহাত/শান্ত

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge