ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৬ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৮ ১০:৪১:৫৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২১ ৭:৩৬:৪৩ পিএম

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সকালে সেখানে তাপমাত্রা ছিল মাত্র ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। তীব্র শীতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকাল ৬টায় পঞ্চগড় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশে এর আগে এত কম তাপমাত্রার কোনো রেকর্ড নেই। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৈয়দপুর ও ডিমলায় আজ তাপমাত্রা যথাক্রমে ২,৯ ও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ এখনো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। আরো দুই-এক দিন এমন পরিস্থিতি থাকবে, তারপর শৈত্যপ্রবাহ কমতে শুরু করবে।

এদিকে, গত কয়েকদিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ রয়েছে সবচেয়ে কষ্টে। শৈত্যপ্রবাহ সেখানে জেঁকে বসেছে। তীব্র শীতে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রাজশাহী, রংপুরে অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে মানুষ। ইতোমধ্যে ঠান্ডা ও ঠান্ডাজনিত রোগে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এসব অঞ্চলে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকালের দিকে ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। বেলা ১১টা পর্যন্ত রাস্তা-ঘাট ফাঁকাই দেখা যাচ্ছে। স্কুল-কলেজেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। জনজীবনে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হিমালয়ঘেঁষা পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায়। সব মিলিয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক মানুষ।

প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বেশিভাগ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলছেন না। দুপুরে কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও বিকেল হতেই বন্ধ করে বাড়িতে ঢুকছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঠান্ডার কারণে সন্ধ্যার পরপরই শহর জনশূন্য হয়ে পড়ছে। চলতি শৈত্যপ্রবাহ আর ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাড়ির হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছে না ঢাকাগামী দূরপাল্লার যানবাহন। পাঁচ হতে ছয় ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করছে ট্রেনগুলো।

গরিব মানুষেরা গরম কাপড় কিনতে না পেরে খরকুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা ভিড় জমাচ্ছেন পুরাতন কাপড়ের মার্কেটগুলোতে। তীব্র ঠান্ডার কারণে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিমোনিয়া, ডায়ারিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জানুয়ারি ২০১৮/সিথুন/সাইফুল

Walton Laptop
 
   
Walton AC