ঢাকা, রবিবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৯ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

তৈরি হলো সবচেয়ে বড় কৃত্রিম সূর্য

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১০ ১০:০৯:১৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১২ ২:১৭:৪৬ পিএম

সাতসতের ডেস্ক : বলা হচ্ছে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম সূর্য। একটি বিশাল ঘরে অনেকগুলো স্পটলাইট এক সঙ্গে রেখে পরীক্ষা চালাচ্ছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা।

রিনিউ করা এনার্জি হিসেবে এই আলোক শক্তিকে ব্যবহার করার পথে আছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির কোলন সিটি  থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার  দূরে জুলিচ শহরে চলছে এই পরীক্ষা। জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানীরা এই বিশাল কৃত্রিম সূর্যের ডিজাইন করেছেন। এই প্রজেক্টের নাম তারা দিয়েছেন ‘সায়ানলাইট’।

ডিভাইসটিতে মোট ১৪৯টি বড় ফিল্ম প্রজেক্টর স্পটলাইট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি স্পটলাইটে সাধারণ বাল্বের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার গুণ বেশি ওয়াট আছে। তাই এতগুলো স্পটলাইট যখন একসঙ্গে জ্বালানো হয়, তখন তা পৃথিবীতে আসা সূর্যের আলোর চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি আলো উৎপন্ন করে। সবগুলো স্পটলাইটের আলো ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে।

প্রতিদিন সূর্যের কাছ থেকে পাওয়া আলোকে বিভিন্নভাবেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মানুষ। এখন সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চললেও এই সূর্যের আলোর অনেকটাই  অব্যবহৃত হয়ে আছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের এই গবেষণার মাধ্যমে অব্যবহৃত এনার্জি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই গবেষণায় ঝুঁকি যেমন বেশি তেমনি অর্থও বেশি প্রয়োজন। কারণ যে রুমে এই পরীক্ষা চালানো হয়, সেখানে কোনো মানুষই থাকতে পারে না।  সরাসরি তীব্র আলোতে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে যে কেউ। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে একটি নিরাপদ রেডিয়েশন চেম্বারে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।


হাইড্রোজেন গ্যাস মহাবিশ্বে প্রচুর থাকলেও পৃথিবীতে এই গ্যাসের অভাব অনেক। তাই বিজ্ঞানীরা চাচ্ছেন সূর্যের আলোকে বিশেষভাবে কাজে লাগিয়ে হাই এনার্জি রি-অ্যাকশনের মাধ্যমে তা থেকে হাইড্রোজেন সংগ্রহ করতে। সে প্রক্রিয়ার একটি অংশ এই ‘সায়ানলাইট’।

প্রায় দুই বছরের চেষ্টায় ও সাড়ে তিন মিলিয়ন ইউরো খরচ করে এই কৃত্রিম সূর্য তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।


এই কৃত্রিম সূর্য গবেষণায় প্রচুর এনার্জি খরচ হয়। চার ঘণ্টা ধরে যদি ওই স্পটলাইটগুলো জ্বালিয়ে রাখা হয়, তাহলে তা  একটি বাসার চার সদস্যের মানুষ পুরো বছর জুড়ে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, সে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হবে। অবশ্য এই  পরীক্ষায় ভবিষ্যতের জন্য যদি আরো উপযোগী ও নিরাপদ শক্তি ব্যবহারের খোঁজ পান গবেষকরা, তবে সেসব ঝুঁকি কোনো বড় সমস্যা নয় বিজ্ঞানীদের কাছে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা চাচ্ছেন গাড়ি  ও বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন জ্বালানি উৎপন্ন করতে।

প্রকৃতিতে বেড়ে চলা কার্বন ডাই অক্সাইডের কারণে যে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, তা কমাতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই সায়ানলাইট প্রজেক্ট পৃথিবীর শক্তি সংকট নিরসনের পাশাপাশি মহাকাশযান বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়াতেও অবদান রাখতে পারবে আশা করা হচ্ছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ এপ্রিল ২০১৭/আহমেদ শরীফ/সাইফুল

Walton
 
   
Marcel