ঢাকা, রবিবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ১৯ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

পুরনোকে নতুন করছে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-৩০ ৮:২৫:২৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-৩০ ১২:০৫:১১ পিএম

বিনোদন প্রতিবেদক : বাংলাদেশকে বলা হয় ‘গানের দেশ’। এদেশ সংগীত বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এই বাংলায় জন্মেছেন লালন ফকির, হাসন রাজা, আবদুল আলীম, শাহ্ আবদুল করিমের মতো সংগীত সাধক। এদেশের বাতাসে কান পাতলেই শোনা যায় ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি-সারি গান।

আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে পূর্ব-পুরুষের গৌরব গাঁথা শুদ্ধ সংস্কৃতি ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ সুযোগে নতুন প্রজন্ম ভিনদেশীয় সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে। ভিনদেশীয় গানের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখে অতীতের সেই গৌরব হৃদয়ে ধারণ করে বাংলা গানকে দেশে ও বিশ্বের সংগীতপ্রেমী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংগীত বিষয়ক চ্যানেল ‘গান বাংলা টেলিভিশন’ আয়োজন করেছে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ নামের ব্যতিক্রমধর্মী  গানের অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে দেশীয় বিখ্যাত শিল্পীদের জনপ্রিয় গানগুলোকে আধুনিক যন্ত্রানুষঙ্গে নতুন ভাবে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরছেন শিল্পীরা।

দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠানটি করার পরিকল্পনা করেছিল আয়োজকরা। লক্ষ্যটা ছিল আকাশ ছোঁয়ার। পরিকল্পনাও ছিল অনেক সাজানো। সে কারণে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ শুরু করতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ভারত, রাশিয়া ও লাটভিয়ার বিখ্যাত বাদকদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানটি তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবার ‘উইন্ড অব চেঞ্জ প্রি-সিজন-১’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন- আইয়ুব বাচ্চু, ফাহমিদা নবী, সামিনা চৌধুরী, কুদ্দুস বয়াতি, চিশতি বাউল, হাবিব, বালাম, মিলা, পান্থ কানাই, হৃদয় খান, পুলক, পারভেজ, তওফিক, তন্ময়, তাশফি,  লুইপাসহ আরো অনেকে।

ভিনদেশি শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন আন্তন দাভিদিয়ান্ত (বেজগিটার), আনা জেইনালোভা (ভায়োলিন), নেলি বুবুজেঙ্কা ও মোহিনী দে (বেজগিটার)। এ ছাড়া পুরো অনুষ্ঠানে শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন ভারতের এমটিভি আনপ্লাগড ও এমটিভি কোক স্টুডিওর কলাকুশলীরা।

গুণী শিল্পীদের এ গানগুলো গত রোজার ঈদে চ্যানেলটিতে প্রচার করা হয়। এরপর থেকেই সংগীত প্রিয় মানুষের কাছে এ উদ্যোগটি বেশ প্রশংসা কুড়ায়। গানের ক্ষেত্রে এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

গত বছরের ১৯-২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিএফডিসির-২ নম্বর ফ্লোরে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ প্রি-সিজন-২’ এর কাজ শুরু হয়েছে। এবারও দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত কলাকুশলীদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে এই অনুষ্ঠান। এতে গান করেছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী, ফেরদৌস ওয়াহিদ, কৌশিক হোসেন তাপস, হাবিব ওয়াহিদ, চন্দনা মজুমদার, চিরকুট, এন্ড্রু কিশোর, খুরশীদ আলম, মজিব পরদেশী, কনা, চিশতী বাউল, বালাম, এলিটা তপু।

অনুষ্ঠানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন কৌশিক হোসেন তাপস। উপস্থাপনা করেছেন ফারজানা মুন্নী। গত ঈদুল আজহায় গান বাংলা চ্যানেলে ঈদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন ‘উইন্ড অব চেঞ্জ প্রিসিজন-১’ প্রচারিত হয়।

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক মানের সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘ওয়ান মোর জিরো গ্রুপ-উইন্ড অব চেঞ্জ- সিজন-১’ এর এমনই বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে চিত্রধারণের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। গত ২৫ মে থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংগীতানুষ্ঠানের চিত্রধারণ করা হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা যন্ত্রশিল্পীদের সঙ্গে দেশের জনপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিশীল কণ্ঠশিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য-বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি প্রবীণ শিল্পীর অংশগ্রহণ। সংগীতশিল্পী ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী, বারী সিদ্দিকী, জানে আলম, ফকির আলমগীর, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, অদিতী মহসিন, সুবীর নন্দী, কুমার বিশ্বজিৎ, চিশতি বাউল, কুদ্দুস বয়াতি, কালামিয়া, শাহ আলম সরকার, বাপ্পা মজুমদার, পথিক নবী, অদিত, ইমরান, হৃদয় খান, বেলাল খান, প্রতীক হাসান, ঐশী, লুইপা, শামীম, চিরকুট ও কৌশিক হোসেন তাপস গেয়েছেন এবারের আয়োজনে।

 



এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা যন্ত্রশিল্পীরা অংশ নেন। এ তালিকায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চেলো বাদক আটইউম মেনিকিয়ান, লাটভিয়ার পিয়ানো শিল্পী এনাভাইভ, যুক্তরাষ্ট্রের ড্রামার টনি পার্কার, রাশিয়ার অপেরা শিল্পী এনা এমিলিয়া নোভা, একই দেশের ভায়োলিন বাদক এনা রাকিতা, ড্রামার নেলি বুভুজাংকাও বেইজ গিটারিস্ট আন্তন ডেভিডিয়ান্স, সেতার বাদক ভারতের পূর্বায়ন চ্যাটার্জি ও গিটারিস্ট সঞ্জয় দাস, এডেলিনাসহ অনেকে।

‘উইন্ড-অবচেঞ্জ সিজন-১’ এ অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বারী সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। আমার ধারণা ছিল ভিনদেশের যন্ত্রশিল্পীরা হয়তো আমাদের গানের সাথে সঙ্গতি রেখে ঠিকঠাক বাজাতে পারবেন না। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো- ওরা অসম্ভব ভালো বাজিয়েছে। ওদের যন্ত্রানুষঙ্গে গানগুলো অন্যরকম প্রাণ পেয়েছে। যুগের পর যুগ টিকে থাকার মতো গান হয়েছে। আমার বিশ্বাস উইন্ড অব চেঞ্জ এর গান সারা বিশ্বের সংগীতের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার মতো গান হয়েছে। গানগুলো বিশ্বসংগীতের দরবারে আমাদের বাংলা গানের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে।’

সুবীর নন্দী বলেন, ‘বেশি কিছু বলতে চাই না, এক কথায় বলব, উইন্ড অব চেঞ্জ’-এ গান করে এতো মজা পেয়েছি, যা আগে কখনো পাইনি। আমি যে গানটি করেছি, সে গানটি যেন এতো দিনে নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। আমি উইন্ড অব চেঞ্জ-এর যতোগুলো গান দেখেছি, সবগুলোই অসাধারণ লেগেছে।’

‘উইন্ড অব চেঞ্জ সিজন-১’ এর পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দেন গান বাংলা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক কৌশিক হোসেন তাপস। অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘উইন্ড অব চেঞ্জ’র আগের দুটি মৌসুম ছিল ‘প্রি-সিজন’। এবারের আয়োজনকে বলছি, ‘সিজন-১’। আগের দুটি প্রি-সিজন ছিল প্রস্তুতি পর্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যন্ত্রশিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সবাই আমাদের কাজগুলো দেখেছেন। এখন বেশ আগ্রহ নিয়ে আমাদের এখানে আসছেন। বাংলাদেশের গানগুলোকে শ্রোতাদের সামনে নতুন করে, নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে বাংলা গানকে সম্মানজনক উচ্চতায় তুলে ধরাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

এবার ঈদুল ফিতরে ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ এর প্রথম পর্ব প্রচারিত হয়। আগামী ঈদুল আজহায় দ্বিতীয় পর্ব গান বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩০ জুন ২০১৭/রাহাত/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Walton