ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ বৈশাখ ১৪২৪, ২৫ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন

সুজাউদ্দিন রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৯ ১০:৫০:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২০ ১০:২১:৩৯ এএম

কক্সবাজার প্রতিনিধি : মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিশন রোববার বিকেলে কুতুপালং নতুন রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করেছে।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্য নতুন আশ্রয় নেওয়া অর্ধশতাধিক নির্যাতিত নারী ও পুরুষের সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি তদন্ত কমিশন।

তদন্ত কমিশনের সফরকালে ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

দুপুর ৩টার দিকে তদন্ত কমিশনের সদস্যরা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শনে আসেন। রাখাইন প্রদেশের মংডুসহ বিভিন্ন এলাকায় দেশটির সেনাবাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া, ঘরবাড়ি হারিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন তারা। তারা বিকেলে নির্যাতনের শিকার অন্তত ২৫ জন নারীর সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎস্থলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা যাওয়ার আগ্রহ জানালেও শরণার্থীদের সেবায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) কয়েকটি এনজিওর কর্মকর্তারা তাতে বাধা দেন।

মিয়ানমারের উপরাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত এ তদন্ত কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ কমিশনের সামনে অন্তত ১৮ জন ধর্ষিতা নারী, ১২ জন গুলিবিদ্ধ আহত, ৫-৬ জন অন্যভাবে আহত রোহিঙ্গা বক্তব্য দেন। 

কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শনকালে ব্যানার সহকারে শত শত রোহিঙ্গা কমিশনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন।

 



আলোচনায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা জানান, আরাকানের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা সম্পর্কে কমিশনের সদস্যরা জানতে চাইলেও একবারও রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাবে কি না- তা জানতে চাননি।

গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকি সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্তের ঘটনায় অপারেশন ক্লিয়ারেন্স নামে প্রায় চার মাসব্যাপী রাখাইন প্রদেশের মংডু, বুচিডং, আকিয়াবসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাড়া, গ্রামে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে তাণ্ডব চালানো হয়। এ প্রেক্ষিতে সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

তদন্ত কমিশনের সদস্যরা সোমবার উখিয়ার বালুখালীতে নতুন রোহিঙ্গা বস্তি ও টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করবেন।



রাইজিংবিডি/কক্সবাজার/১৯ মার্চ ২০১৭/সুজাউদ্দিন রুবেল/বকুল/এএন

Walton Laptop