ঢাকা, সোমবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

টাকার গাছ

শাহনেওয়াজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১২ ৮:২০:৩৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০৬ ২:৫৬:৫৮ পিএম
রাজধানীর মতিঝিলে রাজউক এভিনিউয়ে প্রিন্টার্স বিল্ডিংয়ের প্রবেশমুখে মানি প্ল্যান্ট

খান মো. শাহনেওয়াজ : শোভা বর্ধনকারী গাছ যত আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যার কদর সেটি হলো ডেভিলস আইভি প্ল্যান্ট। এই গাছটির নাম মুলত পথোস। বাংলাদেশে এবং এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশে এই গাছ মানি প্ল্যান্ট নামে পরিচিত।

দ্রুত বর্ধনশীল বিধায় বাংলাদেশে একে আদর করে বলা হয় টাকার গাছ। এই গাছকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে গণ্য করা হয়। ব্যাংক ও মুদ্রা ব্যবস্থায় প্রবৃদ্ধির চিহ্ন হিসেবে এই গাছের ছবি ব্যবহারের নজীর আছে। গৃহসজ্জায় এর বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু হওয়ায় এবং তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না বিধায় সৌখীন মানুষের কাছে এর অত্যন্ত কদর।

গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত কালের আবহাওয়া এমনকি সব পরিবেশ মানিয়ে নিতে সক্ষম এই মানি প্ল্যান্ট। অন্দরে অথবা বাইরে, ছায়া অথবা কড়া রোদে এ গাছ দিব্যি তরতাজা থাকে এবং সুস্বাস্থ্য নিয়েই বেড়ে ‍ওঠে। আর এ কারণে বাগান এমনকি ভবনের সৌন্দর্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে বৃক্ষপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ এই গাছ। স্থপতিরাও ভবনকে সবুজে সাজানোর ক্ষেত্রে মানি প্ল্যান্টের কথা মাথায় রাখেন। বাংলাদেশে এই গাছকে শোভাবর্ধক হিসেবেই রাখা হয়।

বৃক্ষপেমীদের মাঝে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, মানি প্ল্যান্ট বাড়িতে থাকলে বাড়ির সদস্যদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং সংসারে সমৃদ্ধি আসে। এটি মূলত লতা গাছ (ভাইন) এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলে ও লম্বা আশ্রয় গাছ বা অবলম্বন পেলে ৪০ ফুট বা তার চেয়েও কিছু বেশি উঁচু পর্যন্ত বেয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে গাছের গোড়ার দিকের তুলনায় আগার দিকে কাণ্ড ক্রমেই মোটা হয়ে ওঠে এবং উপরের দিকের পাতাও সেই অনুপাতে বড় হয়ে থাকে। সরাসরি মাটিতে শেকড় থাকলে এ গাছ তরতর করে বেড়ে ওঠে। টব বা অন্য কোন পাত্রে লাগালে সেই টব বা পাত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কাণ্ড ও পাতার আকার গড়ে ওঠে এবং ৩০ ফুট বা তার চেয়ে বেশি উঁচুতে উঠতে পারে।

মানি প্ল্যান্টের বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে। এগুলো হলো গোল্ডেন পথোস, হান্টার রোব, আইভি অরাম, সিলভার ভাইন, টেরো ভাইন। এর কাণ্ড সবুজ, পাতাও সবুজ। তবে দুই বা ততোধিক রঙ সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় পাতার গাছও রয়েছে। এর অনেকগুলো প্রজাতি (ভ্যারাইটি) আছে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে বৃক্ষবিজ্ঞানিরা কয়েকটি জাত (কাল্টিভার) উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত বা কাল্টিভার হলো গোল্ডেন কুইন। এর বৈশিষ্ট্য হলো সিংহভাগ সবুজের সঙ্গে হালকা সোনালি রঙের মিশ্রণে চোখ জুড়ানো বাহারি পাতা। আমাদের দেশে গোল্ডেন কুইন জাতের মানি প্ল্যান্ট সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

মানি প্ল্যান্টের জাতগুলোর মধ্যে অনন্য বা বিশিষ্ট (Exclusive) বলে গণ্য হয় সাতিন পথোস ও মার্বেল কুইন জাতের গাছ। সাতিন পথোসের বৈশিষ্ট্য হলো এর পাতার সিংহভাগ গাঢ় সবুজ এবং পাতা সিলভার রঙের ফোঁটা যুক্ত। মার্বেল কুইন জাতের বৈশিষ্ট্য হলো এর পাতা সবুজ ও হালকা সোনালি ও সাদা রঙের সমন্বয়ে বাহারি ও অত্যন্ত উজ্জ্বল। সাতিন পথোস ও মার্বেল কুইন সহজলভ্য নয়।

মানি প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম এপিপ্রেমনাম অরিয়াম (Epipremnum aureum). এপিপ্রেমনাম গণের এই গাছ এরাসিয়া (Araceae) পরিবারভুক্ত। এই গাছ যেমন বেয়ে উঠতে পারে তেমনি নিচের দিকে ঝুলেও নামতে পারে। সে কারণে বিপনি বিতান, অফিস ভবন, সুদৃশ্য স্থাপনা এমনকি উচ্চ ভবনের গাত্র সবুজে সাজানোর জন্য এই গাছ ব্যবহার করা হয়। বাগানি, ল্যান্ডস্ক্যাপার ও প্ল্যান্টস্ক্যাপার ডিজাইনাররা এই গাছকে বহুমূল্য বিবেচনা করে থাকেন। মানি প্ল্যান্টে সাধারণত ফুল ফুটতে দেখা যায় না। তবে ফুল যে আসে না তা নয়; কিন্তু তা বিরল। এর ফুল সাদা ও সুদৃশ্য এবং হালকা ও মিষ্টি ঘ্রাণযুক্ত। এর বংশবিস্তার অত্যন্ত সহজ এ কারণে যে, কাণ্ড থেকেই নতুন গাছ জন্মায়।

রাজধানী ঢাকায় আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত সুদৃশ্য অনেক ভবনেই এই গাছের দেখা মেলে। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় ৫, রাজউক এভিনিউয়ে প্রিন্টার্স বিল্ডিংয়ের প্রবেশমুখে সিড়ির পশ্চিম দেয়ালে ঝুলন্ত মানি প্ল্যান্ট সবারই নজর কেড়ে নেয়। অভিজাত আবাসিক এলাকা ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা এমনকি উত্তরায় অনেক আবাসিক ভবনের সীমানা দেয়ালে বা বাড়ান্দার গ্রিলে দেখা মেলে মানি প্ল্যান্ট। অনেকে বাসায় বসার ঘরে বা শোবার ঘরে এবং অফিস কক্ষে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাজিয়ে রাখেন এই গাছ। এটি সহজেই দৃষ্টি টেনে নেয় এবং মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।

 

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel