ঢাকা, রবিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫, ২২ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

অন্য রকম মেলা

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৯ ৩:৩২:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৯ ৬:১৫:২৫ পিএম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : এখানে বড়দের খবরদারি নেই, পুরো মেলা শিশুদের দখলে। মেলা জুড়ে হৈ হুল্লোড় আর হাসিমুখ। অনেকগুলো ছোট ছোট স্টল। নিজেদের তৈরি খেলনা, নিজেরা বিক্রি করছে তারা। কেউ কেউ বায়োস্কপে উকিঁ দিয়ে দেখছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প কিংবা কেউ উপভোগ করছে মঞ্চের পুতুল নাচের দৃশ্য।  শুক্রবার সারা দিন এমন দৃশ্যপট ছিল রাজধানীর ধানমন্ডি নিউ মডেল স্কুল মাঠে ‘বিজয়ের আলোড়ন’ নামক বিশেষ মেলায়।

বিজয়ের আলোড়ন নামক মেলার আয়োজন করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নালোড়ন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যারা রোজ পরিত্যক্ত জিনিস কুড়োয়, বিভিন্ন স্থানে কাজ করে, বস্তিতে থাকে, তাদের নিয়ে প্রায় ২ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নালোড়ন। স্বপ্নালোড়ন এর সঙ্গে প্রথম থেকেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন ইডেন কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান নাদিয়া। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, শহর জুড়ে প্রতিদিন অনেক কর্পোরেট মেলা হয়। অভিজাত্যের প্রদর্শনী হয়, রমরমা বাণিজ্য হয়, অথচ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কোনো মেলা হয় না। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আমরা এই মেলার আয়োজন করেছি।

রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত স্বপ্নালোড়নের একটি শিক্ষাকেন্দ্রের নিয়মিত শিক্ষার্থী সুবিধাবঞ্চিত শিশু রাবেয়া আক্তার (১০)। মেলায় এসেছিল সেও। কেমন লাগছে জানতে চাইলে, উচ্ছাস দেখা গেলো তার কণ্ঠে, ‘অনেক মজা করেছি, বায়োস্কোপ দেখেছি, পুতুল নাচ দেখেছি, খেয়েছি। খুব ভালো লাগছে।’

মেলায় কড়াইল বস্তি থেকে এসেছে ফারজানা আক্তার (১১)। ফারজানা আক্তার বলেন, অনেক মেলায় গেছি, এমন মেলায় কখনো যায়নি। যেখানে নিজেদের তৈরি জিনিস আমরা নিজেরা বিক্রি করছি।

একটি স্টলে বায়োস্কপ দেখতে ভিড় করছিলেন শিশুরা। কি দেখছে বায়োস্কপে তারা? সাকিব (১২) জানান, এই প্রথম সে বায়োস্কপের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। সে বায়োস্কপে দেখেছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের গল্প ও মিনা কার্টুন।

বিজয়ের আলোড়ন মেলায় ছয়টি স্টল তৈরি করছিল অভিনব ভাবে। স্টলের নামগুলোও ব্যতিক্রমধর্মী। কোনোটির নাম ‘রং বেরঙের কার্ড’, কোনোটির নাম ‘শিকড়’, কোনোটির নাম ‘পুতুল নাচ’, কোনোটির নাম ‘বায়োস্কপ’।

 


সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশাপাশি মেলায় ভিড় করেছিল বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষও। মেলায় এসেছিলেন অ্যাডভোকেট জিলইসমাইল জাগিরদার। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নালোড়ন আমাকে আলোকিত করেছে। বুয়েট, ঢাবি, জাবিসহ স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণেরা নিঃস্বার্থ ভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করছে। মেলায় এসে আমার অসাধারণ অনুভূতি তৈরি হয়েছে, আমার মনে হয়েছে, এটা মেঘলা আকাশে আলো জ্বালাবার মেলা। আমি নিজেও মেলা থেকে শিশুদের তৈরি খেলনা কিনেছি।’

মেলায় এসেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা এনামুল হক। এনামুল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, স্বাধীন দেশের মানুষের মন অনেক বড় হয়। নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে পারে, আজকে তার প্রমাণ দিলেন তরুণেরা। শিশুদের নিয়ে অসাধারণ কাজ করছে তারা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এমন মেলার আরো আয়োজন করা উচিত।

মেলা আয়োজন সম্পর্কে স্বপ্নালোড়নের সংগঠক রিফাহ শারমিলি বাঁধন জানান, ‘শিশুদের প্রতি ভালবাসা থেকেই আমরা কাজ করি। পথশিশুদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। তাদের বিনোদনেরও তেমন কোনো সুযোগ নেই। আমরা এই মেলার মধ্য দিয়ে পথশিশুদের মাঝে উৎসবের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছি। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ সম্পর্কেও জানাতে চেষ্টা করেছি। মেলা থেকে বিক্রিত অর্থ অধিকার বঞ্চিত শিশুদের কাজে আমরা ব্যয় করবো।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton