ঢাকা, শনিবার, ১২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

সাহসী জীবন সংগ্রামী মিনু জামান

মামুনুর রশিদ রাজিব : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৫ ৪:৩৫:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-১৫ ৪:৩৫:২৬ পিএম
মিনু জামান

মামুনুর রশিদ রাজিব : দিনের পর রাত, আর জোয়ারের পর ভাটার মতো মানব জীবনেও সুখ-দুঃখ যেন এক সুতোয় গাঁথা। একটি বাদ দিয়ে অন্যটি চিন্তা করা যায় না।

তবে, সুখের দিনগুলো বেশ উপভোগ্য হলেও দুঃখের দিনগুলো হয় দীর্ঘ বিরক্তিকর এবং কষ্টের। তবুও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হলে আশা নামের ভেলায় চড়ে মানুষকে পাড়ি দিতে হয় দুঃখের সাগর। যার জন্য প্রয়োজন অসীম সাহসের। জীবনযুদ্ধে সংগ্রামরত এমনই একজন সাহসী মানুষ কুষ্টিয়ার মিনু জামান।

মিনু জামানের জন্ম কুষ্টিয়ায় হলেও প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাস করছেন। বর্তমানে তিনি থাকেন মিরপুর দুই নম্বর রোডের এক বাড়িতে। তেরো বছর বয়সে বিয়ে হওয়া মিনু জামান বৈবাহিক জীবনের শুরুতেই সংসারের বোঝা ভাগ করে নিতে স্বামীর সঙ্গে কাজ শুরু করেন ঢাকার এক পোশাক কারখানায়। বেশ কিছুদিন কাজ করার পর দুজনে সিদ্ধান্ত নেন, তারা আর পোশাক কারখানায় চাকরি করবেন না। বরং, স্বতন্ত্রভাবে বুটিকস-এর কাজ করার পাশাপাশি একটি ছোট্ট পোশাক বিক্রির ব্যবসা শুরু করবেন। সেই ভাবনা থেকে কাজও শুরু করলেন তারা।



কিন্তু অল্প কিছুদিন ব্যবসা করার পর লোকসান হওয়ায় স্বামীকে ব্যবসার মধ্যে রেখেই মিনু জামানকে খুঁজে নিতে হয় ভিন্ন একটি পেশা। সেটা হলো- রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে দোকানে দোকানে ঘুরে খাবার বিক্রি করা। মিনু জামান প্রথম দিকে দুপুরের খাবার (ভাত) বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করেন বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু আচার। যার মধ্যে রয়েছে আম, বড়ই, চালতা, আমড়া, তেঁতুল, জলপাই ইত্যাদি।

দুই ছেলেমেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে চারজনের সংসার ভালোই চলছিল মিনু জামানের। ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলেন স্থানীয় একটি কলেজে এবং মেয়েকে আশা ইউনিভার্সিটির এলএলবি ডিপার্টমেন্টে। কিন্তু ২০১৪ সালের দিকে হঠাৎ স্বামী শাহজামানের প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়াটা যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই আঘাত করে তার স্বপ্নের সংসারে। ক্ষণিকের তরে থমকে দাঁড়ায় জীবনের সকল হিসাব। সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে মিনু জামানের কাঁধে।

তেতাল্লিশ বছরের মিনু জামান, এমন পরিস্থিতিতে ছেলে শাওনের পড়াশোনা বন্ধ করে দিলেও দুঃসাহসে চালিয়ে যান মেয়ে সেতুর পড়াশোনা। কিন্তু ছেলের স্বল্প পরিসরে শুরু করা পোশাক বিক্রির কাজ এবং মিনু জামানের দোকানে দোকানে আচার বিক্রির কাজ থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে স্বামী শাহজামানের চিকিৎসাসহ শেষদিকে এসে সেতুর পড়ালেখার খরচ চালানোটা এখন হয়েছে গলার কাটার মতো। যার জন্য মেয়েকে মাঝে মধ্যে সেমিষ্টার ড্রপও দিতে হচ্ছে। কিন্তু তবুও থেমে যেতে চান না জীবন সংগ্রামে সাহসী এই যোদ্ধা। এগিয়ে যেতে চান সামনে পূর্ব আকাশে উদিত জ্বলজ্বলে রক্তিম সূর্যের কোনো এক সকালের খোঁজে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ জানুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ/তারা

Walton
 
   
Marcel