ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৯ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সফল ব্যক্তিদের অদ্ভুত ঘুমের অভ্যাস

মাহমুদুল হাসান আসিফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৬ ১০:২৫:৪৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-১৬ ২:০৬:১৮ পিএম

মাহমুদুল হাসান আসিফ : এমন অনেকেই আছেন যাদের ঘুমানোর অভ্যাস একটু ভিন্ন ধরনের। আবার উদ্ভটও বলা যেতে পারে। বিশ্বের সফলতম ব্যক্তিদের মধ্যেও এরকম অভ্যাস লক্ষণীয়। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* উপন্যাসের আইডিয়া
তৎকালীন ঐতিহাসিকদের মতে, লেখক চার্লস ডিকেন্স নিদ্রাহীনতায় ভুগতেন। তিনি তার জীবদ্দশায় অনেক বিখ্যাত লেখা লিখে গেছেন। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি একপ্রকার কুসংস্কারে বিশ্বাস করতেন। তার বিশ্বাস ছিল উত্তর দিকে মুখ করে ঘুমানোর ফলে তার লেখার উপর সেটার প্রভাব পড়ে। তার লেখার চমকপ্রদ ব্যাপারগুলো নাকি উত্তর দিকে মুখ করে ঘুমানোর ফলে হতো।

* চার ঘণ্টার ঘুম
উদ্যোক্তা, লেখক ও ম্যাগাজিন প্রকাশক মার্থা স্টুয়ার্ট বলেন, তিনি রাতে মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সারাদিনের কাজসহ সবকিছু সামলে নিতে পারেন। তিনি বলেন, ব্যবসা এবং অন্যান্য কাজে তাকে প্রচুর ব্যস্ত থাকতে হয় এবং এ কারণে তিনি ঘুমানোর সময় পান না। তিনি আরো বলেন, ‘যদিও আমার জীবন খুবই ক্লান্তিকর, তবুও আমি ঘুমকে গুরুত্ব দিয়ে কাজের ক্ষতি করি না। দেরী করে ঘুম থেকে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার বাড়িতে সবাই মোটামুটি সাড়ে ছয়টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠে এবং আমাকে তারও আগে ঘুম থেকে উঠতে হয়।

* গোল্ড মেডেলিস্টের ঘুম পদ্ধতি
অলিম্পিক সাঁতারু ও গোল্ড মেডেলিস্ট মাইকেল ফেলপসের শুধু পর্যাপ্ত ঘুম যথেষ্ট নয়, বরং নিখুঁত পর্যায়ের ঘুম প্রয়োজন। তিনি বিশুদ্ধ বাতাস এবং অক্সিজেনপূর্ণ একটি চেম্বারে ঘুমান যেখানে পর্যাপ্ত ঘুমের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা আছে। ২০১২ সালের অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করার আগে মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি বিশেষ চেম্বারে ঘুমাতেন। এভাবে ঘুমানোর ফলে মাইকেলের দেহে প্রচুর লাল রক্তকণিকা তৈরি হতো এবং তার দেহে অক্সিজেন প্রবাহ বেড়ে যেত, যা একজন সাঁতারু হিসেবে তার খুবই প্রয়োজন।

* সুদীর্ঘ ঘুম
পপ সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী মারিয়া ক্যারি তার কন্ঠ ঠিকঠাক রাখার জন্য ১৫ ঘণ্টার সুদীর্ঘ ঘুম ঘুমান। তাছাড়া তার শোবার ঘরে তিনি প্রচুর আর্দ্রতা পছন্দ করেন। তিনি তার বিছানার চারপাশে ২০টির মতো আর্দ্রতা দানকারী মেশিন বসিয়ে রেখেছেন, যার ফলে তার শোবার ঘরে সবসময় প্রচুর আর্দ্র বাতাসের উপস্থিতি থাকে এবং তিনি বেশি সময় ধরে ঘুমাতে পারেন।
 


* লেখার অভ্যাস
গায়িকা ও গীতিকার কেলি বর্তমানে আন্তর্জাতিক সঙ্গীতজগতে এক উজ্জ্বল নাম। ঘুমানোর আগে তিনি যদি গান না লিখেন তাহলে তার ঘুমের সমস্যা হয়। তিনি বলেন, ‘একবার যদি নতুন কোনো লেখা মাথায় আসে তাহলে তা না লিখে আমি ঘুমাতে পারি না এবং এজন্য ঘুমের মধ্যেও আমার অনেক সমস্যা হয়। নিখুঁত, নির্ভেজাল ঘুম আমি ঘুমাতে পারি না। কেননা বেশিরভাগ নতুন নতুন লেখা রাতের বেলা মাথায় আসে।’

* বালিশ রহস্য
বিখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং ঘুমানোর জন্য এক অদ্ভুত পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তিনি ঘুমানোর আগে ব্রাশ করেন এবং নিজের দুই হাত ভালো করে ধুয়ে নেন। তাছাড়া বিশেষ এক অবস্থানে বালিশ না রাখলে তিনি ঘুমাতে পারেন না। তিনি ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার আগে দুই হাত ধোয়া এবং বালিশের অদ্ভুত অবস্থান পছন্দ করেন।

* নাক ডেকে ঘুম
বিখ্যাত তারকা টম ক্রুজের রয়েছে প্রচুর শব্দে নাক ডেকে ঘুমানোর অভ্যাস। তার বাসভবনে শুধুমাত্র নাক ডেকে ঘুমানোর জন্য একটি কক্ষ তিনি আলাদা করে রেখেছেন। কক্ষটি পুরোপুরি শব্দপ্রতিরোধী। তার নাক ডাকার শব্দ যেন অন্য কাউকে বিরক্ত না করে এজন্য তার এই আয়োজন। কেটি হোমসকে বিয়ে করার পর টম তার বাড়িতে এই বন্দোবস্ত করেছিলেন, যাতে তারা দুজনেই শান্তিতে ঘুমাতে পারেন।

* ঘুমের অপব্যয়কারী
টমাস আলভা এডিসন একজন বিখ্যাত আবিষ্কারক ছিলেন বটে, তবে তিনি ঘুমের ব্যাপারে ছিলেন প্রচন্ড রকমের উদাসীন। তিনি প্রচুর চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন এবং ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করার মতো কাজ তিনি করতে চাইতেন না। তিনি কাজের ফাঁকে হালকা তন্দ্রাভাবাচ্ছন্ন হয়ে বসে বা শুয়ে থাকতেন এবং এভাবেই তিনি ঘুমকে এড়িয়ে গেছেন বছরের পর বছর।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ মে ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton