ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সাহরিতে অশেষ বরকত

রিয়াজুল বাশার : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৯ ১:৫২:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-২০ ৩:৩৪:২৫ পিএম

রিয়াজুল বাশার :  প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নর-নারীর জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। আর রোজা বা সিয়াম পালন করার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে পানাহার করাকে সাহরি বলা হয়। এই সাহরি খাওয়া সুন্নত। এর মধ্যে নিহিত আছে অশেষ বরকত। সাহরি গ্রহণ ইসলামের দৃষ্টিতে সুন্নত হলেও প্রকৃত তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।

পবিত্র কোরআনে সাহরি খাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ রাতের কালো রেখা হতে ঊষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাতের আগমন পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।’-(সূরা বাকারা : ১৮৭)।

সহিহ্ বোখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন- ‘তোমরা সাহরি খাও; নিশ্চয় সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত নিহিত আছে।’ হজরত আমর ইব্নুল আস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘আমাদের (মুসলমানদের) রোজা আর আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিষ্টান)-এর রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া আর না-খাওয়া।’

সুবহে সাদিকের আগের সময়টাকে সাহরি বলা হয়। সাহরি শব্দটি আরবি সাহর থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হলো রাতের শেষাংশ বা ভোররাত। আর সাহরি অর্থ হলো শেষ রাতের খাবার।  সাহরি খাওয়ার সুন্নত সময় হলো, দেরি করে শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া। সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সাহরি খাওয়া  ভালো। তবে সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে দেরি করা যাবে না।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। আর অল্প কিংবা সামান্য খাবার হলেও তিনি সাহরি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন- ‘সাহরি হল একটি বরকতময় খাদ্য, তাই তা তোমরা ছেড়ে দিও না। এক ঢোক পানি দ্বারা হলেও সাহরি করে নাও। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও ফেরেস্তাগণ সাহরিতে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করে থাকেন।’ (আহমদ)

রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- ‘মোমিনের উত্তম সাহরি হল খেজুর।’–( আবু দাউদ)।  হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন- ‘তোমরা সাহরি খাও; যদি তা এক ঢোঁক পানিও হয়।’অন্যত্র বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও; যদি এক লোকমা খাদ্যও হয়।’

উপরিউক্ত হাদিসসমূহ দ্বারা সাহরির গুরুত্ব বোঝা যায়। এক ঢোঁক পানি, এক লোকমা খাদ্য, এক কাপ দুধ, সামান্য ফলমূল বা একটি খেজুরের মতো যৎমান্য হলেও সাহরি গ্রহণ করা বরকতময় সুন্নত। এই বরকত  ইহকাল এবং পরকাল উভয়ের জন্যই। সাহরি একদিকে শারীরিক শক্তি জোগায়, যা রোজা পালনে সহায়ক; অপর দিকে রূহানি শক্তি জোগায়, যা তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে।

তবে কোনো কারণে সাহরি খাওয়া সম্ভব না হলেও রোজা রাখতে হবে, কোনো প্রকার বাহানা বা ওজর রোজা ছাড়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে সাহরি বর্জন করা সুন্নতের বরখেলাপ। কারণ, সাহরি খাওয়া সুন্নত। তা ছাড়া নবীজি (সা.) বলেছেন, সাহরি ছাড়া রোজা রাখা ইহুদি-নাসারাদের ধর্ম। সাহরির খাবার হালকা হওয়া ভাল। এমন বেশি খাওয়া উচিত নয় যাতে দিনের বেলা কাজ-কর্মে অলসতা দেখা দেয়। যে কোন হালাল খাবার সাহরিতে গ্রহণ করা যায়। 

সুতরাং উপরিউক্ত বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইসলামি শরিয়তে সাহরির গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে সাহরি গ্রহণ ও রোজা পালনের তৌফিক দান করুন। -আমিন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ মে ২০১৮/রিয়াজুল/এনএ

Walton Laptop
 
     
Walton