ঢাকা, রবিবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৫, ২৪ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রিয়জনের কাছে ফিরলেই সব কষ্ট ম্লান

হাসান ওয়ালী : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৫ ৩:৫৫:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-০৫ ৮:২৬:০৮ পিএম
ছবি : আল নাহিয়ান

হাসান ওয়ালী : ‘সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ায়ে আছি, এখনো টিকেট হাতে পেলাম না। জানি না আজকে আর পাবো কিনা। সামনে শুধু মানুষ আর মানুষ।’ কমলাপুর রেল স্টেশনে দাঁড়িয়ে টিকেট না পাওয়ার ক্ষোভ এভাবেই প্রকাশ করলেন ইডেন মহিলা কলেজের সম্মানের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম। শুধু নিশাতই নয়, এমন ক্ষোভ অনেকেরই।

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ আনন্দ পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করতে মানুষ ছুটবেন নাড়ির টানে। কংক্রিটের এই শহর ছেড়ে মানুষ ছুটবেন একটুখানি সুখের আবেশ পেতে। এই ঈদ যাত্রা ঝামেলা মুক্ত রাখতে অনেকেরই পছন্দ ট্রেন যাত্রা। ঈদে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার অগ্রিম টিকেট কিনতে কমলাপুরে ছিল যেন জনসমুদ্র। ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কিনতে তাই মানুষের লাইন কমলাপুর রেল স্টেশনে। সোমবার দেওয়া হয়েছে ১৩ জুনের অগ্রিম টিকেট।

এই লাইনে ৬০-৭০ জনের পেছনে উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আজাদ মিয়া। পেশায় ড্রাইভার আজাদ ঈদ যাত্রায় ট্রেনই বেছে নিয়েছেন। ‘আমি অনেকক্ষণ যাবত দাঁড়ায়ে আছি। মাঝেমধ্যে অনেকেই লাইনের প্রথমে ঢুকে যেয়ে টিকেট কিনে নিচ্ছেন। পুলিশ দেখেও কিছু বলে না।’ বলছিলেন দিনাজপুরের টিকেটের অপেক্ষায় থাকা আজাদ মিয়া।

জাকির হোসেন দাঁড়িয়েছেন সিলেটে যাওয়ার টিকেট কিনতে। পোস্তগোলার এই শপিং ব্যাগ তৈরি শ্রমিক অনেক কষ্টে পেলেন বাড়ি ফেরার টিকেট। জানালেন, ‘বছরের অন্য সময়ে বেশি যাওয়া হয় না বাড়িতে। ঈদে তাই কোনোরকম রিস্ক নিতে চাইনি। সকাল থেকে দাঁড়ায়ে থেকে টিকিট পেলাম। খুবই ভালো লাগছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারবো।’
 


ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়ানোর পরে কাঙ্ক্ষিত বাড়ি ফেরার টিকিট পেয়ে এমন উচ্ছ্বাসিত অনেকেই। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাই এই কষ্ট শিকার করছেন বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ। কারণ, প্রিয়জনের মুখের হাসির কাছেই সব কষ্ট ম্লান হয়ে যায়। গণমাধ্যমে চোখ রাখলেই প্রতিদিনই মেলে কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার মতো সংবাদগুলো। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ট্রেন যাত্রাকে নিরাপদ মেনে মানুষ ট্রেন ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন ২৩ হাজার ৫১৪টি করে টিকিট সরবরাহ করা হচ্ছে। ঈদের আগের তিন দিনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার করে অগ্রিম টিকিট রাখা হয়েছে। যা অন্যান্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। ঈদে যাত্রী টানতে এবার নয় জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ এসি একটি ট্রেন খুলনা রুটে চলবে। এছাড়া লালমনিরহাটগামী নতুন একটি স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরের সাত দিন চলবে স্পেশাল ট্রেন।

কমলাপুর রেল স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সঠিক ভাবে সবাইকে টিকেট পৌঁছে দিতে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন নিরাপত্তা নিশ্চিতে।’

যে ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে এই দীর্ঘ লাইনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা, সে টিকেট পাওয়ার সংগ্রামও এতটা সহজ নয়। এই দাঁড়িয়ে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। পছন্দের মানুষের হাতে ঈদ উপহার তুলে দিতে। ঈদ যাত্রার সব ঝক্কি-ঝামেলাকে উপেক্ষা করে মানুষ পৌঁছাক তার আপন নীড়ে। ঈদ আনন্দে মেতে উঠুক প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ জুন ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC