ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

শেখ রাসেল আজ ভালোবাসার নাম

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৮ ১১:৪২:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৮ ১১:৪২:৩৭ এএম

শাহ মতিন টিপু: শহীদ শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই।

সবার ছোট হওয়ায় পরিবারের সকলের কাছেই তিনি অতি আদরের ছিলেন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্ম তার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি ফুলের মতো এই শিশুটিও। বঙ্গবন্ধুর সাথে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। আত্মস্বীকৃত খুনিরা তাকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, তাদের অপচেষ্টা শতভাগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিবোধ সম্পন্ন মানুষদের কাছে ভালোবাসার নাম।

আওয়ামী লীগ নেত্রী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এক স্মৃতিচারণে জানান, ছোট ভাই রাসেলের স্মৃতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুব বেশি তাড়া করে ফেরে। নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদের কাছে অনেক সময় রাসেলের গল্প করতেন। একদিন তিনি বললেন, রাসেল যখন জন্মগ্রহণ করে তখন আব্বা জেলে। রাসেল পৃথিবীতে আসার পরে প্রথম আমি তাকে কোলে নেই।

বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর মা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবের পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন শেখ রাসেল। বড় বোন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বড় ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামাল এবং আরেক বোন শেখ রেহানা।

মৃত্যুকালে শেখ রাসেল ছিলেন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। সংসারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে রাসেল সকলের কাছে অত্যন্ত প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছিলেন।

মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব বই পড়তে ভালবাসতেন এবং বৃটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে বেগম মুজিব বার্ট্রান্ড রাসেলের অনেক বিবরণ শুনেছেন। বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে শেখ রাসেলের নামকরণ করা হয়।

রাসেলের ছোটকাল একরকম বাবাকে ছাড়াই কেটেছে। কারণ তার বাবা রাজনৈতিক বন্দী হয়ে কারাগারে ছিলেন দীর্ঘদিন। বাবাকে দেখতে না পেয়ে মা ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে আব্বা বলে সম্বোধন করতেন রাসেল। ‘কারাগারে রোজনামচা’ বইয়ে শেখ মুজিব অসংখ্যবার রাসেলের কথা তুলে ধরেছেন এবং তার নিকট যে ছোট্ট সন্তান খুব প্রিয় ছিল সেটিও ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তিনি মাঝে মাঝে নিজেকে বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেন ছেলেটিকে সময় না দেওয়ার কারণে।

রাসেলের জন্মের সময় বঙ্গবন্ধু ছিলেন চট্টগ্রামে। রাসেলের জন্মটি পরিবারের সকলের কাছে ভিন্ন আনন্দের মাত্রা প্রদান করে। রাসেলের জন্মের সাথে সাথে বড় ভাইবোনদের সকলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে রাসেলের পরিচর্যায়। রাসেলের যা যা ভালো লাগে সেগুলো কিংবা সে বিষয়গুলি সবাই করার চেষ্টা করতেন। রাসেলের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিতেন বঙ্গবন্ধু। সভা-সমাবেশ করে ফিরতে রাত হলেও রাসেলকে ঘুমের মধ্যে আদর করতেন শেখ মুজিব। জন্মালগ্ন থেকেই রাসেল ছিলেন চঞ্চল প্রকৃতির। সারাবাড়ি সবসময় মাথায় তুলে রাখতেন।

রাসেলের চরিত্রে আভিজাত্যের ছোঁয়া ছিল, গাম্ভীর্যতাও লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি এবং সময়ের দাবি মিটিয়ে রাসেল তাল মিলিয়ে চলেছেন। বাড়িতে দুষ্টুমি করত সবসময়, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সফরে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন সর্বদাই। অনুষ্ঠান এবং পরিস্থিতির সাথে মিল রেখেই পোশাক পরিধান করতেন ছোট্ট শিশু রাসেল। সচরাচর প্রিন্স কোট, সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও মুজিবকোট পরতেন।

রাসেল ৪ বছর বয়সে প্রথমে স্কুলে যাওয়া শুরু করেন। প্রথম দিকে পরিবারের কাউকে না কাউকে স্কুলে দিয়ে আসতে হত। ধীরে ধীরে নিজেই আগ্রহ নিয়ে স্কুলে যেতেন এবং স্কুলে তার বেশ কিছু বন্ধুও জুটেছিল। বন্ধুবৎসল ছিলেন রাসেল। পর্যায়ক্রমে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে উঠেন রাসেল। নিজেই পড়তে বসতেন।

ওয়াজেদ মিয়ার ভাষ্যমতে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাসেল ঘৃণিত আর্মিদের বলেছিলেন: “আল্লাহর দোহাই, আমাকে জানে মেরে ফেলবেন না। বড় হয়ে আমি আপনাদের বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে থাকবো। আমার হাসু আপা দুলাভাইয়ের সাথে জার্মানিতে আছেন। আমি আপনাদের পায়ে পড়ি, দয়া করে আপনারা আমাকে জার্মানিতে হাসু আপা ও দুলাভাই-এর কাছে পাঠিয়ে দিন।” এমন আকুতি স্বত্ত্বেও ছোট্ট বাচ্চাটিকে রেহাই দেয়নি খুনীরা।

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আজ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ অক্টোবর ২০১৮/টিপু

Walton Laptop