ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

উপকূল দিবসের আয়োজন, শুভ সন্ধ্যায় জ্বলছে মোমবাতি

খায়রুল বাশার আশিক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-১১ ৯:১২:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-১১ ৯:১৫:১৯ পিএম

খায়রুল বাশার আশিক : ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়কে স্মরণ ও উপকূল দিবসের আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ উপকূলীয় জেলা বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে জ্বালানো হয়েছে ১০০১টি মোমবাতি। ১৯৭০ এর বন্যায় নিহতদের স্মরণ ও ১২ নভেম্বর দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণই এই আয়োজনের অন্যতম প্রতিপাদ্য। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা ঘটে এ বছরের উপকূল দিবসের। সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টুর সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় এমন আয়োজনের আয়োজক ছিলেন স্থানীয় সংবাদিক আরিফুর রহমান।

জানা যায়, ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বরের প্রলয়ে উপকূলের ১০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ৫ লাখ। ৭০-এর ১২ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়টির নাম ছিল ‘ভোলা সাইক্লোন’। সেই সব মানুষকে স্মরণ করেই ১২ নভেম্বর দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে পালনের দাবি উঠেছে সমগ্র উপকূল জুড়ে। চলমান বছরে ‘উপকুল দিবস’ পালনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে উপকূলীয় ১৬ জেলার মানুষ। তারই অংশ হিসেবে উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলীর নলবুনিয়া শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি চাকরিজিবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, বেসরকারি সংস্থার উন্নয়নকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শুভ সন্ধ্যা সৈকতের আজকের আয়োজন।

বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সৈকতে আজকের আয়োজনের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, ঘূর্ণিঝড়ে প্রয়াতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, ঘুড়ি উড়ানো, ফানুস উড়ানো, আলোক মিছিল ইত্যাদি। আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সৈকতে আজকের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে নানা দিক বিবেচনা করে। উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগ সচেতনতা বাড়াতে আজ আয়োজনে আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া উপকূলীয় শিশুদের বন্যাকালীন ভয় কমিয়ে আনার লক্ষে আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উড়ানোর। ১৯৭০ সালে বন্যায় প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করে জ্বালানো হয় মোমবাতি। দেশের জাতীয় পর্যায়ের মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের প্রতীকী আবেদনের অংশ হিসেবে আজকের আয়োজন থেকে ফানুস উড়ানো হয়। ভবিষ্যতে উপকূলীয় মানুষের প্রতি সরকারি নজরদারি বৃদ্ধির কামনায় অনুষ্ঠিত হয় আলোক মিছিল। আজ ১১ নভেম্বর, দুপুরের পরেই আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ হয়। বিকেল থেকেই উপকূল দিবসের আয়োজনের অংশ হিসেবে শুভ সন্ধ্যা সৈকতে ঘুড়ি উড়ানো শুরু হয়।

উপকূলের হাজারো প্রতিবন্ধকতা ও উপকূলীয় মানুষের দুঃখ গাঁথা জীবনের অবসানে দেশের জাতীয় পর্যায়ের মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের তাগিদে এমন সব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবছেন স্থানীয় গণ্যমান্যরা। উপকূল রক্ষা ও নানা প্রাকৃতিক সংকটে উপকূলের মানূষের সচেতনতা আনায়নে এমন আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক ও স্থানীয় সংবাদিক আরিফুর রহমান।

 



এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, উপকূলীয় মানূষের জীবনযাত্রা থমকে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শত ঝুঁকিতে তারা বেড়ে উঠলেও দুর্যোগ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়ছেনা। দুর্যোগ ঝুঁকিতে উপকূলের মানুষের অসচেতনতা জন্ম দিতে পারে নতুন কোনো একটি দুর্যোগ বিপর্যয়। তাই জনসচেতনতা আনায়নে এই দিনটিকে (১২ নভেম্বর ১৯৭০) উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিৎ স্বয়ং সরকারের তরফ থেকে।

দিবসটি পালনের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে রাইজিংবিডির উপকূলীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টূর ভূমিকার কথা তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আরিফ রহমান। তিনি জানান, ১৯৭০ এর ঘূর্ণিঝড়ের ইতিবৃত্ত অনুসন্ধান করে ১২ নভেম্বর দিনটিকে উপকূল দিবস হিসেবে পালনের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টূ। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আজ সমগ্র উপকূলে বেসরকারি ও স্থানীয় আয়োজনে হলেও পালিত হচ্ছে উপকূল দিবস।

এত দিবসের ভিড়ে উপকূলের জন্য একটি পৃথক দিবস প্রসঙ্গে উপকূল দিবস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও উপকূল-সন্ধানী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, উপকূলের দিকে গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়িয়ে উপকূলবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ঘটানোই উপকূলের জন্য একটি দিবস প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। এক যুগেরও বেশি ধরে উপকূল নিয়ে নিবিড়ভাবে রিপোর্টিং করতে গিয়ে আমি উপকূল দিবসের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি। উপকূলের জন্য একটি পৃথক দিবস থাকলে উপকূল ভাবনা সবার মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল, সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সকল মহলে উপকূল-ভাবনার সুযোগ বাড়বে। এর মধ্য দিয়ে উপকূল সুরক্ষা এবং সেখানকার নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ নভেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC