ঢাকা, শুক্রবার, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শীত তাড়াতে জনপ্রিয় রসুয়া-জিলাপি!

জুনাইদ আল হাবিব : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-১৭ ৫:২৪:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-১৭ ৫:২৪:৩১ পিএম
শীত তাড়াতে জনপ্রিয় রসুয়া-জিলাপি!
Voice Control HD Smart LED

জুনাইদ আল হাবিব : দেশের গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, ততই শীত তাড়াতে নানা পন্থা অবলম্বন করছেন মানুষ। গ্রামাঞ্চলের এক ব্যতিক্রমী গল্পের সঙ্গে হয়তো শহুরে মানুষের খুব একটা পরিচয় নেই তেমন। শীতে শরীরটা গরম রাখতে ভিন্ন রেওয়াজ কেবল গ্রামেই চোখে পড়ে বেশি।

তেমনই একটি উপায় হচ্ছে, গ্রাম্যহাটের মিষ্টি ব্যবসায়ীদের নিপুণ হাতে তৈরি রসুয়া ও জিলাপি খাওয়া। শীতের শুরু থেকে শেষ নাগাদ গ্রামগঞ্জের হাটে এ ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও চাঙা থাকে। ভ্রাম্যমাণ চুলা, বড় পাতিল, কাঠের মতো জ্বালানি সামগ্রী ভ্যান কিংবা রিকশাতে করে হাটবাজারে নিয়ে যান তারা। আড্ডারত বন্ধুরা বেশ মজা করেই একদিকে যেমন শীত দৌঁড়াতে রসুয়া-জিলাপি খান, অন্যদিকে তাদের খিদের চাহিদাও মিটে যায়।

শীতকাল এলেই গ্রামের প্রতিটি হাটবাজারে, অলিতে-গলিতে এ ব্যবসার পসরা বসে। বিশেষ করে রাতের দিকে গ্রামের হাটবাজারগুলোতে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। তখনি জমজমাট রসুয়া ও জিলাপির কেনাবেচা। হৈ-চৈ আর আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে মানুষ প্রাণভরে খান এ মিষ্টিজাত খাদ্যটি। খুব কম মানুষই আছেন, যারা রসুয়া-জিলাপির দিকে তাকালে জিভে পানি না আসবেনা। এমনই একটি বাস্তবচিত্র চোখে পড়েছে উপকূলের গ্রাম অধ্যুষিত জনপদ লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর মনসা গ্রামের মিয়ারবেড়ী বাজার ও পাশের উপজেলা কমলনগরের তোরাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, বলিরপোল বাজার ও মতিরহাটে। সন্ধ্যার আঁধার নামলেই শুরু হয় রসুয়া-জিলাপির হাট। কেউ নিজে খান, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে খান, কেউবা আবার স্বজনদের জন্য পলিথিন ভর্তি করে বাড়ি নেন রসুয়া-জিলাপি।

এমনও দৃশ্য দেখা যায়, একদম ভোরে কুয়াশাচ্ছন্ন আমন ক্ষেত। এক একর দূর থেকে যখন কাউকে কুয়াশার জন্য দেখা যায় না, ঠিক তখনি রসুয়া নিয়ে ছোটেন বিক্রেতারা। টার্গেট থাকে যেখানে ধানের মেশিন দিয়ে আমন ধান মাড়াই করা হয়। মেশিনে ধান মাড়াই করা শ্রমিকরাও শরীরে শক্তি যোগাতে রসুয়ার বিকল্প দেখেন না। তাই রসুয়া চলে ভালো। হয়তো টাকা হিসেব-নিকেশ, না হয় ধানের বিনিময়ে রসুয়া বিক্রি করা হয়।



চর মনসা গ্রামের মহিন উদ্দিন। বয়স ঠিক ৫০ এর কাছাকাছি। বেশ কয়েক বছরেই তিনি শীতকাল এলে গরম গরম রসুয়া-জিলাপি তৈরি করে  মানুষের মুখের তৃপ্তি মেটান। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলছিলেন, ‘আঁই গাঁঙ্গে ভাঙা (নদীভাঙা) মানুষ। শীতকালে আঁর তেমন কোনো কাজ-কাম নাই। ইয়াল্লাই (এজন্য) ৩ বছর ধরি এ কাজ করি। মোটামুটি পোলাইন-সাবাইনের মুখে দুই মুঠো ভাত দিতে হারি। প্রতি কেজি রসুয়া বিক্রি করি ১শ’ টিয়া (টাকা)। এভাবেই শীতে দিন কাড়াই।’

চর মার্টিন গ্রামের শফিক উল্লাহ। বয়স ৪০ গড়িয়েছে তার। মিষ্টি ব্যাপারী শফিক নামেই যিনি এলাকায় বেশ পরিচিত। তিনি মিষ্টি তৈরি করেন, বিক্রিও করেন। এর সঙ্গে যুক্ত করেছেন স্ত্রী, সন্তানদের। বছরজুড়ে বাড়িতে তিনি মিষ্টি তৈরি করেন। বিভিন্ন মিলাদ, মাহফিল, বিয়ে, হালখাতার মতো অনুষ্ঠানের আগাম অর্ডার নেন তিনি। এদিক থেকে দারুণভাবেই সফল তিনি। ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার জীবিকা এদিকে গতিময়। তাই তিনি মিষ্টি ব্যাপারী শফিক। শীত এলেই তিনি সন্তানদের নিয়ে গ্রামের লোকসমাগম ঘটা হাট-বাজারে রসুয়া-জিলাপি তৈরির জন্য ছুটেন। তিনি এর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘যার চাহিদা যতটুকু, সেভাবেই মূলত আমি বিক্রি করি। মানুষের চাহিদা এমন যে অনেক সময় তাদেরকে সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয়। রসুয়া, জিলাপি, মিষ্টি বানাতে ময়দা, চিনি আর মিঠাই দরকার। বাজারে এ ধরনের মাল পাই বলে কাজ করতে একটু সুবিধা হয়। শীতকালে রসুয়া আর জিলাপির ব্যাপক চাহিদা থাকার একমাত্র কারণ হচ্ছে, রসুয়া-জিলাপি খেতে একদিকে যেমন মজা, ঠিক অন্যদিকে যারা খায় তাদের শরীরটা চাঙা হয়। বেশিরভাগ যুবক ও বয়স্ক শ্রেণীর লোকজন এ রসুয়া-জিলাপির লোভ সামলাতে পারে না।’

আক্তার হোসেন নামের একজন রসুয়া খেয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান দিয়ে বলছিলেন, ‘রসুয়া না খেলে শীতকেও উপভোগ করা যায় না। শীত যেন রসুয়া খাওয়ার জন্যই আসে। তাই রসুয়া না খেলে যেন আমরাও ভালো থাকি না। আমার বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খুব মজা করেই রসুয়া খেয়েছি। তবে রসুয়া গরম গরম খেতে পারলে বেশি স্বাদ। তত খাবেন তত ভালো লাগে।’




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ নভেম্বর ২০১৮/ফিরোজ

Walton AC
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন
       

Walton AC
Marcel Fridge