ঢাকা, রবিবার, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ২২ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

অসুখের নাম ‘ভুলে যাওয়া’

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-২১ ১:৪৯:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২১ ৩:৩৫:৫০ পিএম

শাহ মতিন টিপু : অসুখের নাম ‘ভুলে যাওয়া’।পরিচিত লোকের নামও ভুলে যাচ্ছেন, চেনা পথও ভুল হয়ে যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় জিনিসও মন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, কথা বলার সময়ে ঠিক শব্দটা খুঁজে পাচ্ছেন না -এটা একটা অসুখ।

যদি আপনার বয়স ষাট ছাড়িয়ে থাকে, আর সমস্যাটি যদি ঘনঘন হয়, তা হলে বুঝতে হবে এটা ‘ডিমেনশিয়া’। যাকে বলা হয় স্মৃতিলোপ । স্মৃতিলোপের এই সব ঘটনা যদি নিয়মিত হতে থাকে, তাহলে সেটা অ্যালঝেইমার্স। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে এই দাঁড়াল যে ‘ভুলে যাওয়া’ রোগটিই হচ্ছে অ্যালঝেইমার্স ।

কেন অ্যালজাইমার্স ? প্রশ্নটির জবাব বিশেষজ্ঞরা এভাবে দিয়েছেন- মস্তিষ্কের মধ্যে প্রোটিন জমে এমন কিছু বাধা তৈরি হয়, যাতে স্নায়ুকোষগুলির মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ নষ্ট হয়ে যায়। কিছু রাসায়নিক যা স্নায়ুকোষের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করে তারও ঘাটতি দেখা যায়। ক্রমশ সমস্যা বাড়তে থাকে।

তাদের মতে, সারা বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে ৬৮ জন লোক আক্রান্ত হয় এই রোগে।এই রোগ সারানো যায় না শুধু চিকিৎসায় এর অগ্রগতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়।

ভুলে যাওয়া কখনই ভাল নয়। ডিমেনশিয়া হতে পারে নানা কারণেই। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তির ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে একজন মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। আবার বয়স ছাড়াও কখনও কখনও ভুলে যাওয়ার বাতিক লক্ষ্য করা যায়। মাঝে মধ্যে ভুলে যাওয়া মানেই স্মৃতিশক্তির কঠিন সমস্যা নয়। তবে তা বড়ো আকার ধারণ করলেই ঘটে বিপত্তি।

হ্যাঁ, বয়স ছাড়াও নানা কারণে স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে। পারিবারিক ঝামেলার চাপ, মাথায় আঘাত, থাইরয়েড, ডায়াবেটিকস, হাই কোলেস্টরল, ক্লান্তি, বিষন্নতা, নিঃসঙ্গতা এসব কারণেও স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে।

ভুলে যাওয়ার ঘটনা মাঝে মাঝে হতেই পারে। তবে বারবার হতে থাকলে অবশ্যই সেটা একটু চিন্তারই কারণ । বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কোষ বা নিউরণগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। ফলে স্মৃতিভ্রংশ হয়। ডিমেনসিয়ার বিশেষত্ব হলো ভুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে। কারণ মস্তিষ্কের সামনের অংশ ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে। ডিমেনসিয়া রোগে এই অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফলে ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন হয়। সাধারণত ৮০ বছরের পর ডিমেনসিয়া হয়। তবে অনেক সময় নিজের অজান্তেই মস্তিস্কে ছোট ছোট স্ট্রোকের ফলে কোষ শুকিয়ে যেতে থাকে। সেক্ষেত্রে ৮০’র আগেও ডিমেনসিয়া হতে পারে। আর ডিমেনসিয়ার পরের ধাপই অ্যালঝেইমার্স।

প্রতিকারের উপায় : মস্তিষ্কের নিউরোসেল সক্রিয় রাখার চেষ্টা করতে হবে, শরীর সচল রাখতে হবে ফলে তা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ঘটাবে, মাথায় বড় আঘাত থেকে সতর্ক থাকতে হবে, রক্তচাপ ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে, চর্বি কম খেতে হবে, ধূমপান সর্বাগ্রে বর্জনীয়। তবে বই পড়ার অভ্যাস ডিমেনসিয়া প্রতিরোধে দারুণ সাহায্য করে।

আপনার নিজ থেকে আরও কিছু করণীয় আছে। যেমন- মস্তিষ্ক সজাগ রাখুন, খবরের কাগজ পড়ুন, সামাজিক অনুষ্ঠানে যান, সকলের সঙ্গে মিশুন, নিয়মিত অনুশীলন করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রক্তচাপ ও কোলস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা করুন, কাঁচা লবন কম খান, রাতে সারাদিনের ঘটনা মনে করার চেষ্টা করুন, কবিতা পড়ুন, গান শুনুন, ছবি দেখুন, মন খুলে হাসুন ইত্যাদি।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউরোলজির একটি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, অ্যালঝেইমার্স প্রতিরোধে মাছের তেল বিশেষ উপাদেয়। কারণ- মাছের তেলে মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি করে। ২০১৪ সালে নারীদের স্বাস্থ্য ও স্মৃতি সংক্রান্ত একটি গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয় মাছের তেল অ্যালঝেইমার্সের মতো জটিল অসুখও প্রতিরোধ করে।

গবেষকরা জানান, মাছের তেলে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধি করে। বয়স্কদের স্মৃতিধারণ ক্ষমতা বাড়াতেও এটি খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এই সমীক্ষার জন্য গড়ে ৭৮ বছর বয়সি ১১১১ জন নারীর লোহিত রক্তকণিকায় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

আজ বিশ্ব অ্যালঝেইমার্স দিবস । প্রতি বছর ২১ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। আর সে কারণেই লেখাটির অবতারণা।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/টিপু

Walton
 
   
Marcel