ঢাকা, বুধবার, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

এরই নাম স্বাস্থ্যসেবা!

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-১০ ২:০১:৪৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২১ ৭:১৫:১৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মধ্যে ৯টিতেই কোনো ডাক্তার নেই। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরও জনবল সংকট চরমে।

এ অবস্থার মধ্যেই নাকি চলছে স্বাস্থ্যসেবা! তা কীভাবে সম্ভব, সেটাই প্রশ্ন স্থানীয় সচেতন মহলের। তবে এমন পরিস্থিতিতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানের গ্রামের মানুষ। অথচ সেদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো নজরই নেই।

১৯৭৮ সালে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০০০ সালে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক লোকবলের অভাব আজ অবধি রয়েই গেছে।

জানা যায়, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯ টি পদের মধ্যে ৬৫টি পদ শূন্য। ৩১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নসহ আছেন ১৫ জন। এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছেন ১৪ জন। ৭ জন ডাক্তারের পদ শূন্য। এছাড়াও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০ জন ডাক্তরের স্থানে মাত্র ১ জন ডাক্তার রয়েছেন (৬নং সদর ইউনিয়নে)।

নার্সের পদ খালি ১ জন, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার আছেন ২৪ জন। খালি আছে ৩টি পদ। এছাড়া ও শূন্য আছে অফিস সহকারী পদে ৩জন, পরিসংখ্যানবিদ ১, ফার্মাসিস্ট ১, জুনিয়র মেকানিক ১, প্রধান সহকারী ১, ক্যাশিয়ার ১, মালি ১, নিরাপত্তা প্রহরী ১, ক্লিনার ১, মিডওয়াইফ ৪, ওর্য়াডবয় ১ খালি রয়েছে।

কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপেক্সে বর্তমানে ১৪ জন ডাক্তার ও ২০ জন নার্স এবং অপারেশনের সকল যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে অপারেশন করা হয় না বলে অভিযোগ। কর্মরত কিছু ডাক্তারের অবহেলা, উদাসীনতার কারণে কেশবপুরের মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিমুখ হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে রোগী বের হওয়ার সাথে সাথে কিছু ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছবি তোলেন। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের জন্যে আসা অনেক রোগীকে অপারেশন বা চিকিৎসাসেবা না দিয়ে অধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার অজুহাতে শহরে তাদের নিজস্ব চেম্বারে নিয়ে যান বলে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ।

এছাড়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাক্তার সংকটের কারণে গ্রামের রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা নিয়মিত অফিসে আসেন না।

সরেজমিনে মজিদপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে  গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ডাক্তার নেই। তবে সহকারী মেডিকেল অফিসার চপল সাহা ১১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেন বলে জানান। হাসানপুর, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও কোনো ডাক্তারের দেখা মেলেনি। দেউলীর মাজেদা খাতুন ও হাসানপুরের ফারুক জানালেন, ডাক্তার না থাকায় অন্যদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে তাদের।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্যে শুধু ডাক্তার আছে। বাকী ৯টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারদের পদ শূন্য। শূন্য পদে পদায়নের জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পদগুলো পূরণ হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

 

রাইজিংবিডি/যশোর/১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/বিএম ফারুক/টিপু

Walton Laptop
 
     
Walton