ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

গোমর ফাঁস : ট্রাম্পপুত্রের সঙ্গে রুশ আইনজীবীর বৈঠক

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১০ ৫:৪১:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-২০ ৮:০০:১৬ পিএম
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পুত্র ট্রাম্প জুনিয়র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট মহলের কোনো সদস্য ও রাশিয়ার কোনো ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি বৈঠকের গোমর ফাঁস হলো।

এই প্রথম নিশ্চিত হওয়া গেল ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও রাশিয়ার আইনজীবী নাটালিয়া ভেসেলনিৎস্কায়ার মধ্যে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প জুনিয়র।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার বাবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নাটালিয়া ভেসেলনিৎস্কায়া ‘ক্ষতিকর তথ্য’ দিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও ট্রাম্প জুনিয়ার দাবি করেছেন, হিলারির বিরুদ্ধে ‘অর্থপূর্ণ কোনো তথ্য’ সরবরাহ করেননি ভেসেলনিৎস্কায়া।

ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, ওই সময়ে ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের প্রধান পল জে মানাফোর্ট ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখছে মার্কিন কর্মকর্তারা। ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এ ইস্যুতে ভীষণ চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প ও তার প্রশাসন।

বৈঠক কবে হয় এবং কীভাবে তা সামনে আসে?
রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ২০১৬ সালের ৯ জুলাই নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ট্রাম্প টাওয়ারে এ বৈঠক হয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ট মহলের কোনো সদস্য ও রাশিয়ার কোনো ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এটি।

এ বৈঠকের বিষয়ে শনিবার প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এরপর ট্রাম্প জুনিয়র বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেননি, বৈঠকটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্যাম্পেইনের বিষয়ে হয়েছিল কিনা।

রোববার আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক টাইমসে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, হিলারি ক্লিনটনের ক্ষতি হতে পারে এমন তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর বৈঠকে রাজি হন ট্রাম্প জুনিয়র। এ বিষয়ে অবহিত হোয়াইট হাউসের তিন উপদেষ্টা এবং বিষয়টি জানেন, এমন আরো দুজনকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে নিউ ইয়র্ক টামইস।

ট্রাম্প জুনিয়র বলেছেন, ২০১৩ সালের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার সময় পরিচিত হওয়া এক ব্যক্তি এ বৈঠকের আয়োজন করেন। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি রব গোল্ডস্টোন-ই হবেন। তার সঙ্গে রাশিয়ার সংগীতাঙ্গনের ভালো যোগাযোগ রয়েছে।

রোববারের বিবৃতিতে ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, ‘তিনি (গোল্ডস্টন) আমাকে এমন একজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বলেন, যার কাছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারে উপকারে আসতে পারে... বৈঠকের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাকে তার নাম বলা হয়নি। আমি জ্যারেড (কুশনার) ও পলকে (মানাফোর্ট) বৈঠকে থাকতে বলি কিন্তু বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের কিছু বলা হয়নি।’

বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল?
ট্রাম্প জুনিয়রের বিবৃতি অনুযায়ী, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ওই নারী (রুশ আইনজীবী) বলতে শুরু করলেন, রাশিয়ার এমন কিছু ব্যক্তির তথ্য তার কাছে আছে, যারা ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি ও হিলারি ক্নিনটনকে অর্থ দিচ্ছেন। কিন্তু তার বক্তব্য ছিল ভুল তথ্যে ভরা, ধোঁয়াশার মতো এবং সেসবের কোনো অর্থই ছিল না। সাহায্য করার মতো তথ্য দেওয়ার ছলে বৈঠক আয়োজন করা হয়।

শনিবার আইনজীবী নাটালিয়া ভেসেলনিৎস্কায়া জোর দিয়ে বলেন, তাদের মধ্যকার সমস্ত আলোচনায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের বিষয়ে কিছুই ছিল না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, রাশিয়ার সরকারের হয়ে তিনি কিছুই করেননি এবং রুশ সরকারের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে এ বিষয়ে তিনি কোনো আলাপ করেননি।

ম্যাগনিৎস্কি অ্যাক্ট কী এবং নাটালিয়া ভেসেলনিৎস্কায়া কে?
২০১২ সালে ম্যাগনিৎস্কি অ্যাক্ট অনুমোদন করে মার্কিন কংগ্রেস। এই আইন বলে রাশিয়ার সেসব কর্মকর্তার ভিসা ও আর্থিক সম্পত্তি জব্দ করা যায়, যাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এই আইন করায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে, তিনি আমেরিকানদের জন্য রাশিয়ান শিশুদের দত্তক নেওয়া নিষিদ্ধ করে দেন।

ক্রেমলিনের ঘনিষ্ট ব্যক্তি ও কোম্পানির মামলা লড়ে থাকেন বলে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে আইনজীবী ভেসেলনিৎস্কায়ার। এ ছাড়া ম্যাগনিৎস্কি অ্যাক্টের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোয় প্রধান ভূমিকা রাখেন তিনি।

ট্রাম্প টিমের বাকিদের প্রতিক্রিয়া কী?
এ বিষয়ে কুশনার ও মানাফোর্ট কোনো মন্তব্য করেননি। তবে কুশনারের আইনজীবী দাবি করেছেন, তার মক্কেল এর আগেই বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেসের তদন্তকারীদের কাছে বৈঠকের বিষয়ে জানিয়েছেন মানাফোর্ট।

ট্রাম্পের লিগ্যাল টিমের মুখপাত্র বলেছেন, এ বৈঠকের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট অবহিত ছিলেন না এবং তিনি বৈঠকেও ছিলেন না। হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা রেইন্স প্রাইবাস বলেছেন, সেটি তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকই ছিল না।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জুনিয়ার বলেছিলেন, নির্বাচনী প্রচার নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার কারোর-ই সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কেন তদন্ত হচ্ছে?
অভিযোগ উঠেছে, রাশিয়ার হ্যাকাররা হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারের তথ্য চুরি করে এবং তা উইকিলিকসের কাছে দেয়। সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকিস তা ফাঁস করে এবং এতে সুবিধা পায় ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল কমিটি ও বিশেষ কৌঁসুলিরা তদন্ত করে দেখছে, ট্রাম্প টিম ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো আঁতাত হয়েছিল কিনা। তবে তদন্তকারীরা এখনো এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি, যাতে প্রমাণিত হয়, তাদের মধ্যে আঁতাত হয়েছিল।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ছাড়াও অন্য দেশও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারে এবং এই হস্তক্ষেপের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে ঘটে আসছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জুলাই ২০১৭/রাসেল পারভেজ

Walton Laptop