ঢাকা, বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বর্ষসেরা প্রভাবশালী ‘নীরবতা ভাঙা’ সেই নারীরা

রাসেল পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৬ ৭:৩২:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ১০:৩৩:২৫ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উন্নত বিশ্বে শীর্ষ পর্যায়ে যৌন হয়রানি ও নারীদের হেনস্তার বিষয়ে ‘নীরবতা ভেঙে’ দোষীদের শাস্তি দাবি করে তোলপাড় সৃষ্টিকারী সেইসব নারী এবার টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে সম্মিলিতভাবে ‘বর্ষসেরা প্রভাবশালী’ ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছেন।

হলিউডের নামকরা প্রযোজক হার্ভে ওয়েনস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে এবং এর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে তার শাস্তি দাবি করেন এক অভিনেত্রী। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ে ‘#মিটু’। অনেকে নীরবতা ভেঙে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন শোষণ ও নিপীড়নের গল্প বলতে শুরু করেন ‘#মিটু’ ব্যবহার করে।

বুধবার টাইম ম্যাগাজিন তাদের অনলাইন সংস্করণে বর্ষসেরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এবার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতবছর তিনি ছিলেন প্রথম।

টাইম ম্যাগাজিন তার ব্যাখ্যায় বলেছে, নীরবতা ভাঙা নারীদের প্রভাবশালী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে #মিটু-ই সব কিছু নয়, বরং একটি খণ্ড চিত্রমাত্র। মূলত বিশ্বজুড়ে যেভাবে নারীরা, কিছু ক্ষেত্রে পুরুষরাও সাহসিকতার সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে হওয়া যৌন নিপীড়নের গল্প বলেছেন, সেটিই আসল ব্যাপার।

টাইমের এডিটর-ইন-চিফ বলেছেন, ‘গত কয়েক দশকের মধ্যে আমাদের দেখা সবচেয়ে দ্রুতগতিতে হওয়া সামাজিক পরিবর্তন এটি।’ এনবিসির ‘টুডে প্রোগাম’-এ তিনি বলেন, ‘শত শত নারী, কিছু পুরুষও আছেন, যাদের ব্যক্তিগত সাহসিতকার জায়গা থেকে এটি শুরু হয়, তারা তাদের নিজের গল্প বলতে এগিয়ে এসেছেন।’

ভালো বা মন্দ- যেকোনোভাবে বিশ্বে প্রভাব বিস্তারকারীদের মধ্য থেকে ১৯২৭ সাল থেকে প্রতিবছর ‘ম্যান অব দি ইয়ার’ (বর্ষসেরা) শিরোনামে ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করে আসছে টাইম ম্যাগাজিন। তাদের ৯০ বছরের এই যাত্রায় কিছু ব্যক্তিক্রম বাদে প্রভাবশালী হিসেবে একক ব্যক্তিই নির্বাচিত হয়েছেন সবসময়। তবে ২০১৪ সালে ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা কর্মীদের ‘ইবোলা ফাইটার্স’ এবং ২০১১ সালে আরব বসন্তের বিপ্লবীদের ‘দি প্রোটেস্টার্স’ হিসেবে সম্মিলিতভাবে বর্ষসেরা প্রভাবশালী হিসেবে সম্মানিত করে টাইম কর্তৃপক্ষ। এবার হলেন ‘সাইলেন্স ব্রেকার্স’ নামের সেইসব নারী, যারা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

যৌন সহিংসতা, হেনস্তা ও হয়রানির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন : মার্কিন অভিনেত্রী, প্রযোজক, অ্যাক্টিভিস্ট ও গায়িকা আলিসা মিলানো (৪৪), যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রামস অ্যাট গার্লস ফর জেন্ডার ইকুইটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও অ্যাক্টিভিস্ট তারানা বুর্ক (৪৪), মার্কিন অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ার (৪৫), আমেরিকান রাজনীতিক ও অরেগন রাজ্যের সিনেটর সারা গেলসার (৪৩), ইন্টারনেটে নজরদারির বিরুদ্ধে এবং নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তার জন্য কাজ করা অ্যানোনিমাস গ্রুপের অ্যাক্টিভিস্ট ২৮ বছর বয়সি হাসপাতাল কর্মী, মার্কিন সংগীত শিল্পী ও গীতিকার টেইলর সুইফট।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রে যৌন হেনস্তার ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। ২১ নভেম্বর প্রকাশিত ওই জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নারী ঘরে, বাইরে, কর্মস্থলে বিভিন্ন স্থানে যৌন হয়রানির শিকার হন। #মিটু যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, তখন এই চিত্র উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস থেকে সিলিকন ভ্যালি, হলিউড পর্যন্ত সর্বত্রই নারীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, এমন চিত্র কম-বেশি সব দেশেই।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ ডিসেম্বর ২০১৭/রাসেল পারভেজ

Walton
 
   
Marcel