ঢাকা, শুক্রবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

আবারও সাগর পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গারা, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

শাহেদ হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৯ ১২:১৯:০৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-১১ ৮:০৯:২১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এখনো রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিচ্ছে। নতুন করে এভাবে নৌকায় করে সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের মতো মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি  করতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তা ও ত্রাণকর্মীদের বরাত দিয়ে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, বুধবার বঙ্গোপসাগর দিয়ে মাছ ধরার নৌকায় করে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে টেকনাফ থেকে ৩৩ রোহিঙ্গা ও ছয় বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।   সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে মিয়ানমারের পশ্চিমের রাখাইন রাজ্য থেকে  রোহিঙ্গাদের কয়েকটি নৌকা ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা।

নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে সাগর সাধারণত শান্ত থাকে। আর এই সময়টাতে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারীরা মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের সাগরপথে নৌকায় করে পাচার করে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া অভিমুখী বিপদসঙ্কুল এই যাত্রায় অনেক সময় ছোট নৌকায় অতিরিক্ত লোক থাকায় সেগুলো সাগরে ডুবে যায় এবং অনেকের মৃত্যু হয়।

২০১৫ সালে উপকূলে কয়েকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর থাইল্যান্ড মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ওই সময় অনেক পাচারকারী নৌকাবোঝাই রোহিঙ্গাদের  আন্দামান সাগরে ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে শুরু করে।

রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ে থেকে সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের নৌকায় করে সাগর পাড়ি দেওয়ার খবর দিয়েছেন ত্রাণকর্মীরা। তবে  এ পর্যন্ত কতটি নৌকা মিয়ানমার উপকূল ছেড়ে গেছে সে ব্যাপারে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিতওয়ের এক ত্রাণকর্মী অবশ্য জানিয়েছেন, অক্টোবরের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত অন্তত চারটি নৌকা ছেড়ে গেছে। এর কয়েকটি ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া পৌঁছে গেছে। এসব নৌকার কয়েকটিতে নারী ও শিশু রয়েছে যারা মালয়েশিয়া থাকা স্বজনদের কাছে যাওয়ার জন্য দেশ ছেড়েছেন।

রোহিঙ্গাদের নতুন করে নৌকায় করে সাগর পাড়ি দেওয়ার খবর এমন সময় বের হলো যখন আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যৌথ ঘোষণা দিয়েছে।  রোহিঙ্গারা অবশ্য নাগরিকত্ব ও স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আরকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা ফাঁদে আটকা পড়েছে। তাদের কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। কেউ তাদের চায় না এবং তারা এখন প্রত্যাবাসনের হুমকিতে পড়েছে।’

 

 

 

রাইজিংবিডি/৯ নভেম্বর ২০১৮/শাহেদ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC