ঢাকা, সোমবার, ১১ আষাঢ় ১৪২৫, ২৫ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

আইনমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অ্যাডভোকেট মিতা

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৬ ৮:৩৩:৪১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-১৩ ৫:৫০:৪৫ পিএম
নিজ চেম্বারে অ্যাডভোকেট আফরোজা ফিরোজ মিতা

মেহেদী হাসান ডালিম : মুন্সিগঞ্জের মেয়ে অ্যাডভোকেট আফরোজা ফিরোজ মিতা। ছোট বেলা থেকেই ছিলেন তুখোড় মেধাবী। এস এস সি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে মেধাবী তালিকায় ১৫তম স্থান অর্জন করে মেধার প্রমাণ দেন তিনি। এইচ এস সি পরীক্ষায় স্টার মার্কস পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন বাল্যকাল থেকে কালো কোর্টের প্রতি আকৃষ্ট মিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল এল এম পড়াকালেই ভালবেসে বিয়ে করেন মানিকগঞ্জের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান টিটো খানকে। যিনি বর্তমানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ডিরেক্টর। অন্যদিকে মিতা এখন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। আবার ঢাবির আইন বিভাগের ২২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘ফেন্ড্রস ল সোসাইটির’ প্রেসিডেন্টও তিনি।

১৩ বছর ধরে আইন পেশায় থাকা মিতা মাদকের কোন   আসামির পক্ষে লড়েন না। ‘মাদকের সঙ্গে জড়িত কোন ব্যক্তিকে জামিন করে দেওয়া মানে তাকে আরো উৎসাহিত করা’ এই অনুভূতি ধারণ করে সিন্ধান্তে অটল তিনি।

রাজনীতি ও সমাজসেবায় আগ্রহী এই আইনজীবী মাঝে মাঝেই এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যান। বৃহত্তর পরিসরে জনসেবা করতে ও আইন পেশার উন্নয়নে ভবিষ্যতে হতে চান আইনমন্ত্রী।

জীবনের চাওয়া-পাওয়া, ব্যক্তিগত জীবন, আগামী দিনের স্বপ্নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রথম গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন অ্যাডভোকেট আফরোজা ফিরোজ মিতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম।

রাইজিংবিডি: জীবনের সেই রঙ্গিন দিনগুলো…
অ্যাডভোকেট আফরোজা মিতা: জন্ম মুন্সিগঞ্জে। ছোট বেলা মুন্সিগঞ্জ শহরেই কেটেছে। আমার বাবা অ্যাডভোকেট এ বি এম ফিরোজ। উনি মুন্সিগঞ্জ বারের সভাপতি ছিলেন। পড়াশুনায় আমি ছোট বেলা থেকেই ভাল ছিলাম। শুরুতে মুন্সিগঞ্জ শহরের কিশলয় কিন্ডারগার্টেনে পড়তাম। তারপর সেখান থেকে পিটিআই স্কুলে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়ি। এরপর এ.ভি.জে.এম গর্ভমেন্ট গালর্স হাইস্কুলে ভর্তি হই। এই স্কুল থেকেই এস এস সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় ১৫তম স্থান অর্জন করি। মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ থেকে স্টার মার্কস পেয়ে এইচ এস সি পাশ করি।

আমরা চার বোন। চার বোনের মধ্যে আমিই বড়। ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে দুই বোন অস্ট্রেলিয়াতে আছেন। ছোট বোন ঢাকাতেই থাকে। ছোট বোনের স্বামী ব্যারিস্টার।

রাইজিংবিডি : আইন নিয়ে পড়ার আগ্রহটা কোথা থেকে পেলেন?
অ্যাডভোকেট আফরোজা মিতা : ছোট বেলা থেকেই বাবার কাজ দেখে দেখে বড় হয়েছি আমি। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখতাম বাবা কালো কোর্ট পরে বের হচ্ছে। তখন থেকেই কালো কোর্টের প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়। আইন পড়ার ইচ্ছা বাসা বাঁধে। এইচ এস ‍সি পাশ করে ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। আমি তো ডিটারমাইন্ড ছিলাম  ল’তেই ভর্তি হবো।

স্বামী টিটো খানের সঙ্গে অ্যাডভোকেট মিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময়ের একটা ঘটনা আছে। ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম দিকেই ছিলাম। যেদিন ভাইভা বোর্ডে ডাকলো, বোর্ড আমাকে বললো কোন সাবজেক্ট চাই। আমি বললাম ল’। তারা বলল ল’ কেন? আমি বললাম, ল’ইয়ার হবো তাই! তারা ফান করে বললেন ল’ তো হয়ে গেছে। আমি বললাম না আমি ল’ই নিব। আমার সিরিয়াল তো ওপরে। ল’ এখনই শেষ হওয়ার কথা না। এই সাবজেক্ট না পেলে এখানে পড়ব না। বোর্ডের সবাই খুব মজা পেলেন। এক পর্যায়ে আমি কেঁদে ফেললাম। তারা তো বোকা হয়ে গেল। পরে ল’তেই ভর্তি হলাম। কি মনে করে সেদিন কেঁদেছিলাম এখনও চিন্তা করে পাই না।

রাইজিংবিডি : আপনার আইন পেশার শুরুটা বলেন..
অ্যাডভোকেট আফরোজা মিতা: ২০০৪ সালে আমার হাইকোর্টে এনরোলমেন্ট হয়। আমাদের ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ভাই অ্যাডভোকেট দিল মোহাম্মদ রানার চেম্বারে কাজ শুরু করি। আব্বা যখন মুন্সিগঞ্জ বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন উনি তখন সেক্রেটারি ছিলেন। আব্বা নিজে এসে দিয়ে গেলেন। দিল মোহাম্মদ রানাকে বললেন, তোমার কাছে দিয়ে গেলাম তুমি তোমার মত করে গড়ে তুলবে। এই তো সেই থেকে আছি।

রাইজিংবিডি : আপনি আইন পেশায় কাদের অনুসরণ করেন..
আফরোজা মিতা: আমি আমার সিনিয়র দিল মোহাম্মদ রানার কথা আগে বলি। তিনি হয়তো নাম করা কেউ না। যে এক নামে তাকে সবাই চিনবে। তবে হি  ওয়াজ এ গুড ল’ইয়ার। তার প্র্যাকটিসও খুব ভাল ছিল। তাকে চাচা ডাকতাম। যেকোন কাজই তিনি খুব যত্ন করে করতেন।    

সব সময় দেখেছি লাইব্রেরিতে গেছেন। তিনি নিজে ড্রাফট করতেন, তারপর বলতেন তুমি দেখ। একটা পিটিশনই কয়েকবার পর্যন্ত লিখতেন। স্যারের সেই প্র্যাকটিস টা আমার খুবই ভাল লাগে।

আরো যাদের কথা বলতে হয়- রোকন উদ্দিন মাহমুদ স্যার, এ জে মোহাম্মদ আলী স্যার, খন্দকার মাহবুব হোসেন স্যার এদের সাবমিশন ভাল লাগে। তাদের কথা শুনলেই বোঝা যায় তারা অনেক জানেন। 

রাইজিংবিডি : আপনি তো ভালবেসে বিয়ে করেছেন..সেই ভালবাসার গল্পটা শুনতে চাই..
আফরোজা মিতা:  মানিকগঞ্জে আমাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে টিটোর সঙ্গে পরিচয়। ওদের পরিবার থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বাবা না করে দিলেন। বাবার ইচ্ছা ছিল বিসিএস ক্যাডারের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু টিটো ছিল নাছোড় বান্দা। সেই মানিকগঞ্জ থেকে আমাকে দেখতে ডিপার্টমেন্টে আসতো। সব সময় এনেক্সে যেত, আর পিছু ছাড়ে না। অনেক দিন পিছনে লেগে ছিল। আমার এক ভাগ্নেকে ওর প্রশংসা করার জন্য পিছনে সেট করেই রেখেছিল। সত্যিই সিনেমার মত এক সময় আমার মায়া লেগে যায় ওর প্রতি। ভালবেসে ফেললাম। পরে বিসিএস ক্যাডার বিয়ে না করে রাজনৈতিক ক্যাডার বিয়ে করে ফেললাম(হাসি)। পরিচয়ের তিন বছর পর ২০০২ সালে আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের একটা ছেলে সন্তান আছে। ওর নাম আজওয়াদ আহ্‌বাব খান। বয়স ১২ বছর। সাউথ ব্রিজ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ে।

টিটো খানের মুখে সেই প্রেমের গল্প : মুল ঘটনা অন্য জায়গায়। মিতার বাবা তো বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন। কিন্তু দেখেন আল্লাহতাআলা যদি কারো কপালে লিখে রাখেন তা হলে কারো কিছু করার নেই। আমাদের পাড়ার একজন মুরুব্বী ওনার নাতিনের সাথে আমার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই মেয়েও ঢাবিতে পড়েন। অবশ্য আমার মা না করে দিয়েছেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই ওই মেয়ে তার বয়ফেন্ড্রকে আমার পরিচয় দিয়ে বলেছে তার সাথে আমার তো বিয়ে ঠিক হচ্ছে। সবচেয়ে মজার কথা ওই ছেলে আবার মিতার ভাগ্নে। মিতা ঢাবিতে পড়ার সময় ওদের বাসাতেই থাকতো। ওর  ভাগ্নে তো আমাকেও চেনে। মামা বলে ডাকে। ছেলের তো গেছে মাথা খারাপ হয়ে।

অ্যাডভোকেট মিতার সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম

ওই ছেলে এসে আমার এক ক্লোজ ফেন্ড্র খোকনকে বলেছে  আমাকে বাঁচান। যার সাথে আমার সম্পর্ক সেই মেয়ের তো টিটো মামার সাথে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তখন আমার ফেন্ড্র  বলেছে আমি এ বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারি কিন্তু তোমার খালার(মিতা) সাথে টিুটর প্রেম করায়ে দিতে হবে। ওর ভাগনে তখন বলেছে এটা কোন ব্যাপারই না। সেই থেকে ভাগ্নে ২৪ ঘন্টা মিতার কানের সামনে শুধু আমার প্রশংসা করতো। এটাই সুত্রপাত। তারপর তো মিতাও ভালবেসে ফেলল। 

রাইজিংবিডি : আপনার স্বামীর পরিচয় জানতে চাই..
আফরোজা মিতা: ওর নাম তাবারাকুল তোছাদ্দেক হোসেইন খান। তবে টিটো খান নামেই পরিচিত। আমার বর তো ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের তিন তিনবার নির্বাচিত পরিচালক। আবার মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক। আগামী সংসদ নির্বাচনে মানিকগজ্ঞ সদর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

রাইজিংবিডি : দু’জন ভিন্ন পেশার মানুষ। কিভাবে সংসার আর পেশার মধ্যে নিজেরা ব্যালেন্স করেন ..
আফরোজা মিতা: আমার বর তো বলে দু’জন আইনজীবী না হওয়াতে আরো ভাল হয়েছে। এক ক্লায়েন্ট   নিয়ে দুইজন টানাটানি করতে হয় না(হাসি)। আমারও মনে হয় দু;জন এক পেশার না হওয়াই ভাল। টিটো অনেক হেল্পফুল।

প্র্যাকটিসের শুরুতে কোর্টে কাজ না থাকলে যেতে ইচ্ছা করতো না। কিন্তু টিটো বলতো কাজ না থাকলেও কোর্টে যাবা। লেগে না থাকলেও তো হবে না।

রাইজিংবিডি : দেখা যায় এই পেশা থেকে অনেক নারী ঝরে পড়েন। নারীদের এই পেশায় উৎসাহিত করতে কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে ?
আফরোজা মিতা : আগে কিন্তু মেয়েরা প্র্যাকটিস করতে চাইতো না। এখন কিন্তু হাইকোর্টে অনেক মেয়েরা আসছে। আসলে কোর্টে যদি একটা ডে কেয়ার সেন্টার থাকতো তাহলে যারা মা তাদের জন্য খুবই ভাল হতো। বাচ্চাদের জন্য ডে কেয়ার থাকলে অনেক মা নিশ্চিন্তে আইন পেশায় সময় দিতে পারতেন। একটা উদাহরণ দেই। আমার ফ্রেন্ড গুলশান। আমাদের ব্যাচের সবার আগে ও প্রফেশনে এসেছে। ও খুব ভাল করছে। ওর এখন ছোট একটা বাচ্চা। বাচ্চাটাকে কারো কাছে রাখতে পারবে না শুধু এই কারণে প্র্যাকটিস থেকে দুরে আছে। সুন্দর একটা যদি ডে কেয়ার থাকতো তাহলে তো গুলশানের মত অনেক মেধাবী মেয়েকে প্র্যাকটিস থেকে দুরে থাকতে হতো না। একটা ডে কেয়ার হলে সেখানে বাচ্চাকে রেখে অনেক মেয়েরা কাজ করতে পারবে বলে আমি মনে  করি।

রাইজিংবিডি : গরীব বিচার প্রার্থীদের জন্য কি করতে চান..
আফরোজা মিতা: আমি তো অনেক কেস টাকা ছাড়াই করি। আমার বাবাকেও দেখেছি তিনি অনেক সময় নিজের টাকা খরচ করে মামলা করেছেন। ছোট বেলা থেকেই বাবাকে দেখে ওই রকম একটা মানসিকতা তৈরি হয়েছে। অনেকে বলেন ল’ইয়ার জোর করে টাকা নেয়। কিন্তু ওই মানসিকতা আমার মধ্যে কখনও কাজ করে না। অনেক সময় টাকা চাইতে কেমন যেন লজ্জা করে।

একটা ঘটনা বলি। মাত্র হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেছি। তখন আব্বা জীবিত ছিলেন। আব্বাই কেসটা দিয়েছিলেন। আসামি জেলে ছিলেন। হাইকোর্ট থেকে বেইল করে বের করেছি। বের হওয়ার পরে সে সাড়া কোর্ট আমাকে খুজতেছে। পাঁচ হাজার টাকা দিবে। পিছে পিছে ঘুরে বলতেছে মা টাকাটা রাখ, মা টাকাটা রাখ। এমন অবস্থা দেখে তার কাছ থেকে আমি টাকা নিতে পারি নাই। বোঝা যাচ্ছিল যে এই পাঁচ হাজার টাকা আনতে তার অনেক কষ্ট হয়েছে। এইসব মানুষের কাছ থেকে তো টাকা নেওয়া যায় না।

এলাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে অ্যাডভোকেট মিতা

রাইজিংবিডি : মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য দেন…
আফরোজা মিতা: পেট্রোবাংলার আন্ডারে ১৩টা কোম্পানি আছে। এ ১৩টা কোম্পানির মামলা আমি করি। বাপেক্স, সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্মচারীদের পক্ষে মামলা করি। এটা আল্লাহর রহমত যে আমার দ্বারা অনেক মানুষের মামলা পারমানেন্ট হয়েছে, হচ্ছে।  

ক্রিমিনাল কেস করতে ভাল লাগে। কিন্তু মাদকের কেস আমার করতে ভাল লাগে না। আমার মনে হয় যে এর ইফেক্ট অনেক ভাবে হতে পারে। মনে হয় মাদকের কেস করার থেকে মার্ডার সংক্রান্ত কেস নেওয়া ভাল। আমি অনেক ভাবে চিন্তা করি প্রফেশনটাকে। শুধু টাকার চিন্তা কখনও করি না। মাদক ইয়াং জেনারেশনকে শেষ করে দিচ্ছে। মাদকের সাথে জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত। আমি মনে করি মাদকের মামলায় কাউকে জামিন করে দেওয়া মানে তাকে আরো উৎসাহিত করা। এ কারণে মাদক-ইয়াবার মামলা আমি করি না।

রাইজিংবিডি : এবার আপনার সমাজ সেবামূলক কাজ সম্পর্কে জানতে চাই..
আফরোজা মিতা: আমাদের একটা স্কুল আছে। আগে আব্বাই চালাতো। এখন আব্বা নাই। আমার আম্মা-চাচারা  স্কুল পরিচালনা করেন। অর্থনৈতিক দিকটা আমি দেখে থাকি।

স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেওয়া, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে  অনুষ্ঠানের আয়োজন, ছাত্র/ছাত্রীদের মাসে একবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করি। এতে বাচ্চারা খুশি হয়। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাসে যারা ভাল রেজাল্ট করে তাদের পুরস্কার দিয়ে উৎসাহিত করি। আবার মুন্সিগঞ্জে আমার বাবার নামে একটা ফাউন্ডেশন আছে। এটার উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

রাইজিংবিডি : যে স্মৃতি এখনও মনে পড়ে….
আফরোজা মিতা : মুন্সিগঞ্জে আব্বার সাথে প্রথম কাজ শুরু করি এবং প্রথম ইনকাম তার কাছ থেকে। একটা মামলার ড্রাফট লিখে দিয়েছিলাম। ১৫০০ শত টাকা দিয়েছিল। আমি  যে কি খুশি হয়েছিলাম টাকা পেয়ে। সেই প্রথম ইনকামের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারি না।

রাইজিংবিডি : আইন পেশায় আসতে ইচ্ছুকদের জন্য  পরামর্শ..
আফরোজা মিতা: যারা খুব তাড়াতাড়ি প্রতিষ্ঠিত হতে চায় তাদের জন্য এ পেশা না। প্রথমে এসে কিছু করতে পারছি না যদি হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে কিছু হবে না। লেগে থাকতে হবে। যদি সেরকম ফিন্যান্সিয়াল সাপোর্ট থাকে নিজের টাকা খরচ করে প্র্যাকটিস করতে হবে। একটা পর্যায়ে গেলে টাকাই পিছে ছুটবে।

স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে অ্যাডভোকেট মিতা

রাইজিংবিডি :  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্বপ্ন বলুন…
আফরোজা মিতা: আইন পেশায় লেগে থাকতে চাই। আমি কিন্তু রাজনীতিতে খুবই আগ্রহী। বৃহত্তর পরিসরে সাধারণ মানুষের তথা জনগনের সেবা করতে চাইলে রাজনীতির বিকল্প নাই। এ জন্য জনপ্রতিনিধি হতে চাই। আর আমি যেহেতু আইন অঙ্গনের মানুষ তাই দেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে আইনমন্ত্রী হওয়া আমার স্বপ্ন।

রাইজিংবিডি : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ…
অ্যাডভোকেট আফরোজা মিতা : আপনাকে ও রাইজিংবিডির পাঠকদেরও ধন্যবাদ…।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৬ মে ২০১৮/মেহেদী/এনএ

Walton Laptop
 
   
Walton AC