ঢাকা, বুধবার, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

তিন বোন ব্যারিস্টার

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২১ ৮:৪৭:৫১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-২৫ ১০:১৫:১৯ পিএম
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান,ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান ও ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান

মেহেদী হাসান ডালিম: চট্টগ্রামের বনেদি পরিবারের সন্তান প্রিয়াংকা আহসান, ফাতিমা ওয়ারীথাহ আহসান ও প্রিয়া আহসান। তারা আপন তিন বোন। তিনজনই ব্যারিস্টার। যা বাংলাদেশে বিরল। নানা আব্দুল মালেক উকিল ছিলেন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাবা আবদুল্লাহ আল আহসান, দেশের শিল্পখাতের অন্যতম আইকন। ছোটবেলা থেকেই নেহেরু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আইনজ্ঞ নানার গল্প শুনে বড় হওয়া তিন বোন বাবার অনুপ্রেরণায় ব্যারিস্টারি পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাবার স্বপ্ন পূরণে এক এক করে তিন বোন পাড়ি জমান লন্ডনে।

তাদের ভাষায় ‘প্রথম থেকেই বাবার কনসেপ্ট ছিল- হলে তিন জনই ব্যারিস্টার হবে। দেয়ার ইজ নো আদার অপশন। এ কারণে আমরা কখনও অন্য কোনো অপশন চিন্তা করিনি।’ ব্যারিস্টারি পাশ করে দেশে এসে বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিন বোন শুরু করেছেন আইন পেশা। প্রখ্যাত আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম. আমীর উল ইসলামের চেম্বারে কাজ শুরু করা বড় বোন ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চান। সেভ দ্যা চিলড্রেন, হোপ ফর চিলড্রেন,অ্যাকশন এইডসহ বিভিন্ন এনজিওতে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মেঝ বোন ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে শুধু দেশেই না বিশ্বজনীন ভাবে আইন প্র্যাকটিস করে তার মেধা কাজে লাগাতে চান। নিজেদের প্রতিষ্ঠিত এনজিও’র মাধ্যমে নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যেতে চান তিনি। অপরদিকে, সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে কাজ শুরু করা ছোট বোন ব্যারিস্টার প্রিয়া আইন পেশায় লেগে থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যেতে চান। সমাজের অবহেলিত-দরিদ্র মানুষের জন্য কাজও করতে চান তিনি।

এক বিছানায় তিন বোনের বেড়ে উঠা, ব্যারিস্টারি পড়ার দিনগুলো, তিন বোনের খুনসুঁটি, ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে এই প্রথম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। ব্যারিস্টার তিন বোনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম

রাইজিংবিডি: পারিবারিক পরিচয়...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা, ব্যারিস্টার ফাতিমা ও ব্যারিস্টার প্রিয়া: আমাদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা। আমার প্রপিতামহের নাম ছিল আব্দুল লতিফ মাস্টার। তিনি একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি আরবি, ইংরেজি এবং বাংলা তিন ভাষায় পারদর্শী শিক্ষাবিদ ছিলেন। আমৃত্যু শিক্ষাবিস্তারে তিনি নিজ গৃহ পর্যন্ত স্কুলে এ রূপান্তর করেছিলেন। সেই খ্যাতি অনুসারে তৎকালীন ওই এলাকার মানুষ তাকে আব্দুল লতিফ মাস্টার নাম দিয়েছিলেন। তারই পরম্পরায় আমাদের দাদা আহমেদ কবির চৌধুরী স্কুল কলেজ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার দিকে নজর দেন। আমার দাদা গহিরা স্কুল, গহিরা মাদ্রাসা ও আরো বিভিন্ন অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। আমাদের পরিবারে শিক্ষাকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়। দাদা এবং দাদার বাবা দুইজন এই সমাজসেবা করে রাউজানে অনেক উন্নয়ন করেন এবং শিক্ষার চর্চা এনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের বাবা-চাচারাও শিক্ষাকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেন। আমার বাবা-চাচারা সাতভাই। আমার বড় জেঠা আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন। আমার মেঝ জেঠা আব্দুল্লাহ আল হারুন। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর এবং আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এম.পি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে আমাদের দেখার সুযোগ না হলেও আমাদের পরিবারের সবাই তার আদর্শ অনুসরণ করে চলি।  আমার মেঝ জেঠা University of science and technology (USTC)- এর প্রো ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন। আমার সেজো জেঠা আব্দুল্লাহ আল হান্নান একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। চতুর্থ জেঠা আব্দুল্লাহ আল নোমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা। এরপর জেঠা আব্দুল্লাহ আল রায়হান একজন মুক্তিযোদ্ধা, তিনিও একজন শিক্ষাবিদ। ষষ্ঠ আমার বাবা আব্দুল্লাহ আল আহসান, আব্বু পেশাগতভাবে একজন শিল্পপতি। আব্বুর হাতে গড়া ইন্ডাস্ট্রিজ ৭০ ও ৮০’র দশকের। সেই সময়ে বাংলাদেশে তেমন কোনো বিজনেস আইকন ছিল না। Cement factory, Cotton Spinning Mill, Oil mill সহ বেশ কিছু ফ্যাক্টরি বাবার হাতে গড়া। আব্বুও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি আমার মেঝ জেঠা আব্দুল্লাহ আল হারুনের পদাংক অনুসরণ করে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহকারী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাবা ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

ব্যারিস্টার তিন বোনের সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম


অনেক ব্যস্ত থাকা স্বত্ত্বেও জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এর অনুরোধে ইউ.এস.টি.সি কে সংগঠন গড়ে তোলার জন্যে মনোনিবেশ করেন এবং সাত বছর তিনি বিনা পারিশ্রমিকে USTC-র প্রো ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে কাজ করেন। He mentored hundreds of international students only in USTC and he continues to mentor youngsters to a positive way of life and in choosing a correct career path. মানুষের জন্য কাজ করা আব্বুর এক ধরনের নেশা বলতে পারেন। ছোট চাচা আব্দুল্লাহ আল ফরমান একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নানার বাড়ি নোয়াখালী। নানা আব্দুল মালেক উকিল প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আমলে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্পিকার ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। He was one of the key  drafters of the Constitution of Bangladesh. আম্মুরা পাঁচ বোন দুই ভাই। আমাদের দুই মামা রাজনীতিতে সক্রিয়। ছোট মামা বাহার উদ্দিন, বিটিভির ডিজি ছিলেন। আমাদের বাবা-মা দুইজনেরই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। আমার মা আমেনা বেগম, তবে বেবি নামে পরিচিত। রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে ও বৌ হওয়াতে মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন এবং সব আগলে রাথেন একজন আদর্শ নারী হিসেবে। আমরা তিন বোন এক ভাই। ভাই সবার বড়। ও ব্যবসায়ী, পড়াশুনা করেছে ইন্ডিয়াতে। এমবিএ করেছে। এখন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করছে। আর আম্মু সবচেয়ে বড় কাজটা করে। মূলত আজকে আমাদের যেখানে দেখছেন এটার পেছনে অবদান অনেকটা আমার মায়ের। সন্তানদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মেইন রোল কিন্তু একজন মায়ের থাকে। আম্মু সারাজীবন আমাদেরকে আগলে ধরে রেখেছেন। আমার মা ল’ইয়ার না। কিন্তু তার নলেজ আমাদের থেকে অনেক ভাল। Presence of mind অসাধারণ। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিয়ে এবং রাজনৈতিক পরিবারে বিয়ে হওয়াতে আম্মু অনেক বেশি প্রো পিপল।

রাইজিংবিডি: ছোট বেলা, পড়ালেখার সোনালী দিনগুলো ...।
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: আমার ছোটবেলা খুবই আনন্দের ছিল। আমাদের বাড়িটা ছিল রাজনৈতিক। আব্বু সবসময়ই চাইতো এক্সট্রা কারিক্যুলাম একটিভিটিসে জড়িত হই। সেজন্য গানের টিচার, পিয়ানো টিচার ছোটবেলা থেকেই রেখেছিলেন। আমাদের পরিবার সংস্কৃতিমনা। আব্বু অনেক বেশি খেলাধুলায় সক্রিয় থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আমরা স্কুল থেকে এসে দেখতাম ডাইনিং টেবিল ভর্তি মানুষ খাচ্ছে। সবসময় আমরা জমজমাটের মধ্যে বড় হয়েছি। ও লেভেল আমার চট্টগ্রাম সানসাইন গ্রামার স্কুল থেকে করা। এ লেভেল করেছি এডেক্সসেল ইন্টারন্যাশনাল থেকে। এলএলবি করেছি লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে। বার সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন এবং কলড হয়েছে লিংকনস ইন থেকে। বার শেষ করে কুইন মেরি তে এলএলএম করেছি।

ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: আমি প্লে গ্রুপ থেকে ক্লাস সিক্স পযন্ত চট্টগ্রামে সানশাইন গ্রামার স্কুলে পড়েছি। এরপর ঢাকায় সাউথ ব্রিজ স্কুল থেকে ও লেভেল পাশ করে এ লেভেল পাশ করি। এরপর লন্ডন চলে গেলাম। লন্ডনে এলএলবি করেছি। এম এ করেছি। এলএলএম করেছি ওয়েল এন্ড পেট্রোলিয়াম ল’তে। আমি অ্যাক্রিডিয়েট সিভিল এন্ড কমার্শিয়াল মেডিয়েটর ও আমার call to the bar ইনার টেম্পল থেকে।

ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: আট বছর বয়স পর্যন্ত চট্টগ্রামে ছিলাম। তখন সানশাইন গ্রামার স্কুলে পড়তাম। এরপর ঢাকায় আসি। সাউথ ব্রিজ স্কুলে আমি পড়তাম। স্কুলে পড়াকালীন আমি বিভিন্ন চেস কম্পেটিশন এবং অন্য এক্সট্রা কারিক্যুলাম একটিভিটিস যেমন- ব্যাডমিন্টন খেলা ও মিউজিক ক্লাবে সক্রিয় ছিলাম। এরপর লন্ডন চলে যাই। ওখানে গিয়ে ডেভিড গেইম কলেজে আমি Sixth Form পর্যন্ত পড়ি। এরপর এলএলবি, বার স্কুল, পি.জি.সার্ট ইন মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশনস সবই সিটি ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে।

কল টু দ্যা বার পাওয়ার দিনে বাবা-মায়ের সাথে ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান


রাইজিংবিডি: ব্যারিস্টারি পড়তে কেন আগ্রহী হলেন ?
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: ছোটবেলা থেকেই আমি জানি যে, আমাকে ব্যারিস্টার হতে হবে। আমার বাবা আমাদেরকে নানাভাবে প্রভাবিত করতেন এই প্রফেশনটা বেছে নেীয়ার জন্য। ইন ফ্যাক্ট আমরা বয়সে ছোট ছিলাম বলে আমার চাচাতো ভাই ব্যারিস্টার ইমরানুল কবিরকে তার এক বছর CA course থেকে বাদ দিয়ে আব্বু ব্যারিস্টার হওয়ার জন্যে কনভিন্স করেন। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন, সারা বিশ্বেই বিশেষ করে ভারতীয় উপ-মহাদেশে আইনে ডিগ্রিধারীরা রাজনীতিতে সক্রিয়। বারাক ওবামা বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন আর নেহেরু বলেন বা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী- সবাই কিন্তু আইনজীবী। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি আব্বু তখন সামার ভ্যাকেশনে ‘মাউন্টব্যাটেন এন্ড টি পার্টিশন অফ ইন্ডিয়া’ বইটি আমাকে পড়তে দেন। এই ভাবেই আব্বু সবসমই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জীবনী পড়তে দিতেন। নিজের অজান্তেই ল’ এবং পলিটিক্সের ভালবাসায় পড়ে গেলাম। এ লেভেল থেকে ল’ পড়াটা আমার ভালো লাগলো। সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আইন পড়বো। ওইভাবেই আসলে ল’ প্রফেশনে আসা। I personally feel  a law degree is a gateway to a career in any discipline and it opens all avenues, be it political, social or just hardcore litigation practice or may be just for being there for the people.

ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: মনে পড়ে, আমার বয়স তখন তিন বছর। সানসাইন গ্রামার স্কুলে পড়তাম। তখনকার দিনে আমাদের কনভারসেশন ক্লাস থাকতো প্লে গ্রুপে।  একদিন আমাকে আমার টিচার জিজ্ঞেস করেছিলেন, হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট টু বিকাম হোয়েন ইউ গ্রো-আপ? আমি বলেছিলাম ‘আই ওয়ান্ট টু বিকাম অ্যা ব্যারিস্টার’। তখন আমার টিচাররা হাসছিলেন। ওই রকম ছোট বেলা থেকেই জানতাম আমি ব্যারিস্টার হবো। আমার বাবার ইচ্ছে ছিলো তার তিন কন্যাই আইন পেশায় যাবে এবং ব্যারিস্টার হবে। মাইন্ডসেট ছিল যে আমি ব্যারিস্টার হবো। আমরা বড় হয়েছি নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, আমার নানা আবদুল মালেক উকিল, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গল্প শুনে। নানা ধরণের পলিটিশিয়ানদের বই এনে আমাদের পড়তে দিতেন আমাদের বাবা। যখন ৪র্থ বা ৫ম শ্রেণীতে পড়ি, আব্বু হিস্ট্রি বই এনে দিতেন, পার্টিশনের সময়ের অনেক ইতিহাস, Nehrus letter to daughters, Letters to Chief Minister, Winston Churchill etc. আসলে ল’ পড়লে অনেক এভিনিউ খোলা থাকে। আব্বু বলতো তুমি ল’ পড়ে সব কিছু করতে পারবা। পুরো দুনিয়া খোলা তোমার জন্য। ডেইলি লাইফে এত বেশি ইমপ্যাক্ট ল’ এর যা কল্পনা করা যায় না। এভাবেই ল’ বেছে নেওয়া। আমি এলএলবি পড়ার সময়ও বেশ উপভোগ করেছি।

ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: আমাকে খুব সুক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে এই ক্যারিয়ার ও পথ বেছে নিতে। আমার এ লেভেল এ ল’ ছিল না। ল’ পড়তে আমাকে আব্বু প্রভাবিত করেছে কিন্তু ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পড়ার সময় বিভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়ে আস্তে আস্তে নিজেই প্রভাবিত হয়েছি এবং প্রতিদিন হচ্ছি। বার স্কুলের সময় সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছি এই পেশার দিকে এবং নানা সময় বলা আব্বুর কিছু কথা বাস্তবে দেখতে শুরু করেছি। এখন আমার কাছে মনে হয় অনেক নোবেল একটা প্রফেশন আইন পেশা। আমি ছোটবেলা থেকে আমার পুরো ফ্যামিলিকে দেখেছি মানুষকে হেল্প করতে। এই পেশায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ আছে।

রাইজিংবিডি: ব্যারিস্টারি পড়াকালীন স্মৃতি বা ইংল্যান্ডের দিনগুলো ...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: দেশ থেকে দূরে থাকা কখনোই আনন্দের না। কিন্তু I must say I found a home away from home in London. সিটি ল’ স্কুলে আমার সঙ্গে অনেক বাঙালি ছিলেন যারা সব সময়ই একে অপরকে অনেক হেল্প করতেন বার কোর্সের মত এত ডিমান্ডিং একটা কোর্সে টিকে থাকতে। আমার গ্রুপ মেম্বাররা ছিল অক্সব্রিজ ব্যাকগ্রাউন্ডের টপ স্টুডেন্ট। বার স্কুলেই প্রথমবার নিজেকে একটা হেলদি কমপিটেটিভ এনভায়রনমেন্টে টেস্ট করার সুযোগ পেয়েছি এবং সফলভাবে উৎরে উঠেছি। প্রথম প্রথম খুব বেশি হোমসিক হতাম যার কারণে আমার মা অনেকটা সময় আমাদের সাথে কাটাতেন। একটা ভাল দিক ছিল, আমরা যেরকম ইনডিপেনডেন্ট ছিলাম ওইখানেও সেই রকম ইনডিপেনডেন্ট ছিলাম। আরেকটা ভাল দিক ছিল যে, পাশ্চাত্যের ভাল দিকগুলো নিজের মধ্যে আয়ত্ব করার চেষ্টা করেছি। যেমন- ডিসিপ্লিন, প্রফেশনালিজম। সবচেয়ে যেটা ভালোলাগতো সেটা হল তরুণদের প্রতি বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ। প্রো-বোনো কাজের সুযোগ অনেক বেশি পেয়েছি এবং অনেক কিছু শিখেছি। London is a beautiful emotion and a continuous chapter in my life.

ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: আমি লন্ডনে অনেক দিন ছিলাম। শুধু BPTC করার দিনগুলো জানতে চাইলে ‘in one word it was extremely intensive.’ বার করার বছরটা অসম্ভব ব্যস্ততার মাঝে কাটিয়েছি। BPTC করাকালে আমি প্রো-বোনো কাজ করতাম বেশ কিছু ল’ সেন্টারের সাঙ্গে। Mini pupilage ও করেছি এবং ইনার টেম্পলের মাধ্যমেই কোর্ট মার্শালিং করেছি একজন হাইকোর্টের বিচারকের এর সঙ্গে। আমি লন্ডনে থাকতে পড়ালেখার সঙ্গে সঙ্গে প্রোপার স্টুডেন্ট লাইফ লিড করেছি। আমি আমাদের ইউনিভার্সিটির মুটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। লন্ডনে কিছু মুটিং হতো অল ইন্টার ইউনিভার্সিটিস। অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ ওরা সব সময় ফাইনালিস্ট থাকতো। আমি যখন মুটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম তখন লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি ফাইনালে গিয়েছিল। ওই রকম অনেক ভালো ভালো মেমোরি আছে। আমি অনেক রকম ভলান্টিয়ারি ওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি ল’ ডিগ্রি শেষ করার পর স্কুল অব ওরিয়েনটালে আফ্রিকান স্টাডিজে (SOAS) ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে এবং ডিপ্লোমেসিতে মাস্টার্স করেছি। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাডিজ এবং ডিপ্লোমেসি  SOAS এ আমি এ কারণেই পড়েছি। কারণ আমার অলরেডি অনেক বেশি অভিজ্ঞতা ছিল স্যোসাল ওয়ার্কে। প্রায় ১০ বছর আমি এনজিওর সঙ্গে কাজ করছি এবং স্যোসাল, কমিউনিটি ওয়ার্ক করছি। নানা ধরণের এনজিও হোপ ফর চিলড্রেন, সেভ দ্যা চিলড্রেন, রিফিউজি ইয়োথ প্রজেক্ট, অ্যাকশন এইড, ইউনিসেফে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি সিটি ইউনিভার্সিটি এবং লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটিতে স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডার ছিলাম।

স্কটল্যান্ডে আনন্দময় মুহুর্তে ব্যারিস্টার তিন বোন


ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: বার স্কুলের সময় তো অনেক ইনটেনসিভ একটা সময় ছিল। There was hardly any time to do anything else. আমার একটা খুব ক্লোজনিট ফ্রেন্ডস গ্রুপ আছে যাদের সঙ্গে আমি sixth form পড়েছি। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে এই গ্রুপের আমি ছাড়া কেউ ল’ পড়িনি। ইনফ্যাক্ট সবাই ডিফারেন্ট এডুকেশনাল এবং কালচারাল ব্যাকগ্রাউন্ডের। BPTC এর সময় ওদের সঙ্গে দেখা করার সময় থাকতো না। ওই বছর ছাড়া অন্য সব বছরগুলোও ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ইন্টারেস্টিং ছিল। যে রকম হয় আরকি একটা মানুষের ফরমাটিভ ইয়ারস এ। একজন কিশোরী থেকে এডাল্ট তারপর ওল্ডার এডাল্ট সব কিছুই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে engrossing সবারই হয় বেড়ে উঠার সময়। পড়াশুনা ছাড়া আমি অনেক প্রো-বোনো কাজ করতাম। আর সেই সময়গুলো আমার খুব fascinating লাগতো। এই সবগুলোর মধ্যে যেটা আমার আত্মার সবচেয়ে কাছের হচ্ছে একটা ক্যাম্পেইন  MISS FORTUNE that I co-founded as a teenager along with 8 other individuals in their early to mid twenties from different cultural and faith backgrounds to advocate for gender equality.

আমাদের তিনজনের অনেক কমন ফ্রেন্ড আছে। আমরা একসঙ্গে অনেক মুভি, কমেডি শো, মিউজিক্যাল কনসার্ট দেখতাম। তাছাড়া আরো অনেক কিছু করতাম। কিন্তু সবার ইনডিভিজ্যুয়াল লাইভসও ছিল। আরেকটা জিনিস যেটা অনেক মিস করি কিন্তু আগে কখনও গুরুত্ব দেইনি, তা হলো আমরা চাইলেই যে কোন সময় পায়ে হেঁটে বের হয়ে যেতে পারতাম।

রাইজিংবিডি: বর্তমানে কী করছেন?
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: আমি প্রথমে এসে জয়েন করেছিলাম ড. কামাল হোসেন এন্ড অ্যাসোসিয়েটসে। Professionally, it is a dream to work in the shadow of Dr. Hossain and Sara Apa. আমি এখন আছি ব্যারিস্টার এম. আমীর উল ইসলাম এবং তানিয়া আমীরের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখছি। Dr. Hossain, Barrister M. Amirul Islam are institutions themselves who are witness to history.

আমীর উল ইসলাম স্যার, ড. হোসেন স্যার যদি গল্পও করেন সেখান থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। স্যারদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিকভাবে সম্পর্ক অনেক আগের, আমার নানা-চাচার সময় থেকেই। যার কারণে রাজনৈতিক গল্প করার অনেক সুযোগ পাই। অপরদিকে Tania Apa and Sara Apa are the only female international Icons who've taken Bangladesh to a global arena in terms of legal practice. তাদের সান্নিধ্যে থাকতে পেরে নিজেকে ফর্চুনেট মনে করি।

এছাড়া আমি শিক্ষা সংক্রান্ত পরিবারের একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। তিন বোন এক সঙ্গে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। পরিকল্পনার মধ্যে আমরা সমাজের পিছিয়ে পড়াদের জন্য কাজ করতে চাই। আইনি সহযোগিতা দিতে চাই। আমাদের সমাজে বেশির ভাগ নারী অনেক অবহেলিত এবং তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। কিন্তু অনেকে লজ্জায় বলতে পারে না। তাদেরকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আমি তাদের জন্য তাদের জীবন সহজ করতে চাই। আমি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে সক্রিয় থাকতে চাই।

জেনেভায় জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে একটি কনফারেন্সে  ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান


ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: আমি ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খানের জুনিয়র হিসেবে কাজ করছি। স্যারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিকভাবে অনেক আগে থেকেই পরিচয়। আমার ল’ এর হাতে খড়ি মোস্তাফিজ স্যারের কাছে। আমি এখানে খুব এনজয় করছি। প্রতিদিন একটা নতুন জিনিস শিখছি। আমি কিছুই জানতাম না আমাদের দেশের প্র্যাকটিস সম্পর্কে। এখানেই শিখছি। স্যার নিজে অনেক learned, ওনার সঙ্গে গল্পের মাধ্যমেও অনেক শেখার আছে। আমি মনে করি, আমাদের দেশে ওয়ার্ক কালচার একটু ভিন্ন আর আপাতত আমি  ওয়ান ডে অ্যাট এ টাইম- এই নিচ্ছি।

আইন প্র্যাকটিস ছাড়া আমি সমাজসেবায় নিয়োজিত। একটা ফাউন্ডেশন আছে আমাদের। ইনশাআল্লাহ খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবে। আমি একটা বই লিখছি আমার বয়স যখন ২০ বছর তখন থেকে। ওই প্রজেক্টটা চলমান আছে। আরেকটা বই লিখছি উইমেনস হেলথের ওপরে। ইনশাআল্লাহ এ বছর সামারে পাবলিশ করবো।

ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: ড. কামাল হোসেন এন্ড অ্যাসোসিয়েটসে ইন্টার্নশিপ শুরু করেছি। মাত্রই শুরু করেছি। বেশি দিন হয়নি। অলরেডি অনেক কিছু শিখছি এখানে। এর চেয়ে বেশি ভুল করছি এবং সব কিছুই অভিজ্ঞতা হিসেবে নিচ্ছি। শুরু থেকেই সব কিছুই ইন্টারেস্টিং লাগে, মনে হয় সব কিছুই নতুন। আমি সব কিছুর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে নিচ্ছি। পুরো একটা transition চলছে আমার। বিশেষ করে মেন্টাল। আইন পেশার প্রোপার স্টার্ট এখানেই। অবশ্যই ড. হোসেনের মতো একজন আইন  বিশেষজ্ঞের ছায়ায় একটি চেম্বারে থাকতে পারাটাই অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার।

রাইজিংবিডি: ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে নিয়ে, তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন ?
ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান:  ‘‘I love her”. উনি এতো ফোকাসড। Brilliant in everything she does and thoroughly inspirational. সবচেয়ে যেটা ইনসপায়ারিং লাগে সেটা হলো, উনি অনেক গুরুত্ব দিয়ে সবকিছু দেখেন। যদিও ওনার আরো অনেক জিনিস আছে চিন্তা করার। অন্য যারা সিনিয়র আছেন তারাও অনেক হেল্পফুল এবং তাদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আসলে সবার থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।  I feel absolutely privileged and humbled to be a part of such an esteemed set of chambers. আমি ধীরে ধীরে সব কিছু আরো ইন ডেপথ এক্সপ্লোর করতে চাই এবং সবার থেকে শিখতে চাই।

রাইজিংবিডি: আপনারা তিন বোনই ব্যারিস্টার। আইন পেশায় আছেন তিন বোনই। এটা আসলে কেমন লাগে ?
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা, ব্যারিস্টার ফাতিমা, ব্যারিস্টার প্রিয়া: প্রথম থেকেই বাবার কনসেপ্ট ছিল হলে তিনজনই ব্যারিস্টার হবে। There was no other option. কিন্তু তাই বলে এই প্রফেশন আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।

‘MISSFORTUNE’ ক্যামপেইনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান


শিক্ষার মূল্যায়ন আমাদের পরিবারে অনেক বেশি। তার  ধারাবাহিকতায় আমরা তিন বোন ব্যারিস্টার হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আসলে এ বিষয়ে তেমন কিছু ভেবে দেখিনি। One thing is that we understand each other’s language because we are in the same profession.

রাইজিংবিডি: তিন বোনের ঝগড়া-খুনসুঁটির বিষয়ে জানতে চাই...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: খুনসুঁটির কথা যেটা বলছিলেন, আমাদের মধ্যে সব সময়  লেগেই থাকে। কারণ, আমরা সবাই Strong headed. যে যেটা বুঝলাম সেটাই মনে করি রাইট। আর এটা যদি প্রিয়ার সঙ্গে হয় ও যেটা রাইট মনে করেছে সেটা আপনাকে বুঝিয়ে ছাড়বে। তবে কথা না বলে থাকা হয় না। আমরা এত বেশি ইন্টার ডিপেনডেন্ট এটা সম্ভব নয়। আমি যদি ঘুমাই পরের দিন সব ভুলে যাই। অনেক কিছু করে হয়তো ঘুমিয়ে গেলাম কিন্তু পরের দিন ভুলে যাই। কিন্তু প্রিয়া ওইটা ধরে বসে থাকবে। ও কথাও বলবে আবার আপনার ভুল স্বীকার করতে হবে ওর কাছে। খুনসুঁটি বলবো না, আমি বলবো হেলদি আর্গুমেন্টস এন্ড ডিসকাশনস। আশা করি এই বন্ডিং যেন চিরদিন থাকে।

ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: প্রিয়াংকা আপুর অনেক জেদ। ও ছোট বেলা থেকেই অনেক বুলি করতো আমাকে আর প্রিয়াকে। সানসাইনে আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তখন আমার বিল্ডিংটা একটু দূরে ছিল। প্রিয়াংকা আপু আমাকে তখন ভয় দেখিয়ে বলতো আজকে তোমাকে সবচেয়ে দেরিতে নিতে আসবে, সবাই লক করে চলে যাবে। আমিও গাধার মত ওগুলো বিশ্বাস করতাম। বিতর্ক তো আমাদের প্রতিদিনই হয়। বাট জেনারেল বিষয় নিয়ে।  প্রিয়াংকা আপু আমার বড় বাট ওর কোন কিছু যদি আমার কাছে মনে হয় এটা রাইট না বা ভালোলাগে না আমি আপুকে এটা সঙ্গে সঙ্গে বলি। আর প্রিয়া হচ্ছে- ধরুন আপনি ঘুমাচ্ছেন, ঘুম থেকে উঠলেন তখন আপনাকে ধরে ওর  পয়েন্ট ক্লিয়ার করবে।

ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: আসলে আমরা তিনজনই জেদি। কিন্তু ডিফারেন্ট জেদ। আমি কিন্তু ছোটবেলা থেকেই অনেক জেদি। কিন্তু কখনও Unreasonabale না।

রাইজিংবিডি: ব্যারিস্টারি পড়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা, ব্যারিস্টার ফাতিমা, ব্যারিস্টার প্রিয়া: অবশ্যই আমাদের বাবার। আব্বুর প্রেরণাই আমাদের মূল শক্তি। বলতে পারেন আব্বু অ্যাংকর আর আম্মু অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। আম্মুর একটা কোয়ালিটি হচ্ছে কিছু একটা যদি একবার কানে দেন আম্মু এটার পিছে লেগেই থাকবে। এতটা সিনসিয়ার আম্মু। মনে করেন ৯ টায় ক্লাস, আম্মু পারলে ৭ টায় আমাদেরকে তুলে দেবেন। আমাদের পুরো ফ্যামিলিই একটা টিম। মাশাল্লাহ।

চট্রগ্রামের নিজ বাসায় শিশু প্রিয়াংকা ও তার মায়ের মাঝে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা


রাইজিংবিডি: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ...
ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: আমরা আমাদের অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে মানুষের সেবা করবো। আমি কাজ করতে চাই মেন্টাল হেলথ নিয়ে। যেটা আমাদের দেশে খুবই অবহেলিত। মেন্টাল হেলথের ব্যাপারে মানুষ অতোটা এডুকেটেড নয়। এমনকি হাই সোসাইটিতেও কিন্তু মানুষ মেন্টাল হেলথকে অতো বেশি পাত্তা দেয় না। আমি মেন্টাল হেলথ নিয়েই কাজ করতে চাই। ডোমেসটিক ভায়োলেন্স নিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষা সংক্রান্ত একটি প্রজেক্ট আছে সেটার কাজ অলেরেডি স্টার্ট হয়ে গেছে। সেটাকে বাস্তবায়ন করা আমাদের কমন গোল।

রাইজিংবিডি: ভবিষ্যতে যা হতে চান ...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: আমি একটা ভালো মানুষ হয়ে সমাজে অবদান রাখতে চাই। অবশ্যই আমি আইন পেশায় থাকতে চাই। এখানে আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই।  মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। লেগে থাকতে চাই। যেন অন্যরা আমাকে উদাহরণ হিসেবে দিতে পারে। আমার এটা অলওয়েজ মনে হয়। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম কিন্তু জন্মসূত্রে কেউ নেতা হয়ে যায় না, নেতা হওয়াটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এজন্য সক্রিয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। রাজনীতিতে সব সময় জড়িত ছিলাম এবং সবসময়ই সক্রিয় থাকতে চাই।

ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: আমার গোলটা সিম্পল। আমি প্রতিদিন কাজ করতে চাই, ব্যস্ত থাকতে চাই। ছোটবেলায় রাজনীতি করতে চাইতাম। আমার খুব ইচ্ছে ছিল সেটা। এখন মনে হয় আমি এটার জন্য সেট না। আমি ব্রিটেনে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি চাই ওরকম কনসালটেন্ট বা ব্যাকরুম পলিটিশিয়ান হতে। প্রিয়াংকা আপু যেমন আগ্রহী পলিটিক্সে। আমি থিওরি ওয়াইজ পলিটিক্সে থাকতে চাই কিন্তু চেয়ার নিয়ে থাকতে হবে, পজিশন নিয়ে থাকতে হবে ওরকম কিছু না। আমি পাবলিক সারভেন্ট হতে চাই, দেশের জন্য কাজ করতে চাই, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আসলে দুনিয়াটা এখন অনেক ছোট. Tecnology made it so. আমি গ্লোবালি Development এর জন্য কাজ করতে চাই। Social advocate হতে চাই। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্ল্যার্টফর্মে কাজ করেছি। Social development-এর জন্যে যেহেতু আইন পেশায় এসেছি, প্র্যাকটিস করতে চাই আমি। আমার আগ্রহ Commercial Law Ges International Law এর দিকে। আমি এমন একজন মানুষ হতে চাই যাকে ভদ্র মানুষ হিসেবে সমাজের সবাই জানবে। এমন কিছু না যে আমার চেয়ার লাগবে।

এলাকায় পিছিয়ে পড়া নারীদের মাঝে ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান


ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: আমি প্র্যাকটিশনার হতে চাই। রাইট ওয়েতে কাজ করতে চাই।  ঠিকমত কাজ  করতে চাই। শুধু এমনি এমনি না। তবে কাজ করতে হলে অফুরন্ত শিক্ষণীয় জিনিস আছে যেগুলো আমি স্থিরভাবে শিখতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কিছু কালেক্টিভ এমবিশন আছে যেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। এখনই সব কিছু প্ল্যান করা হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো এভিন্যূজ এক্সপ্লোর করতে চাই এবং সমাজের অভাবগ্রস্থ মানুষের কাজে আসতে চাই।

রাইজিংবিডি: আপনাদের বিয়ে, ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই ...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা, ব্যারিস্টার ফাতিমা, ব্যারিস্টার প্রিয়া: ব্যক্তিগত জীবন তো সময় সময় পরিবর্তন হতে থাকে। তাছাড়া ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগত থাকাই ভালো। এমনি তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নিয়ম নেই বিয়ের ব্যাপারে।

রাইজিংবিডি: যারা আইন বিষয়ে পড়তে ইচ্ছুক তাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে চান ...
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান: যারা আইন পেশায় আসতে চায় তাদের মোস্ট ওয়েলকাম। It’s the most prestigious and noble profession . মানুষের ও দেশের সেবা করার সব চাইতে বেশি সুযোগ এই প্রফেশনে। এটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। এখন কিন্তু পুরো পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয়। আপনি এক জায়গায় বসে গ্লোবাল ল’ইয়ার হতে পারছেন। এখন পড়ালেখাও অনেক সহজ হয়ে গেছে। আগে অতোটা ম্যাটারিয়াল ছিল না। আপনি এখানে পড়েন আর লন্ডনে পড়েন ম্যাটারিয়াল সব একই পড়ছেন। তবে বাইরে পড়লে আপনি Environment থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: যারা আইন পড়তে চায় বা আইন পেশায় আসতে ইচ্ছুক তাদের প্রতি আমার হান্ড্রেড পারসেন্ট সাপোর্ট রয়েছে। আমার মনে হয় ল’ খুবই গ্লোবাল একটা সাবজেক্ট,  এটা নিয়ে পড়া উচিত। তবে একটা জিনিস আমি মেনশন করতে চাই, আমি মনে করি যারাই আইন পেশায় আসে ওদের ল’ প্রফেশনের  ডিগনিটিটা মেইনটেইন করা উচিত। স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই ল’টা যে একটা ডিগনিফাইড প্রফেশন এটাকে সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত। ল’ পড়লে আমার মনে হয় এটা নিজেকে একটা লাইফ স্টাইল দেয়। ল’ শেষ করে যদি আপনি অন্য বিষয়ে পড়তে চান আপনি অলওয়েজ পড়তে পারেন। The world is your oyster. এটা আপনার এমন একটা সাবজেক্ট যেটা Avenue’s ওপেন করে পুরো ওয়ার্ল্ডের কাছে।

‘MISSFORTUNE’ ক্যামপেইনের পুরো টিমের সাথে ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান


ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান: আমার মনে হয় ল’ তখনই পড়া উচিত যখন আপনি ইন্টারেস্টেড থাকবেন। ইন্টারেস্টেড না হলে পড়া উচিত না। কিন্তু সবাইকে একই জিনিষ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রভাহিত করে। হতে পারে একই প্রফেশন একজনকে এক পথে যেতে ইচ্ছুক করতে পারে তো আরেকজনকে কিছুটা আরেক পথে। তবে হ্যাঁ এই প্রফেশনে একজন নবাগত হিসেবে বলবো যে Ultimately অনেক কিছু আছে প্রত্যাশা করার।

রাইজিংবিডি: নারীদের উদ্দেশ্য যদি কিছু বলতে চান ...
ব্যারিস্টার ফাতিমা আহসান: এখন বাঙালি মেয়েরা অনেক কিছু করছে। মেয়েরা এখন বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, ব্যারিস্টার হচ্ছে, আর্মিতে যাচ্ছে। মানে মেয়েরা সবখানেই আছে। আমাদের প্রাইম মিনিস্টার, স্পিকার নারী। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামে-গঞ্জেও এখন মেয়েরা অনেক বেশি শক্তিশালী। মেয়েদের উদ্দেশ্যে এটাই বলবো, মেয়েরা যেন তাদেরকে শুধু মেয়ে-ই মনে না করে। তার মানে এটাই নয় যে, আমাকে একটা ছেলের মত হতে হবে।  মেয়েকে ছেলে হতে হবে না। মেয়ে মেয়ের মত করে নিজস্ব সত্ত্বা নিয়ে চলবে। একটা মেয়ে একটা ছেলের চেয়েও পাওয়ারফুল হতে পারে আবার কম পাওয়ারফুলও হতে পারে। তবে প্রত্যেকের একটা ভয়েজ থাকা উচিত। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায় যে, আমাদের দেশে জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি অনেক এনহ্যান্সড হয়েছে। আমি একটা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ডেলিগেটে স্পিকার হিসেবে বাংলাদেশের জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি নিয়ে কথা বলতে পেরে খুব গর্বিত হয়েছি। কারণ, আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। এটাই বলতে চাই নারীদের, যে আমরা অনেক বেশি পাওয়ারফুল। We are so much more capable than we can think of ourselves.

রাইজিংবিডি: সময় দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা, ব্যারিস্টার ফাতিমা, ব্যারিস্টার প্রিয়া: আপনাকে এবং রাইজিংবিডির পাঠকদেরকেও ধন্যবাদ।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ জানুয়ারি ২০১৯/মেহেদী/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC