ঢাকা, শনিবার, ২ পৌষ ১৪২৪, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রাষ্ট্রধর্ম : আপিল শুনানিতে পক্ষভুক্ত হতে ৫ ব্যক্তির আবেদন

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-২০ ৯:৪৩:৪২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২১ ৮:১৭:২৯ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে পক্ষভুক্ত হতে বিভিন্ন পেশার পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি আবেদন করেছেন।

এই পাঁচজন হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার, অনলাইন বিশ্ববার্তার সম্পাদক আরিফুর রহমান, প্রজেক্ট বিল্ডিং লিমিটেডের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত হোসেন খান, দেশ ইউনিভার্সাল লিমিটেডের উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.)আবু ইউসুফ জোবায়ের উল্লাহ ও আল-মুথ মাইনাহ মা ও শিশু হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল আলী।

গত বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তারা এ আবেদন করেন। আবেদনে এই পাঁচ ব্যক্তি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনো কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন করেননি। উপরুন্ত এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলাম। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে রিটকারী দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চান।

পরে একই দিন এই আবেদনটির ওপর চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে শুনানি হয়। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।

শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে করা মুল আপিলের সঙ্গে শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। গতকাল ১৯ মার্চ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য নির্ধারিত থাকলেও কার্যতালিকায় না আসায় শুনানি হয়নি।

তবে রিটকারী আইনজীবী সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার বৈধতা নিয়ে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য যেকোনো দিন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসতে পারে।

এর আগে গত বছরের ১৬ নভেম্বর চেম্বার বিচারপতি এ বিষয়ে আপিল শুনানির জন্য ১৯ মার্চ নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

গত বছরের ৬ নভেম্বর সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণার বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজের রায় প্রকাশ হয়। এরপর ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল  করেন আইনজীবী সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, সংসদ দেশের বাস্তবতার নিরিখে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। বাংলাদেশের বাস্তবতার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বৈধ বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, দেশের বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ‘ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিধি বাড়ানোর আইনত ও সাংবিধানিক এখতিয়ার সংসদের। সংসদ সেটাই করেছে।’

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রধর্মের ধারণা আমাদের আদি সংবিধানে ছিল না। ১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ২ক অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। যেখানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ঘোষণা করা হয়।’

এই সংশোধনীতে বলা  হয়, ‘২(ক)। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে অন্যন্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’

২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটাকে (২(ক)অনুচ্ছেদ) আরো কিছু পরিমার্জন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘২(ক)। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম; তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করিবেন।’

এ দ্বারা স্বীকৃত যে, ২(ক)অনুচ্ছেদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হলেও অন্যান্য ধর্মকেও সমমর্যাদা ও সম-অধিকার দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা ২(ক) অনুচ্ছেদ বাতিলের আবেদন গ্রহণ করতে পারছি না।

বর্তমান বাস্তবতার বিবেচনায় ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শ দেখার অধিকার জাতীয় সংসদের। জাতীয় সংসদ সেটাই করেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চ রাষ্ট্রধর্মের বৈধতা নিয়ে রিট সরাসরি খারিজ করে দেন।

১৯৮৮ সালে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা এবং ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীতে  রাষ্ট্রধর্ম বহাল  রাখা হয়। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমরেন্দ্র নাথ গোস্বামী এই রিট আবেদনটি করেন।

রিটে পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী অনুমোদন হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর সঙ্গে ২ (ক) দফা যুক্ত হয়। এতে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’

২০১১ সালের ২৫ জুন আনা পঞ্চদশ সংশোধনীতে ওই অনুচ্ছেদ আবারো সংশোধন করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবে।’

রিট আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অপর একটি রিটও গত বছরের ২৮ মার্চ খারিজ করে দেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। সেটার রায় এখনো প্রকাশ হয়নি।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ মার্চ ২০১৭/মেহেদী/সাইফুল

Walton
 
   
Marcel