ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২২ এপ্রিল ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

২ তরুণী ধর্ষণ : ধারণকৃত ভিডিও উদ্ধার হয়নি

মাকসুদুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-১৯ ৬:১১:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-২৬ ১০:০২:৪৮ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত দুই তরুণী ধর্ষণ ঘটনার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে তরুণীদের ভয় দেখানো অস্ত্রও। কিন্তু মামলার অন্যতম আলামত ধর্ষকদের ধারণ করা ভিডিওটি উদ্ধার করতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য এক আসামি রিমান্ডে মোবাইলে ধারণ করা ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্ষকদের ধারণ করা ভিডিও উদ্ধারে সাফাত এবং সাকিফ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যে ভিডিওটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত ভিডিওটি উদ্ধার করা যায়নি।’

রাইজিংবিডির প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, ‘ভিডিওটি হোটেল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব বলে জানা গেছে। এখন এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। আমারও আশা ভিডিওটি উদ্ধার করা সম্ভব।’

শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ইসমত আরা বলেন, ‘তদন্তে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিশেষ করে সেই রাতে তরুণীরা যে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল তা অনেকটাই নিশ্চিত। এখন কিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভিডিওটি উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও কাজ করছে। সেক্ষেত্রে তদন্তে সময় লাগছে। তবে আমাদের চেষ্টা আছে তদন্ত দ্রুত শেষ করে আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করা।’

গোয়েন্দারা বলছে, রিমান্ডে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামিকে ভিডিওর ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা তথ্যও দিয়েছে। এর মধ্যে সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল ভিডিও করার কথা স্বীকার করে। তবে তা ভয়ে মুছে ফেলা হয় বলে জানায়। তার এ কথা কতখানি সত্য তা যাচাই চলছে। অবশ্য বিল্লাল মামলার অন্যতম আসামি মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নাঈম আশরাফ ওরফে হালিমের কাছে ভিডিও শেয়ার করে বলে স্বীকার করেছে। ঘটনার পুরো নাটেরগুরু সাফাতের এই বন্ধু নাঈম। সেও ঘটনার ভিডিও দৃশ্য ধারণ করে এবং তরুণীদের মদপানে বাধ্য করে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে। এ কারণে তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। তার দেওয়া তথ্যে ভিডিওর সন্ধান মিলতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত সেই রাতে হোটেল রেইন ট্রিতে ধারণকৃত দৃশ্য উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের যোগসাজশে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয় বলে অভিযোগ আছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে সাফাত আহমেদ নামে এক বন্ধুর জন্মদিনে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী। এ ঘটনায় পাঁচ আসামিকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুজন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ মে ২০১৭/মাকসুদ/মুশফিক

Walton Laptop
 
   
Walton AC