ঢাকা, শুক্রবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

জঙ্গলে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মুক্তিপণ, গ্রেপ্তার ১

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৪ ৬:০৩:২২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০১-২৪ ৬:০৩:২২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : গহীন জঙ্গলে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার রাতে মিরপুরের এফ ব্লকের ১ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাসা থেকে শফিকুল ইসলাম ওরফে শামছুল হক ওরফে বাবুল ওরফে মলম বাবু ওরফে ডাকাত লিতু (২৮) নামের অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইর ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শাহআলীর রাইনখোলায় রাহাত থাই অ্যালুমিনিয়াম অ্যান্ড গ্লাস হাউজের মালিক আরিফ খান শাহআলী থানায় অভিযোগ করেন যে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দুপুরে বাবুল (২৮) নামের এক ব্যক্তি তার দোকানে এসে জানায়, গাজীপুর চন্দ্রা মহিলা ক্যাডেট কলেজের পেছনের একটি বাড়িতে থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়ামের কাজ করা প্রয়োজন। তিন দিন পর ৮ ডিসেম্বর বাবুল তার দোকানে এসে থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়ামের দামাদামি করে যায়। তখন বাবুল ছুটি পেলে তাকে গ্রামের বাড়িতে বিল্ডিংয়ের কাজের মেজারমেন্ট করতে নিয়ে যাবে বলে জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৯ ডিসেম্বর বাবুল আবারও দোকানে এসে গ্লাসের কাজ করানোর কথা বলে তাকে ও তার মিস্ত্রি সোহাগ খলিফাকে (২৭) সাথে করে কয়েক দফায় যানবাহন পরিবর্তন করে জঙ্গলে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, ওখানে যাওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা বাবুলের সহযোগীরা আরিফ ও সোহাগকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে। সেখানে অপহরণকারীরা তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে। তাদের লোহার রড ও চাপাতির বাট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাথারি আঘাত করে। আরিফের সাথে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয় অপহরণকারীরা। পরে ভিকটিমদের মোবাইল ফোন দিয়ে তাদেরই স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মুক্তিপণের জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৮৫ হাজার ৯০০ টাকা আদায় করে।

বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, মুক্তিপণ পাওয়ার পর অপহরণকারীরা আরিফ ও সোহাগের হাত-পা ও চোখ বেঁধে জঙ্গলের পৃথক স্থানে ফেলে রেখে যায়। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় মোবাইলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা বাসায় ফেরেন। পরে ১৯ ডিসেম্বর আরিফ খান বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা (নম্বর-৭) দায়ের করেন। এ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুরের একটি বাসা থেকে এ চক্রের প্রধান শফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, শফিকুলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এ চক্রটি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে। মুক্তিপণ আদায় শেষে গহীন জঙ্গল অথবা পরিত্যক্ত ভবনে ভিকটিমদের ফেলে চলে যায়। চক্রটি কখনো বাসের সাধারণ যাত্রী সেজে গাড়িতে উঠে পথে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাস যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়। শফিকুলের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় খুন, ডাকাতি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ চক্রের আরো একাধিক সদস্যকে চিহ্নিত করা গেছে এবং তাদেরকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ জানুয়ারি ২০১৮/নূর/রফিক

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC