ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘ধর্ষণ মামলায় মেডিক্যাল এভিডেন্স সঠিক হতে হবে’

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১২ ৮:৩০:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-১৮ ৯:২৩:৫১ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্ষণ মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মেডিক্যাল তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল এভিডেন্স পাওয়া গেলে বিচার করা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে মেডিক্যাল এভিডেন্স তিন দিন, পাঁচ দিন এবং কখনো ১৫ দিন পরও আসে। দেখা যায় তখন সেখানে কোনো আলামত থাকছে না। সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এসব মামলায় কোর্টকে দোষারোপ করার আগে দেখতে হবে গলদটা কোথায়। ধর্ষণ মামলায় মেডিক্যাল এভিডেন্স যদি সঠিক এবং পরীক্ষিত হয়, তাহলে আসামির সাজা না হওয়ার সুযোগ নেই।

শনিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড শাখার মতবিনিময় সভার শেষ পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘উচ্চ আদালতে সরকারি আইনি সেবা : বিচার প্রার্থীগণের প্রত্যাশা ও জেল আপিল মামলা পরিচালনায় আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড শাখা ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

‘ধর্ষণ মামলায় ভিকটিমকেই প্রমাণ করতে হয়, তিনি ধর্ষিত হয়েছেন’ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ভিকটিমের নিজেকে প্রমাণ করতে হয় এ কথাটা ঠিক না।

তিনি বলেন, ধর্ষণ মামলা অনেক বড় মামলা। এ মামলা পরিচালনা ও প্রমাণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আদালতে হাজির করা। এ মামলায় ভিকটিম শুধু একজন সাক্ষী মাত্র। ভিকটিমের বক্তব্য নির্ভরযোগ্য হলে কলাবরেট (সহযোগী) লাগে না।

ধর্ষণ মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মেডিক্যাল তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল এভিডেন্স পাওয়া গেলে বিচার করা অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

জেল আপিল মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পৃথক একাধিক বেঞ্চ গঠন করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।

এছাড়া উচ্চ আদালতে আইনি সেবা উন্নয়নে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা জজদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, জেলখানার অভ্যন্তরে থাকা কারাবন্দিদের খোঁজ-খবর নিন। তাদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অবহিত হোন। অনিয়ম থাকলে কর্তৃপক্ষের নজরে আনুন। বিনাবিচারে আটক থাকলে তাদের আইনি সহায়তার উদ্যোগ নিন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি কারাগারের সঙ্গে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নিবিড় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে সভায় আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল গোলাম রব্বানী, ভারপ্রাপ্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল হাসান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ মে ২০১৮/মেহেদী/মুশফিক

Walton Laptop
 
     
Walton