ঢাকা, শনিবার, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

খালেদার নাইকো দুর্নীতির মামলায় চার্জ শুনানি ৪ ফেব্রুয়ারি

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২১ ৬:৪১:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-২১ ৬:৪১:০২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকো দুর্নীতির মামলায় পরবর্তী চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত।

প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সোমবার মামলাটিতে আরেক আসামির আংশিক চার্জ গঠনের শুনানির পর ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ তারিখ দিন ঠিক করেন।

পুরান ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষ আদালতের এজলাসে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত মামলার শুনানি হয়।

এর আগে দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমাও ছিলেন। খালেদা জিয়া আদালতকক্ষে প্রবেশের ৩ মিনিট পর বিচারক এজলাসে উঠলে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথমে আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজের অব্যাহতির আবেদনের শুনানিতে গত ৩ ও ১৩ জানুয়ারির ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু করেন। তিনি এদিন চার্জশিট দেখে দেখে পড়তে থাকেন। বেলা ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তিনি তা অব্যাহত রেখে পরবর্তী তারিখে বাকি অংশ শুনানি করবেন বলে আদালতকে জানান। আদালত তা মঞ্জুর করেন। মওদুদ আহমদ চার্জশিট পড়ার সময় তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অস্বীকার করেন। মওদুদ আহমদের পর আসামি প্রাক্তন সচিব শহীদুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আসাদুজ্জামান অব্যাহতির আবেদনের শুনানি করেন। তিনি বেলা ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত শুনানির পর বাকি অংশ পরবর্তী ধার্যকৃত তারিখে করবেন বলে জানান। শুনানিতে আসামি কর্তৃক কৃতকর্ম গুডফেইথে করেছেন মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি পরবর্তী ধার্য তারিখে একই অভিযোগের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল করার বিষয়ে শুনানি করবেন বলেও জানান।

শুনানিকালে খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারেই বসে ছিলেন। তিনি এদিন কোনো কথা বলেননি। তবে একাধিক আইনজীবীকে তার সঙ্গে মামলার শুনানি চলাকালীন কথা বলতে দেখা যায়।

এদিন তার আইনজীবীদের মধ্যে আব্দুর রেজ্জাক খান, এ জে মোহাম্মাদ আলী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিন, ইকবাল হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, জিয়া উদ্দিন জিয়া, হান্নান ভূইয়াসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ নিয়ে মামলাটিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পাঁচটি ধার্য তারিখ চার্জ গঠনের শুনানি হলো। তবে মামলাটিতে এখনো খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি হয়নি।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিতর্কিত ব্যবসায়ী তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম),  জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটির তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটের বৈধতা চ্যলেঞ্জ করে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০০৮ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ করে স্থাগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ জানুয়ারি ২০১৮/মামুন খান/রফিক

Walton Laptop