ঢাকা, শুক্রবার, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১৯ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘যুদ্ধের মতো অবস্থা শুরু হয়ে যায়’

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৩ ২:৫৮:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-২৩ ৬:২৪:৪৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টের মালিক সাদাত মেহেদী বলেছেন, হলি আর্টিজানে গোলাগুলির খবর শুনে আমি সেখানে চলে আসি। সেখানে যাওয়ার পর বিকট শব্দে বোমা ফোটে। আমি সেখানে থাকা অবস্থায় দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বোমার শব্দে বিল্ডিংগুলো কেঁপে ওঠে। তখন কে কী করবে ঠিক পাচ্ছিল না। যুদ্ধের মতো অবস্থা শুরু হয়ে যায়।

বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার সাক্ষ্যে এ কথা বলেন তিনি।

এদিন আরো তিন জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এরা হলেন-রেষ্টুরেন্টের মালিক সাদাত মেহেদীর স্ত্রী সামিরা আহম্মেদ, লেকভিউ ক্লিনিকের ক্যান্টিনের ম্যানেজার আব্দুল হাকিম ও হলি আর্টিজানের শেভ মো. আকাশ খান।

সাক্ষীদের মধ্যে সামিরা আহম্মেদ ও আকাশ খান ট্রাইব্যুনাল শুধু নাম ঠিকানা লেখার পর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের টেন্ডার ঘোষণা করেন।

সাদাত মেহেদী জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টের ম্যানেজার সেজাদ আমাকে ফোন দেয়। সে আমাকে জানায়, রেষ্টুরেন্টের ভেতর দুর্বৃত্তরা আল্লাহু আকবর বলে গোলাগুলি করছে। তখন আমি আরেকটি রেষ্টুরেন্ট ইজুগিতে ছিলাম। তখন আমি সাথে সাথে হলি আর্টিজানে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে পুলিশের গাড়ি দেখতে পাই।

তিনি বলেন, আমি সেখানে যাওয়ার পর বিকট শব্দে একটা বোমা ফোটে। এরপর আমার সামনে দিয়ে আহত দুইজনকে পুলিশ হাসাপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার গোলাগুলি শুরু হয়। আমি সেখানে থাকা অবস্থায় দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বোমার শব্দে বিল্ডিংগুলো কেঁপে ওঠে। তখন কে কী করবে ঠিক পাচ্ছিল না। যেন যুদ্ধের মতো অবস্থা শুরু হয়ে যায়।

সাদাত মেহেদী বলেন, সেখানে অবস্থানরত পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কাছে রেষ্টুরেন্টের ভেতরে কার কোথায় অবস্থান তা বর্ণনা করি। এরপর সকালে সেনাবাহিনীর অভিযানের কথা শুনতে পাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় আমার ৫ জন ক্লোজ ফ্রেন্ড মারা যায়। আর ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানি, তিন জন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু কথা জানান তিনি।

সাক্ষী আব্দুল হাকিম জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটা বিকট শব্দে বোমার আওয়াজ শুনতে পাই। বোমার আওয়াজ শুনে নিরাপত্তার দুই প্রহরী নূর আলম ও হোসেন মেইন গেট দিয়ে ভিতরে চলে আসে। এরপর সেখানের সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। এরপর আমি লেকভিউ ক্লিনিকের ভিতর একটা নিরাপদ জায়গায় চলে যায়।

এ নিয়ে মামলাটিতে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। মামলাটিতে গত ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আসামিরা হলেন-তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান সাগর, জানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ছয় জন কারাগারে আছেন। এদিন তাদের কারাগারে থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, মামলার পলাতক আসামি মামুনুর রশিদকে গত ১৯ জানুয়ারি রাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে একটি বাস থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাকে রাজধানীর সবুজবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছে। এখানো পর্যন্ত তাকে হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

মামলাটিতে গত ৮ আগস্ট আট আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করে আদালত। চার্জশিটে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করেন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ জানুয়ারি ২০১৯/মামুন খান/সাইফ

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge