ঢাকা, বুধবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মাউথওয়াশ ব্যবহারের সম্ভাব্য বিপদ

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৩-২৩ ১০:১৬:৫৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৩-২৪ ৬:০৮:৪৫ পিএম
প্রতীকী ছবি
Walton AC 10% Discount

এস এম গল্প ইকবাল  : মুখের যত্ন নেওয়া কেবলমাত্র উজ্জ্বল দাঁত নয়, আপনার সমগ্র স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় মাড়ির রোগের সঙ্গে আলঝেইমার’স রোগ ও হৃদরোগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু আপনার মুখের স্বাস্থ্যবিধির জন্য মাউথওয়াশ সহায়ক নাও হতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মাউথওয়াশের ব্যবহার ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।

কেন? আমাদের অন্ত্রের মতো আমাদের মুখেও ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সমন্বয় রয়েছে এবং ভারসাম্যপূর্ণ মুখের অণুজীব অসুস্থতাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। ফ্রন্টিয়ার্স ইন সেলুলার অ্যান্ড ইনফেকশন মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত নতুন গবেষণা বলা হয়েছে, আপনার মাউথওয়াশ ব্যবহারে অণুজীবের এই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। মুখের ভালো ব্যাকটেরিয়া খাবারের নাইট্রেটকে (যা শাকসবজিতে পাওয়া যায়) নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তর করে। এই যৌগ রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে।

সমস্যা? মাউথওয়াশে ক্লোরহেক্সিডিন নামক একটি অণুজীববিরোধী যৌগ থাকে, যা মুখের ভেতর নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে। এ গবেষণাটি ২৬ জন লোকের ওপর চালানো হয়, যারা প্রতিদিন দুবার করে এক সপ্তাহ ধরে ক্লোরহেক্সিডিন সমৃদ্ধ মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন- দেখা গেল যে তাদের সিস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছিল। সিস্টোলিক রক্তচাপ হলো রক্তচাপ রিডিংয়ের উপরের সংখ্যা, যা আপনার হার্টবিটের সময় রক্তনালিতে চাপ পরিমাপ করে।

আমরা জানি যে, শরীরের সর্বত্র পর্যাপ্ত নাইট্রিক অক্সাইড সরবরাহ না হলে একজন লোক ভালো থাকতে পারে না, বলেন গবেষণার প্রধান লেখক এবং টেক্সাসের হাউস্টনে অবস্থিত বেলর কলেজ অব মেডিসিনের খন্ডকালীন সহকারী অধ্যাপক নাথান ব্রায়ান। তিনি যোগ করেন, ‘কিন্তু অনেকেই প্রতিদিন অ্যান্টিসেপ্টিক (অণুজীববিরোধী) মাউথওয়াশ ব্যবহার করে সেসব ভালো ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করেন যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে অবদান রাখে। এতদিন ধরে আপনি যে অভ্যাসটিকে ভালো মনে করেছেন তা উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কিছু লোক ওষুধ সেবন সত্ত্বেও হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন না। ধারণা করা হচ্ছে যে, তাদের মাউথওয়াশ ব্যবহারের কারণে এমনটা হয়।’

ভালো খবর আছে? হ্যাঁ আছে! বিজ্ঞানীরা গবেষণাটিতে পেয়েছেন যে, ক্লোরহেক্সিডিন সমৃদ্ধ মাউথওয়াশের ব্যবহার বন্ধ করার পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের জিহ্বায় ভালো ব্যাকটেরিয়া ফিরে এসেছিল। এ গবেষণায় আস্থা থাকলে আপনার মাউথওয়াশটিকে এখনই ডাস্টবিনে ফেলে দিতে পারেন।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : প্রতিদিন এ অভ্যাসেও শুক্রাণুর ক্ষমতা কমতে পারে!
* মুখের থ্রাশ থেকে মুক্তির উপায়
* দাঁতের ক্যাভিটি অবহেলার বিপজ্জনক পরিণতি



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ মার্চ ২০১৯/ফিরোজ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge