ঢাকা, রবিবার, ৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মুড়ি ভেজেই জীবিকা চলে তাদের

শাহরিয়ার সিফাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০২ ১:৪৬:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-০২ ৪:২০:১২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল: কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৫ গ্রামের ৬ শতাধিক পরিবার মুড়ি ভেজেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন।

গ্রামগুলো হচ্ছে : নারান্দিয়া, মাইস্তা, নগরবাড়ী, দৌলতপুর ও লুহুরিয়া। রোজার মাস এলেই এসব গ্রামে উৎসব আমেজ দেখা যায়। কারণ, রোজার সময় মুড়ির উৎপাদন এবং বিক্রি বেড়ে যায় বহু গুণে। তাই পবিত্র রমজানের পুরো মাসটি জুড়ে এসব গ্রামের গৃহিনীদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। আবার এ মাসটিতে এসব পরিবার মুড়িকে ঘিরে বাড়তি উপার্জনেরও পথ খুঁজে পান।

মুড়ির আসল স্বাদ পেতে কালিহাতী উপজেলার এসব মুড়ি গ্রামের হাতে ভাজা মুড়ি তুলনাহীন। সাধারণত এখানকার মুড়ির চাহিদা সারা বছরই থাকে। তবে ব্যস্ততার পাশাপাশি তাদের মাঝে দেখা গেছে হতাশাও। পুঁজি সংকট এবং দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে মেশিনে ভাজা মুড়ির সঙ্গে তারা কুলিয়ে উঠতে হিমসিম খাচ্ছেন।

এ গ্রাম গুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৩শ’ মণ মুড়ি ভাজা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকেই গৃহিনীরা এই মুড়ি ভাজার কাজ শুরু করেন। অনেকে চালুন দিয়ে চালিয়ে মুড়ি থেকে বালু ছাড়াচ্ছেন, কেউ বস্তা ভরছেন। ব্যবসায়ীরা নারান্দিয়ার মুড়ি পিকআপ-ভ্যান যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

দৌলতপুর গ্রামের লক্ষী রাণী মোদক বলেন, ‘হাতে মুড়ি ভাজা খুব কষ্ট, প্রতিদিন রাত ৩ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত মুড়ি ভাজি। মেশিনের মুড়ি বাজারে আইলেও আমাগো হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ ও চাহিদা এহনো আছে।’

একই গ্রামের জীতেন মোদক বলেন, ‘বংশানুক্রমে এই মুড়ি ভাজার পেশায় আমরা। এই হাতে ভাজা মুড়ি বিক্রি করেই আমার সংসার ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলে।’

মুড়ি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুড়ি কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করি। হাতে ভাজা মুড়িতে কোন রকম ভেজাল নেই। এই মুড়িতে শুধু লবণ-পানি ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হয় না। তাই হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক বেশি।’

হাতে মুড়ি ভাজার কারিগররা অনেকেই দাবি জানিয়ে বললেন, ‘সরকার আমাগো দিকে একটু সু-নজর দিলে এ ব্যবসা আরো ভালভাবে করতে পারতাম।’




রাইজিংবিডি/টাঙ্গাইল/২ জুন ২০১৮/শাহরিয়ার সিফাত/টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC