ঢাকা, বুধবার, ৩ কার্তিক ১৪২৪, ১৮ অক্টোবর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

এডিপি বাস্তবায়ন হার খুবই আশাব্যঞ্জক

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-১৯ ৮:৩৬:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-২২ ১০:৩৬:২৩ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : এডিপি বাস্তবায়নের হার বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বর্তমানে বাস্তবায়নের হার ৯৩ শতাংশ। এ হার আমাদের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বাজেট নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনাকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু করবেন না যাতে দেশের জনগণের কোনো প্রকার সমস্যা হয়। এ সরকার যতদিন আছে ভাববার এমন কোনো কারণ নেই যে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উন্নয়নের একটি ধারা ক্রমাগতভাবে প্রবাহিত হচ্ছে, মানুষ ভাল থাকবে।

কর দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কর এমনভাবে নিতে হবে যাতে দেশের মানুষের ক্ষতি না হয়। উদাহরণ হিসেবে বলেন, রাজহাঁস থেকে পালক তুলতে হবে কিন্তু রাজহাঁস যেন ব্যথা না পায়।

মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে বলেন, মাথাপিছু আয় বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি এবং সন্তোষজনক। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ এবং পৃথিবীতে মাত্র ছয়টি দেশ এ সাতের ঘরের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে এবং বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি।

ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে মূল্যস্ফীতির হার প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ঘোষণাটি তিন মাস পর পর আসবে কিন্তু আমদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিমাসেই প্রতি মাসেরটি যাদের দরকার তারা নিতে পারবে। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, শুধু সঠিক তথ্যের জন্যই ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে প্রকাশ। এটি পাবলিক ডকুমেন্ট, সবাই ব্যবহার করতে পারবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সবসময়ই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বেসরকারি বিনিয়োগ সম্পর্কে সাংবদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ না হলে প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখা যাবে না। এ সরকারের আমলে কখনই বেসরকারি বিনিয়োগ নিম্নমুখী ছিল না বরং বিগত বছরগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সবসময় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বেসরকারি বিনিয়োগের হার বর্তমানে ৩০ দশমিক ২৭ ভাগ। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি বাড়ানো যায়। আমাদের শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কারিগরিনির্ভর ১২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মালয়েশিয়াতে ৩৭ ভাগ ম্যানেজারই বাংলাদেশি। এটি আমদের একটি সক্ষমতা।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের বর্তমান রিজার্ভ বাংলাদেশের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। একটি দেশের জন্য মোটামুটিভাবে তিন মাস চলতে পারার রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট যেখানে আমাদের রয়েছে ১০ মাসের। জিডিপির তুলনায় ঋণ গ্রহণের হার বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক কম। জিডিপির আকার ২৫০ বিলিয়ন ডলার।

বাজেট সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন বা বাজেটের আকার নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। কারণ আমাদের বাজেট আমাদের জিডিপির আনুপাতিক হারে ক্রমাগতভাবে যেভাবে বাড়ছে তা গত বাজেটগুলো এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় এ বাজেট বাস্তবায়ন কোনো ব্যাপার নয়। আর ছোটখাটো যে সমস্যাগুলো বর্তমানে আলোচিত হচ্ছে সেটি সমাধান হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো সিদ্ধান্তই নেবেন না যা দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

পঞ্চম এশিয়া টাইগার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পঞ্চম এশিয়া টাইগার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার। সিডিপি এ বিষয়ে যে আপত্তি করেছে সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কেননা আমাদের ক্রমাগত উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধি আমাদের সে জায়গাতে নিয়ে যাবে, এ আমাদের প্রত্যাশা এবং আমাদের সে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। দেশের সব শ্রেণির জনগণের অংশগ্রহণে দেশ সেখানে পৌঁছে যাবে।

দেশে কর্মহীন প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কর্মহীন প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। কেননা আমাদের যথেষ্ট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ কোটি মানুষের। সুতরাং আমরা কীভাবে এটাকে কর্মহীন প্রবৃদ্ধি বলি। তবে তথ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে বিধায় এ ধরনের কথা উঠেছে, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পারিবারিক সাহায্যকর্মীর খাতেই একটি বড় ধরনের তথ্যের ফারাক রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ জুন ২০১৭/হাসিবুল/মুশফিক

Walton
 
   
Marcel