ঢাকা, বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ঘুষখোর কর্মকর্তাদের সতর্ক করলেন দুদক চেয়ারম্যান

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৯ ৭:৫১:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০২ ৭:২৯:৪৩ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘুষখোর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

সোমবার রাতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিএমজেড) উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল দুদকের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে। এ সময় দুদকের চেয়ারম্যান এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের চার সদস্যের দলের নেতৃত্ব দেন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন- দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন। সাত সদস্যের বিএমজেড প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অ্যাঞ্জেলিকা স্টডার।

বৈঠকে ইকবাল মাহমুদ বলেন, জার্মান সরকার জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। কমিশনের কার্যক্রমে জিআইজেডের অংশীদারিত্ব কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সত্যিই ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমে কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে কমিশনের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০১৬ সালের শেষদিকে কমিশনের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের দায়বদ্ধতা, সাক্ষী ও আলামত উপস্থাপনসহ কতিপয় পদক্ষেপ গ্রহণের কারণেই কমিশনের প্রসিকিউশন অধিকতর কার্যকর হয়েছে। এ কারণেই কমিশনের মামলায় সাজার হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের মামলায় একসময় সাজার হার মাত্র ২০ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ২০১৬ সনে ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয় এবং ২০১৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সাজার হার প্রায় ৬৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যদিও কমিশন এতেও সন্তুষ্ট নয়। কমিশন চায় শতভাগ মামলায় সাজা।

তিনি বলেন, কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্তেও গুণগত পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুসন্ধান ও তদন্তে আইন ও বিধি অনুসারে টাইমলাইন অনুসরণের জন্য কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্কেচ ম্যাপ এবং ফৌজদারি দায়বদ্ধতা নির্ধারণের বিষয়েও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্তে গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষেই কমিশন এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের কারণে কমিশনের মামলার সংখ্যা কমে যেতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই মামলার গুণগত মানের সাথে আপোশ করবে না কমিশন।

তিনি জানান, ঘুষ নির্মূলে কমিশন বছরের শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। আজ পর্যন্ত ১৭টি ফাঁদ মামলা পরিচালনা করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঘুষ গ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি আরো জানান, ঘুষ গ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের জন্য কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের অফিস, বাসা, এমনকি হোটেলেও অভিযান চালিয়েছে। ঘুষ গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ন্যূনতম কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের  নিজেদের এবং পরিবারে মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অবশ্যই তাদেরকে ঘুষগ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

দুদক অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, হটলাইনের অভিযোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই কয়েকটি  ফাঁদ মামলা সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। দুর্নীতির খবর জানানোর জন্য কমিশনের অভিযোগকেন্দ্রের হটলাইন ১০৬ একটি প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন, জিআইজেডের এভি রুল অব ল প্রমিতা সেনগুপ্ত, জিআইজেডের আন্তর্জাতিক কনসাল্ট্যান্ট রিচার্ডস মাইলস, জেআরসিপি প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর কৃষ্ণা চন্দ, পার্টনারশিপ ম্যানেজার মো. আলী রেজা প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭/হাসান/রফিক

Walton