ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে’

সাইফুল আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০৭ ১১:১১:৫৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-১৭ ৫:২০:৫৭ পিএম

ডেস্ক রিপোর্ট : রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট এখন বিশ্ববাসীর মনোযোগের কেন্দ্র বাংলাদেশের পদক্ষেপের কারণেই।’

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফেরার পর শনিবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যেকোনো মানুষের দায়িত্ব। রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছিল। মিয়ানমার যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছিল, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের আশ্রয় দিতে হয়েছিল।

তাদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করার বিষয়ে সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রয়োজন এক বেলা খাব, আরেক বেলা তাদের ভাগ করে দেব।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এখন বিশ্বব্যাপী নানা আলোচনা চলছে। মিয়ানমার আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে এর সমাধান করতে পারব।

বাংলাদেশের মানুষ মানবতা দেখিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারও সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করিনি। তবে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পেরে দুর্নীতির কথা বলে যে অপমান করা হয়েছে, তার জবাব দিতে পেরেছি। বিশ্বব্যাংক আগে অপপ্রচার করেছে, কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখন তাঁদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের তদন্ত দলের প্রধান ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি বেরোচ্ছে।
 


তিনি বলেন, সত্যের জয় তাৎক্ষণিক হয় না। মিথ্যার জয় তাৎক্ষণিক। একপর্যায়ে গিয়ে সত্যের জয় হয়। আমাদের জয় হয়েছে। দুর্নীতির কথা বলে ওই সময় বিশ্বব্যাংকের তদন্তের নামে মানসিক অত্যাচার করেছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল দুর্নীতি হয়নি।

শরীরে অস্ত্রোপচার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গলব্লাডারে অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসক কয়েক সপ্তাহের জন্য সাবধান থাকতে বলেছেন। চলাফেরার ক্ষেত্রেও ছয় মাস সাবধানে থাকতে বলেছেন। সুস্থ হয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে ঢাকায় ফেরার পর বিমানবন্দরে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিপন্ন মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে অভিহিত করেন।

শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শনিবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দু্ই পাশে জমায়েত হতে থাকেন। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীরা আসেন। প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। গাড়িবহর রাস্তা অতিক্রমকালে সমবেত নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে, হাত নেড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। শেখ হাসিনাও হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভিবাদনের জবাব দেন।

মিয়ানমার থেকে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার নির্দশন প্রদর্শন করার পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতায় তাদের সুরক্ষার বিষয়টি তোলায় এবং এই সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করায় শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার সকালে সাড়ে ৯টার দিকে তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও লেখক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, ক্রীড়াবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক পৌঁছান শেখ হাসিনা। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতা করেন। সেখানে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যোগদান শেষে ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ভার্জিনিয়ায় যান। সেখানে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিবারের সঙ্গে এক সপ্তাহ কাটিয়ে লন্ডন হয়ে ২ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা হয়। এ কারণে তার  দেশে ফেরা বিলম্ব হয়।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ অক্টোবর ২০১৭/সাইফুল/এনএ

Walton
 
   
Marcel