ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

মিয়ানমারে ‘যুদ্ধাপরাধের মতো’ ঘটনা ঘটেছে

মুশফিকুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১১-১৯ ৬:৩৩:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২০ ৯:০৪:১৫ এএম

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল মনে করে, মিয়ানমারে ‘যুদ্ধাপরাধের মতো’ ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং মানবাধিকারের মৌলিক লঙ্ঘন।

যুক্তরাষ্ট্রের সফররত সিনেটররা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। সিনেটর জেফ ম্যার্কলির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’

ইহসানুল করিম বলেন, ‘প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মনে করেন এটা যুদ্ধপরাধের মতো ঘটনা। তারা এই ধরনের যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলের মতো ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’

মার্কিন সিনেটররা বলেন, এই অপরাধ ও জাতিগত নিধনের নিন্দা প্রত্যেক দেশের জানানো উচিত। এই সংকটের সমাধান ও উদ্বাস্তুদের তাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সোচ্চার হতে হবে।

তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদার সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। উদ্বাস্তুরা তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি খুবই সন্তুষ্ট।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর নিপীড়নের বর্ণনা দিয়ে জেফ ম্যার্কলি বলেন, তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে নির্যাতিতদের কাছ থেকে সরাসরি নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মম নিপীড়নের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্মরণ করে মানবিক কারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আমাদের নিকট প্রতিবেশী। আমরা চাই তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে।’ তিনি বলেন, ‘শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের পরিচয়পত্র দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের প্রচেষ্টায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই সমস্যায় ৬০ হাজারেরও বেশি নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং বাংলাদেশ তার নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।’

ইহসানুল করিম বলেন, ‘মার্কিন সিনেট প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেছে, এটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের স্বাক্ষর। তারা নারীর ক্ষমতায়নেরও প্রশংসা করেছেন। সিনেটররা জলবায়ু ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেন।’

মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন- সিনেটর রিচার্ড ডার্বিন, কংগ্রেসওম্যান বেটি ম্যাককলাম ও’জ্যান সাকোস্কি এবং কংগ্রেসম্যান ডেভিড এন সিসিলিন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার রাতে বাংলাদেশে এসে শনিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। তারা  বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার যাবে। সেখান থেকেও তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন।

প্রসঙ্গত, রাখাইনে নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আরো প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে।

বাংলাদেশ সরকার বরাবরই বলে আসছে, এ সমস্যার পেছনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই; সমস্যার উৎস ও কেন্দ্রবিন্দু মিয়ানমারে। আর এর সমাধানও সেখানে নিহিত। মানবিক কারণে বাংলাদেশ আপাতত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ নভেম্বর ২০১৭/মুশফিক/এনএ/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel