ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘এমন কোনো সমস্যায় পড়ি নাই যে আগাম নির্বাচন হবে’

নৃপেন রায় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৭ ৯:০২:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ৯:০২:১৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এমন কোনো দৈন্যদশায় বা সমস্যায় পড়ি নাই যে আগাম জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়া সফর উপলক্ষে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমা করে দিলেন, উনি কীসের ক্ষমা করলেন, সেটা হলো প্রশ্ন। এটা কি ২১ আগস্ট আমাকে যে হত্যার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল, গ্রেনেড মেরেছিল, আমি বেঁচে গিয়েছি, সে কথা বলছে? ক্ষমা করেছেন, না ক্ষমা চাচ্ছেন- সেটা স্পষ্ট না। তার কাছে কেন ক্ষমা চাইতে যাব? আর আমি এমন কী অপরাধ করেছি যে তার কাছে ক্ষমা চাইব। বরং তার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। কারণ, তিনি কিবরিয়া সাহেব, আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যার পর পার্লামেন্টে আমাদের আলোচনা পর্যন্ত করতে দেননি। এটা নিশ্চয়ই আপানাদের মনে থাকার কথা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরও আমাদেরকে সংসদে কথা বলতে দেননি। একটি কথাও বলতে দেননি। আর তার বিরুদ্ধে যে মামলা, আমাদের সরকার তো তার বিরুদ্ধে সেরকম কোনো মামলা দেয়নি। বরং আমার বিরুদ্ধে প্রায় ১ ডজনের মতো মামলা খালেদা জিয়া দিয়েছিলেন। শুধু আমি না, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখন ইংল্যান্ডের হাইকমিশনার ছিলেন, আমাদের সবাই কিন্তু খালেদা জিয়ার আমলের মামলার আসামি। সবার নামেই মামলা দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কারা? এরা প্রত্যেকে কিন্তু তার নিজের পছন্দের লোক। তারাই ছিলেন ক্ষমতায়। আর তাদের আমলে করা মামলা, সেই মামলা থেকে পলায়নপর মনোবৃত্তি। সেটা আপনারা নিজে দেখেছেন। কাজেই ক্ষমাটা ওনার জাতির কাছে চাওয়া উচিত। সেটাই হলো বড় কথা।

তিনি আরো বলেন, সৌদিতে যে বিশাল শপিংমল পাওয়া গেছে, এটা তো আমরা কিছু করিনি। বিদেশ থেকেই সংবাদটা এসেছে। তবে আমি আপনাদের একটা প্রশ্ন করি- আপনারা এখানে অনেকেই তো সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক অনেকেই আছেন, যারা বিভিন্ন চ্যানেলে আছেন, কই আপানাদেরকে তো এটা নিয়ে খুব একটা নিউজ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখলাম না, রহস্যটা কী? আপনারা কি ওখানে বিনা পয়সায় শপিং করার কোনো কার্ড পেয়েছেন? কেউ এই নিউজটাই দিতে পারলেন না। আমি যদি জিজ্ঞাসা করি, এই ধরনের নিউজ যদি আমার ব্যাপারে হতো বা আমার পরিবারের ব্যাপারে হতো, আপনারা তো হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। আমাদের অপরাধ কী? আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আর খালেদা জিয়া মাফ পায় কেন? যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছেন জিয়াউর রহমান। তারপর খালেদা জিয়া এসে মন্ত্রী বানিয়েছেন। জাতির জনকের খুনিদেরকে এমপি বানিয়েছেন। খুনিদেরকে মদদ দিয়েছেন। সেজন্যই কি তাদের সাত খুন মাফ? এই প্রশ্নটা যেহেতু আমার মনে এসেছে, আপনাদের সেই প্রশ্নটা করলাম। আমি কোনো পত্রিকাতেই দেখলাম না, এটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করতে, বিষয়টা কী?

তিনি আরো বলেন, দুইটা মাত্র চ্যানেল ও দুইটা মাত্র পত্রিকা নিউজ দিয়েছে। আর বাকি পত্রিকায় তো নিউজ ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখতে হয়। এটাই হলো বাস্তবতা। কেন এত দুর্বলতা, কীসের জন্য? এই যে টাকা পাচার, এটা তো বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে। এটা তো আমরা বের করিনি। একটা বেরিয়েছে আমেরিকা থেকে, আর একটা সিঙ্গাপুর থেকে। আমরা ফেরতও এনেছি। আপনাদের মনে রাখা উচিত, খালেদা জিয়া যখন সৌদিতে গেল তখন প্রায় দেড়শো স্যুটকেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই স্যুটকেসে কী আছে? সেটা আপনারা সবাই ভুলে গেলেন। আর এটাই আমার প্রশ্ন। বেশিরভাগ পত্রিকার পারমিশন কিন্তু আমিই দিয়েছি। আমার সরকারের আমলে হওয়া পত্রিকা। সেই পত্রিকাগুলোর এইটুকু সৎসাহস হলো না কেন এই নিউজগুলো দেওয়ার? বাংলাদেশে কোনো প্রাইভেট চ্যানেল ছিল না। কোনো সরকার সাহস করে নাই যে প্রাইভেট চ্যানেল দেবে। আমি দিয়ে দিয়েছি। ৪৬টি চ্যানেলের মধ্যে ২৩টি চ্যানেল তো চলছে। অথচ দুটি চ্যানেল কিছু নিউজ দিল, বাকিরা দিল না কেন? হতে পারে, এত সম্পদের মালিক যারা, তারা জানে, কীভাবে মুখ বন্ধ করতে হয়। সবার মুখে মনে হয় সেরকম কিছু রসগোল্লা ঢুকিয়ে দিয়েছে। যার জন্য সবাই মুখ বন্ধ করে আছে। তাহলে আপনাদের প্রশ্নের কী জবাব দেব বলেন?

তিনি আরো বলেন, এতটুকু সৎসাহস যদি না থাকে, তাহলে তো আপনাদের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। পার্লামেন্টারি সিস্টেম অব ডেমোক্রেসিতে যেকোনো সময় কিন্তু ইলেকশন হয়। তবে এমন কোন দৈন্যদশায় পড়ি নাই বা সমস্যায় পড়ি নাই যে এখনই ইলেকশন দিতে হবে। আর ডেভেলপমেন্টের যে কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি, কাজগুলো আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে চাই। কারণ, আমরা না থাকলে উন্নয়নের কাজের যে কি দশা হয়! ৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছি, এরপর সেগুলো কিন্তু সচল ছিল না। আর ২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত যে উন্নয়ন আমরা করেছি, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, এত অল্প সময়ের মধ্যে এভাবে একটা দেশে এতো অবকাঠামোগত বলেন, বিদ্যুৎ বলেন, সবকিছু, যেই দিকে আপনি তাকান প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে যত উন্নয়ন আমরা করে দিতে পেরেছি, এটা কিন্তু আর কেউ করতে পারে নাই। বিশ্বব্যাংকের যে অভিযোগ দুর্নীতির সেটাকে চ্যালেঞ্জ দেবার মতো সৎসাহসও আমাদের আছে। আমাদের বহু  জ্ঞানী-গুণী, অনেকেই তো কত কথাই বলেছে আমাদেরকে। দুর্নীতিবাজ বানাতে চেয়েছে। নানা কথা বলেছে। আন্তর্জাতিকভাবে অন্তত তিনজন সৎ নেতার মধ্যে তো একটা নাম এসেছে। এটাতে আপনাদের সম্মান আছে কি না, বেড়েছে কি না আমি জানি না। কিন্তু এই দিকে আমাদের অঞ্চলেই আবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন আরেকজন আছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে নেমে পড়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, শত ফুল ফুটতে দিন। অনেক প্রার্থী হোক। এটা তো ভালো কথা। এটা সবার রাজনৈতিক অধিকার। কেন সবাই প্রার্থী হতে পারবে না? হোক না। আমরা দেখব, এই যে শত ফুল ফুটবে, তার মধ্যে সবথেকে ভালো, সুন্দরটা বেছে নেব। সময় আসলেই আপনারা দেখতে পারবেন। কীভাবে বেছে নেব সেটা তো সময়ই বলে দেবে। আর নির্বাচনের হাওয়া বওয়া তো ভালো কথা। এতে গণতান্ত্রিক অনুশীলনটা বাংলাদেশে হচ্ছে। মানুষের মধ্যে যে চেতনাটা আছে, সেটা তো প্রমাণ করছে।

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার এমপিরা কে কীভাবে কাজ করছে, কার পজিশন কোথায় কেমন, জনগণের কাছে কার কত গ্রহণযোগ্যতা- নিশ্চয়ই তা আমাকে জানতে হবে। কিন্তু সেটা তো পাবলিকলি বলার না। আমি যদি কারো কোনো দুর্বলতা দেখি, শাসনের বাইরে আমি নিশ্চয়ই সতর্ক করি। একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই যে আমরা সার্বিকভাবে উন্নয়নটা করে যাচ্ছি, এই উন্নয়নটা কিন্তু সুষম উন্নয়ন। সমগ্র বাংলাদেশ এবং সকলেই এই সুফলটা ভোগ করছে। দেশের মানুষ যদি সত্যিই উন্নয়নটা চায় তাহলে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে তারা বেছে নেবে। আরো নতুন নতুন সিট আমরা পাব, এটাই আমি আশা করছি। আর যেখানে যেটা প্রয়োজন হবে পরিবর্তনের, অবশ্যই পরিবর্তন করব। মানুষের জীবনই তো পরিবর্তনশীল। সবসময় পরিবর্তন আসবে। সেটাও নির্ভর করবে। এখন তো বহু সময় বাকি, অন্তত এক বছর। মানে এক বছর পরে হয়ত ইলেকশন। তার তিন মাস আগে থেকে ইলেকশন প্রক্রিয়া শুরু। কাজেই যেখানে যেখানে এরকম কোনো দুর্বলতা দেখি বা কারো যদি কোনো রকম কিছু থাকে, পরিবর্তনটা হবে। এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা তো অস্বাভাবিক ব্যাপার না। যদি এই দেশের মানুষ উন্নয়ন তাদের জন্য চায় তাহলে তাদের আওয়ামী লীগ দরকার। এটা তারা দেখেছে। মানিলন্ডারিং কারা করে? এই অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারীরা তা করেছে। ঋণখেলাপী কালচার থেকে শুরু করে, এই প্র্যাকটিস তো আমাদের দেশে ছিল না। ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া তারাই তো করে গেছে, একটার পর একটা। এই ৩০ বছর মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে কখন, যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে।

এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের একটা আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে। ক্ষমতাটা আমাদের কাছে হচ্ছে জনতার সেবা করা। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণকে কিছু দেওয়া, দেশটাকে উন্নত করা। আমরা তো স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, খুনিদের নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে এটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চাই না। কিন্তু এটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র তারাই করতে চায়, যারা স্বাধীনতাবিরোধী খুনি, যুদ্ধাপরাধী তাদেরকে ক্ষমতায় বসায়। তারা কখনো চাইবে, বাংলাদেশ স্বাধীন হোক, বাংলাদেশ সুন্দরভাবে চলুক, বাংলাদেশ সফল হোক, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে সম্মান পাক? একসময় সারা বিশ্বে গেলে কি হতো? বাংলাদেশ শুনলে মনে করত, ভিক্ষা চাইতে এসেছে। এখন সমীহ করে চলে। আগে যেখানে ছিল ভিক্ষুক জাতি, এখন হচ্ছে উন্নয়নের রোল মডেল। এটাও তো সবাই উপলব্ধি করবেন না, করেনও না। আর পত্রিকা মানেই হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে না নাকি পত্রিকা চলেই না। পত্রিকা চলানোর ব্যবসাটাই মনে আছে, কিন্তু দেশের যে উন্নয়ন দেখেও দেখে না। এতে তো আমাদের কিছু করার নাই। আমি তো পত্রিকার পড়ে আর দেশ চালাই না। দেশ চালাই দেশকে ভালবেসে, দেশের মানুষকে ভালবেসে। বাবার কাছ থেকে শিখেছি, দেশের উন্নয়ন কীভাবে করতে হবে। সেই চিন্তা করেই চালাই। সেজন্যই সফলতা আসে দেশের। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মর্যাদাটা ধরে রাখবেন, নাকি ওই মানিলন্ডারিং, শপিং মলের মালিক অথবা খুন-খারাপি করা, বোমাবাজি, মানুষ খুন, আগুনে পুড়িয়ে মারা, এটা তো জনগণের উপর নির্ভর করে। এখানে আমার কোনো কিছু নাই। আমার একটাই কথা, আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছি, এই দেশটাকে উন্নত করব, সমৃদ্ধশালী করব, স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ব। সেটাই লক্ষ্য। ওই একটা লক্ষ্য নিয়েই চালাচ্ছি এবং চালাতে থাকব। আর জনগণের ইচ্ছা যাকে ভোট দেবে। কারণ, আমি নিজেই স্লোগান দিয়েছি- আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। আমরা সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি। ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই। কাজেই আফসোসও থাকবে না। কারণ, সুযোগ পেয়েছি, প্রমাণ করেছি, হ্যাঁ উন্নয়ন করা যেতে পারে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ ডিসেম্বর ২০১৭/নৃপেন/রফিক

Walton
 
   
Marcel