ঢাকা, রবিবার, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

১৮ লাখ ৫০ হাজার নাগরিক আয়কর দেন

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৮ ৬:০২:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০২-১৭ ১০:৩৮:৫১ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সংসদ থেকে : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বর্তমানে ১৮ লাখ ৫০ হাজার নাগরিক আয়কর দেন। একজন নাগরিকের বাৎসরিক আয় আড়াই লাখ টাকা হলে তাকে আয়কর দিতে হয়। এ বিবেচনায় কোনো কোটিপতির করনেটের বাইরে থাকার সুযোগ নেই। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন-৪৩ এর সংসদ সদস্য উম্মে রাজিয়া কাজলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৪টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজমের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করা হয় না। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় ঋণ দেওয়ার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কৃষি ঋণ, এসএমই ও ক্ষুদ্র ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সকল ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানান আবুল মাল আবদুল মুহিত।

নোয়াখালী-৩ আসনের মো. মামুনুর রশীদ কিরণের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে আমানত ক্রমাগত কমে যাচ্ছে, এই সত্যটি সঠিক নয়। বরং সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানতের গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৯৮ শতাংশ। এসব ব্যাংকে সংরক্ষিত আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা গত বছর এ সময়ে ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে ১৭ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।

সংরক্ষিত আসন-২৪ এর সংসদ সদস্য সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০১ টাকা। দেশের আয় বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা যেমন: বিদ্যুৎ, গ্যাসপ্রাপ্তিতেও বিলম্ব, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকরণে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা, নিষ্কণ্টক জমির অভাব, ঋণের উচ্চ সুদের হার ইত্যাদি বাধা অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের কার্যক্রম দ্রুততর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানে ৩০৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার মধ্যে কারিগরি প্রকল্প ১১১টি এবং বিনিয়োগ প্রকল্প ১৯৬টি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকার্স সিলেশন কমিটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১০ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট ৪ হাজার ৮৩৭ জনবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এসব পদ পূরণে সাধারণ নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বৈষম্যের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সংসদ সদস্য মো. আবদুল মুতিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই সত্যটি সঠিক নয়। বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারা সঠিক সময়ে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ঋণপ্রাপ্তির মাধ্যমে দেশীয় জাতীয় উৎপাদনে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রেখে চলেছে। গত বছরের জানুযারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শিল্পে সরকারি ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ৫৩২ কোটি এবং বেসরকারি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক মোট ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুণের (ঝালকাঠী-২) এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পাশাপাশি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ ও আমানত ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দায়-সম্পদ, ঋণ ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গাইডলাইন জারি করেছে এবং প্রতিনিয়ত নির্দেশনা মানছে কি না তা পরিদর্শন করা হয়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/আসাদ/রফিক

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC