ঢাকা, সোমবার, ১ শ্রাবণ ১৪২৫, ১৬ জুলাই ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বিমান দুর্ঘটনা : ‘নেপালের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অসঙ্গতিপূর্ণ’

নাসির উদ্দিন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২২ ১:৪৬:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৪-২৮ ৬:৩৯:৫৯ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও ইমরান আসিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নেপালের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনকে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও ইমরান আসিফ।

রোববার ঢাকায় একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিবেদনকে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

ইমরান আসিফ বলেন, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদনে অনেক বিষয় আসতে পারত, কিন্তু আসেনি। রিপোর্টে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১১ ফ্লাইটের উড়োজাহাজে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। পাইলট আবিদ সুলতান শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তার অবসাদগ্রস্ত থাকার বিষয়টি কিংবা তাকে জোর করে ফ্লাইটে পাঠানোর বিষয়টি অবান্তর।’

ইমরান আসিফ বলেন, ‘দুর্ঘটনার এক মাস পর নেপাল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি প্রাথমিক একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বিমানটি দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত হন বলে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত প্লেনযাত্রীদের কাছ থেকে যা জেনেছি, তাতে আমাদের ধারণা যে, প্রকৃতভাবেই দুই মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ কাজে নিয়োজিত হয়ে থাকলে হতাহতের সংখ্যা হয়তো কম হতো।’

তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটকে দেওয়া ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স (অবতরণের অনুমতি) বাতিল না করেই অন্য ফ্লাইটকে অবতরণ বা উড্ডয়ন করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়মের ব্যত্যয়। তাছাড়া, দুর্ঘটনার দুই মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে গেলে হতাহতের সংখ্যা কম হতো।’

তিনি আরো বলেন, দুর্ঘটনা পূর্ববর্তী সর্বশেষ রিপোর্টে ক্যাপ্টেন আবিদ ফ্লাইংয়ের জন্য ফিট ছিলেন। তার মেডিক্যাল রিপোর্ট ছিল ‘ক্লাস ওয়ান’। বাংলাদেশের পাইলটদের মধ্যে ১২ জন ডিসিপি পাইলট আছেন, তাদের মধ্যে আবিদ অন্যতম। ইউএস-বাংলার পাইলটের ফ্লাইং মনিটরিং করার জন্য এফডিএম ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এফডিএম পর্যালোচনার করে ক্যাপ্টেনের কোনো অসঙ্গতি থাকলে ব্রিফ করে। প্রয়োজনে ইন্সট্রাক্টরের মাধ্যমে আরো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তবে আবিদের ক্ষেত্রে এটির প্রয়োজন হয়নি।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একজন পাইলট দৈনিক ১৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে পারেন। রুল অনুযায়ী তিনি ১১ ঘণ্টা ফ্লাই করতে পারেন। দুর্ঘটনার দিন যদি আবিদ ফ্লাইট নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসতেন তাহলে তার ফ্লাইং আওয়ার ৭ ঘণ্টার কম হতো। তার ক্যারিয়ারের মোট ফ্লাইং আওয়ার প্রায় ৬ হাজার ঘণ্টা।

নেপাল ও বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত প্লেনটিতে কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটি ছিল না। ইউএস-বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদনেও কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল না বলে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তার অবসাদগ্রস্ত হওয়া কিংবা জোর করে পাঠানোর বিষয়টি অবান্তর।







রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ এপ্রিল ২০১৮/নাসির/সাইফ/শাহনেওয়াজ/রফিক

Walton Laptop
 
     
Walton