Breaking News
ওসি মোয়াজ্জেম শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার
X
ঢাকা, রবিবার, ২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব

তানজিনা আফরিন ইভা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৫ ৮:৫০:০৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০৪ ১০:২১:৫৯ পিএম
Walton AC 10% Discount

রাইজিংবিডি ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকট চিরতরে সমাধানের লক্ষ্যে বৈষম্যমূলক আইনের বিলোপ, নীতিমালা এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধসহ তিন দফা সুপারিশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে প্রস্তাবগুলো দেন তিনি।

তিন দফা সুপারিশ উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাসস্থান, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক তাদের ঘর-বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। অথচ তারা সেখানে কয়েকশ বছর ধরে বসবাস করে আসছে।

প্রথম সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ, এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ ও তাদের সে দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

দ্বিতীয় সুপারিশে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে সকল রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব প্রদানের সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় মিয়ানমারের ভেতরে ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয় সুপারিশে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য রোধে অপরাধীদের জবাবদিহিতা, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালার আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট অন দ্য গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন রিফিউজি: এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড করপোরেশন’এ তিনি এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের জন্য ৬ হাজার একরের বেশি জমি বরাদ্দ দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক ও অন্যান্য সম্পদ, সমাজ, পরিবেশ ও অর্থনীতি আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো সাহায্য দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার সরকারই তৈরি করেছে এবং মিয়ানমারকে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছি। এটা করে আমরা শুধু তাদের জীবন রক্ষা করিনি বরং আমরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত করে পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত নেওয়া দেখতে চায়।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা ভাষানচর নামক একটি দ্বীপের ব্যাপক উন্নয়ন করে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করব, যাতে তারা ওই দ্বীপে উন্নত জীবনযাপন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কম্প্যাক্ট অন রিফিউজি’ এমন সময় গ্রহণ করা হলো যখন সারা বিশ্ব মারাত্মক শরণার্থী সংকট মোকাবেলা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব দেশ শরণার্থীদের বোঝা কাঁধে নেয় বিশ্বের উচিত তাদের এ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া।

তথ্যসূত্র : বাসস



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ইভা

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge