ঢাকা, সোমবার, ৩ পৌষ ১৪২৫, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘সাঝের মায়া’র কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শাহ মতিন টিপু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-২০ ১০:২৯:১৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-২০ ১২:৩০:৩৩ পিএম

রাইজিংবিডি ডেস্ক : ‘সাঝের মায়া’র কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি কেবল কবিই ছিলেন না, তিনি নারী আন্দোলনেরও পথিকৃৎ। সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা।

দেশের সর্বজন গ্রহণযোগ্য এই মহীয়সী নারী আপন প্রতিভার গুণেই স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসাবেও তিনি বিবেচিত।

সেসময় বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা করেন।

তিনি ‘সাঁঝের মায়া’ ছাড়াও ‘মায়া কাজল’, ‘মন ও জীবন’, ‘দিওয়ান’, ‘অভিযাত্রিক’ ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থ উপহার দিয়ে গেছেন। এ ছাড়াও তিনি ‘কেয়ার কাটা’ নামে গল্পগ্রন্থ সহ ভ্রমণ কাহিনী, স্মৃতি কথা, শিশুতোষ এবং আত্মজীবনীমূলক রচনাও লিখেছেন।

বেগম সুফিয়া কামালের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।’

তিনি বলেন, ‘কবি সুফিয়া কামাল নিজ উদ্যোগে শুধু নিজেকে শিক্ষিত করেননি, পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ারও আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’ নারী অধিকার আদায়ের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।’

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুফিয়া কামাল ছিলেন একদিকে আবহমান বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি, মমতাময়ী মা, অন্যদিকে বাংলার প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তাঁর আপসহীন এবং দৃপ্ত পদচারণা।’

বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার চিন্তাধারা কবি সুফিয়া কামালের জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পচাঁত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তাঁর সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।’

বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আজ কবি বেগম সুফিয়া কামালের মুত্যুবার্ষিকী পালন করছে।

১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর সুফিয়া কামাল মৃত্যুবরণ করেন। তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যদায় সমাহিত করা হয় । বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান লাভ করেন। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ নভেম্বর ২০১৮/শাহ মতিন টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC